চোর ধরতে ফেসবুকের শরণাপন্ন হলেন অসম্ভব-সম্ভব-পটিয়সী অনন্ত জলিল

৭৭৮ পঠিত ... ১৯:১৯, এপ্রিল ১০, ২০১৯

চিত্রনায়ক এবং এজেআই গ্রুপের মালিক অনন্ত জলিলের ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে মাইক্রোবাস চালক উধাও। গত ৭ এপ্রিল (রবিবার) এজেআই গ্রুপের ম্যানেজার মাইক্রোবাসে করে ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে সোনালী ব্যাংকের শাখায় আসেন। দুই লাখ টাকা জমা দিতে তিনি ব্যাংকে ঢুকলে বাকি ৫৫ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসসহ চালক পালিয়ে যান। এ নিয়ে সাভার থানায়  মামলা করেছেন অনন্ত জলিল। খবর: প্রথম আলো।

রবিবার বিকালের দিকে অনন্ত জলিল এই ঘটনাটি বর্ণনা করে ফেসবুকে পোস্ট করলে আলোচনায় চলে আসে ব্যাপারটি। তিনি দুষ্কৃতিকারীকে ধরিয়ে দিতে ফেসবুকে সকলের সাহায্য চান এবং পুরস্কারের ঘোষণাও করেন। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, দীর্ঘদিন ধরে সব অসম্ভবকে সম্ভব করে আসা ‘মুশকিল আসান বাবা’খ্যাত অনন্ত জলিল তার নিজের অর্ধ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পারছেন না কেন? তবে কি ক্রিপ্টোনাইটের মতো কিছুর আছর পড়েছে তার উপর?

সিনেমায় অভিনয় করে তুমুল আলোচিত এই নায়ক তার ব্যবসাজীবনেও সফল। অসংখ্যবার তিনি নিজের সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পরট্যান্ট পার্সন) পরিচয় দিয়েছেন। ব্যবসা এবং অভিনয়ের বাইরেও তিনি একজন অন-স্ক্রিন অসম্ভব-সম্ভব-পটিয়সী। ২০১২ সালে তাকে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ সিনেমায় দেখা গেছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দুর্দশা দূর করতে। মোস্ট ওয়েলকামের শুরুর দিকের একটি দৃশ্যেই ভিলেনদের তাড়া করছিলেন তিনি মোটরবাইকে করে। আর তাদের ছুঁড়ে দেওয়া বিচিত্র সব বিধ্বংসী গুলিকে একেবারে ম্যাট্রিক্স কায়দায় পাশ কাটিয়ে শেষে উদ্ধার করেন দুই লাখ ডলার। এছাড়াও অনন্ত জলিলকে ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ সিনেমায় দর্শকেরা দেখেছে এক সুপারকপের ভূমিকায়। এর বাইরেও অনন্ত জলিলের ট্রেডমার্ক ‘মুভ’ হৃদপিণ্ড বুক থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসার ব্যাপারটি কেউই কখনো ভুলতে পারবে না।

যার কাছে সামান্য একটা চিঠি লিখে সমস্যার কথা জানালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত সেই 'সুপারহিরো' অনন্ত জলিল আজ কিনা চাইছেন জনগণের সাহায্য? তবে কি তিনি সমবায় পন্থায় কাজ করতে চাচ্ছেন? ধার্মিক তো হয়েছেন সেই কবেই, এবার কি তিনি হয়ে গেলেন সমাজতান্ত্রিক? এ প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী এ ব্যাপারে eআরকিকে বলেন, ‘সকলকে নিয়ে কাজ করার মার্ক্সিস্ট পন্থাতেই হাঁটছেন জলিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতেই এমনটা করেছেন বলে আমি নিশ্চিত।’

আবার অনেকে বলছেন একেবারেই ভিন্ন কথা। সুপারম্যান যেমন ক্রিপ্টোনাইটের উপস্থিতিতে নিজের সব সুপারপাওয়ার হারিয়ে ফেলতেন, তেমনি অসময়ে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি অর্থাৎ বর্ষার আধিক্যের কারণেই সুপারপাওয়ার হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। আর তাই নিজে উদ্ধার করতে পারছেন না চুরি যাওয়া ৫৫ লাখ টাকা। 

তবে কিছু জলিলভক্ত অবশ্য তাকে এই চোর ধরার 'অসম্ভব' কাজ সম্ভব করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েও সাহায্য করছেন। একজন ভেবেছেন, নিশ্চয়ই অনন্তের সেই কর্মচারী পম গানা। অর্থাৎ গানা মানে ঘানা থেকে এসে সে টাকা নিয়ে আবার ঘরে মানে ঘানায় ফিরে গেছে। সুতরাং অনন্ত হেলিকপ্টার নিয়ে ঘানায় চলে গেলে হয়তো তার টাকা উদ্ধার করতে পারবেন। আরেকজনের ধারণা, চোর অনন্ত জলিলের টাকা চুরি করেন না, বরং অনন্ত জলিলের টাকাই ঠিক করে সে কার সাথে চলে যাবে। সুতরাং অনন্তের যাবতীয় টাকাপয়সাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারাই সঠিক তথ্য জানাতে পারবে।

৭৭৮ পঠিত ... ১৯:১৯, এপ্রিল ১০, ২০১৯

Top