ফেসবুকে তরুণের পোস্ট দেখে রাস্তায় কাজে নেমে পড়লো ওয়াসা

৮১৬৯ পঠিত ... ০৫:১৬, এপ্রিল ০৯, ২০১৯

সরকারি অফিসে আঠারো মাসে বছর হয় বলে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার ইতিহাসের কারণে এমন কথা রটেছে বলেই ধারণা করা হয়। কিন্তু এই অতীত ঐতিহ্য ভেঙে দ্রুত কাজে নেমে পড়ার রেকর্ড গড়লো ওয়াসা।

পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) নতুন লাইন বসাতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি যেন আমাদের নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণত দেখা যায়, বৃষ্টির মৌসুমে তারা অপেক্ষাকৃত নতুন রাস্তাগুলোতেই তাদের উন্নয়ন কাজ শুরু করে থাকে। গত ২৯ মার্চ আমরা দেখতে পাই, চট্টগ্রামের ফেসবুকার সাফায়াত হোসেন পিয়াস তার বাসার সামনের একটি নতুন রাস্তার (কোরবানিগঞ্জ, মিয়া সওদাগরের পুল, চট্টগ্রাম) ছবি পোস্ট করেন, ক্যাপশনে লেখেন- 'প্রিয় ওয়াসার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এসে পানির লাইন বসানোর কাজ শুরু করেন, একদম নতুন রাস্তা।'

 

ওয়াসার প্রতি সাফায়েত হোসেনের এই খোঁড়াখুঁড়ির আহ্বানের সঙ্গে গলা মেলান আরও অনেকে। ছবিটি (ক্যাপশনসহ) ফেসবুকে অনেকের প্রোফাইলের ঘুরতে ফিরতে দেখা যায়। অনেকে আবার ছবিটি শেয়ার করার সাথে ওয়াসার পেজ ট্যাগ করেও এই রাস্তার দিকে মনোযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান। অনেকে নিজেদের আশেপাশের এলাকার নতুন রাস্তার ছবি দিয়েও ওয়াসার প্রতি জানান একই রকম আবেদন। 

 

 

অনেকেই বলেন, ফেসবুকে কোনো দাবি চেয়ে আস্ফালন করে কখনো কোন লাভ হয় না। কিন্তু এবার সব নিয়ম ভেঙে ফেসবুকে জানানো সেই দাবি মেনে নিলো ওয়াসা। গত ৭ এপ্রিল পিয়াসের প্রোফাইল থেকে আমাদের কাছে আসে নতুন আপডেট। যে নিটোল রাস্তাটির ছবি সপ্তাহখানেক আগে পোস্ট করা হয়েছিল, সেই রাস্তা থেকে একটু দূরেই ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করে ফেলেছে ওয়াসা। শুধুমাত্র ফেসবুকের ডাকে সাড়া দিয়ে উন্নয়ন শুরু হওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।

এ ব্যাপারে ওয়াসার কাছে মতামত জানতে ছুটে যায় eআরকি জলে ভাসা পদ্ম দল। ওয়াসার একজন নাম না জানা কর্মকর্তা আমাদের বলেন, ‘আমরা ঐতিহ্যে বিশ্বাস করি। শহরের বুকে সব রাস্তাতে আমরা সবসময়ই সংস্কারের ছাপ ফেলে থাকি। ‘(খোঁড়াখুঁড়ি থেকে) বাদ যাবে না একটি রাস্তাও’ নীতি থেকে আমরা কখনোই বিচ্যুত হই না। কিন্তু সব বদলে যায় সেদিন ফেসবুকে ঐ নতুন রাস্তার ছবি দেখে। কচি তরুন এই রাস্তায় আমরা এখনো শাবল বসাইনি, তা নিয়ে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। তাও আবার এখন চলছে বৃষ্টির মৌসুম। তাই আমরা যথাসম্ভব দ্রুত চলে যাই সে রাস্তার কাছে। ইতোমধ্যে সেখানে আমরা শুরু রেছি আমাদের সংস্কার কার্যক্রম। আরো দুয়েক কিলোমিটার খুঁড়তে খুঁড়তে আমরা সেই তরুণের বাসার সামনে পৌঁছে যাবো। বাড়ির জানালা থেকেই তিনি দেখতে পাবেন এই সংস্কারের দৃশ্য। এ ছাড়া এই রাস্তা কেন আগে আমাদের নজরে এলো না, সেটির কারণ উদঘাটন করতে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি আমরা।’

এই নতুন রাস্তায় ওয়াসার আগমনের কথা জেনে সক্রিয় ফেসবুকারদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নতুন রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির ব্যাপারটি ছাপিয়ে সবার আলোচনায় চলে এসেছে তাদের এত দ্রুত তাদের কাজে নেমে পড়ার ব্যাপারটি। এমন কর্মনিষ্ঠার তুলনা হয় না, লোকেমুখে যেন ফিরছে এমনই সব কথা। বর্ষা মৌসুমের প্রারম্ভেই দেশের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা সবগুলো নতুন রাস্তা খুঁড়তে নেমে পড়বে ওয়াসার একনিষ্ঠ খোদকগণ, এমনটাই আশা করছেন খোঁড়াখুঁড়িকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেনে নেয়া সাধারণ মানুষেরা। 

৮১৬৯ পঠিত ... ০৫:১৬, এপ্রিল ০৯, ২০১৯

Top