বিশ্বের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী পাবলিক বাস চলছে ঢাকা শহরে

৬৫১৩ পঠিত ... ২০:১৫, এপ্রিল ০৬, ২০১৯

একেবারে অত্যাধুনিক না হলেও সামরিক শক্তিতে খুব একটা পিছিয়েও নেই বাংলাদেশ। প্রায়শই সেনা, নৌ বা বিমানবাহিনী খবরে আসে তাদের বহরে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, জাহাজ কিংবা জঙ্গি বিমান যোগ করে। বছর দুয়েক আগেই যেমন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল দুটি সাবমেরিন। সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি এবার বিধ্বংসী রূপে ঢাকার রাস্তায় নেমেছে এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বাস।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি বাসের ভিতরকার এই ছবিটি ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। ছবিতে বাসের পিছনের দিকে দুই সিটের সারির মাঝখানের জায়গাটিতে একটি বিশালকার গ্যাস সিলিন্ডার দেখা যাচ্ছে (যেখানে আমরা সচরাচর খুব বেশি হলে অতিরিক্ত কিংবা পরিত্যাক্ত টায়ার দেখে অভ্যস্ত!) দাহ্য পদার্থে পরিপূর্ণ এই সিলিন্ডারটি বেশ বড়সড় আক্রমণের উপযোগী বলে রায় দিয়েছেন সমর বিশারদরা। এই প্রসঙ্গে এক সমর বিশারদ eআরকিকে বলেন, ‘এতদিনে বিধ্বংসী যানবাহনের বেশ কিছু মডেল আমরা দেখেছি। লেগুনার সিটের নিচে সিলিন্ডার অর্থাৎ বিস্ফোরক দেখেছি। বাসের পিছনের সিটের নিচেও বিস্ফোরক দেখেছি। তবে এবারের মডেলটি একেবারেই স্বতন্ত্র।’

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাস মালিকেরাও। কেয়ামত পরিবহনের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘আমরা সবসময় স্বপ্ন দেখেছি এমন একটা বাসের। শুধু চাকা দিয়ে আর কতো? একটু আধটু অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ না হইলে কেমনে হয়? এমনিতেই সবার হলিউডি সিনেমা দেইখা অভ্যাস হয়ে গেছে। বাসচাপা নাকি বেশি সাদামাটা হয়ে গেছে। তাই এমন বাসই তো চাই!’ শুধু মালিকপক্ষই না, চালক-হেল্পার সকলেই আনন্দিত এই খবরে। ৭০ নাম্বার বাসের এক আনন্দিত হেল্পার বলেন ‘এতদিন বাঁয়ে প্লাস্টিক থাকলে বায়ে চাইপা ওয়ার্নিং দিতাম। এইবার বাঁয়ের প্লাস্টিক না সরলে মিসাইল মাইরা উড়ায়া দিব!’

ক্ষেপণাস্ত্র বাস নিয়ে কী ভাবছেন যাত্রীরা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রাস্তায় নেমেছিল eআরকি। মিরপুর-মতিঝিল রুটের এক নিয়মিত যাত্রী কিছুটা চিন্তিত স্বরে বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র বাস নিশ্চয়ই একটি চমৎকার খবর। কিন্তু সিলিন্ডারসদৃশ মিসাইলটি যদি বাসের বাইরে ঠিকমত যেতে না পারে সেক্ষেত্রে কী হবে, তাই নিয়েই আমার যতসব দুশ্চিন্তা।’

তবে দৈনন্দিন বাসযাত্রীদের প্রায় সকলেই অধীর আগ্রহে দেখার অপেক্ষায় আছেন, সামনের দিনে ঢাকার রাস্তায় বাসের পাল্লাপাল্লি খেলায় এই মারণাস্ত্র কীভাবে ব্যবহৃত হয়। হলিউডি একশান সিনেমার ফ্যান এমনই এক বাসযাত্রী বললেন, ‘ঢাকার রাস্তায় সামনের দিনগুলোতে চমৎকার অ্যাকশন সিনেমার কিছু দৃশ্য লাইভ দেখা যাবে, এমনটাই আমার বিশ্বাস। এমনকি বিদেশি শক্তির সাথে যদি কখনো যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়, তাহলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বাসই হতে পারে, আমাদের প্রধান হাতিয়ার।

৬৫১৩ পঠিত ... ২০:১৫, এপ্রিল ০৬, ২০১৯

Top