বাংলাদেশে এসে ঢাবিতে পড়তে চান অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরকে ডিম মেরে আলোচিত 'এগবয়'

৫৫৬৯ পঠিত ... ২০:০১, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

১ এপ্রিল (সোমবার) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম হল) ছাত্র সংসদের ভিপি ফরিদ হাসানকে মারধোর করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর ফরিদের ডান কপাল থেকে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এসএম হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ফরিদকে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে৷ এই নৃশংসতার বিচার চেয়ে ২ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ডাকসুর ভিপি নুরুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যান। সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয় প্রতিবাদকারীদের। মারধোরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। খবর: প্রথম আলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো 'দুর্বৃত্ত'দের এই ডিম হামলার কয়েকটি চিত্র

বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এই খবরের ঢেউ গিয়ে পড়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও। সম্প্রতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ‘এগবয়’ বা ‘ডিমবালক’খ্যাত উইল কনোলি বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অনলাইনে ডিম নিক্ষেপের খবরটি পড়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক অবিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম।

ডিমবালকের এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে eআরকির আন্তর্জাতিক ক্রাইম সেল যোগাযোগ করে উইল কনোলির সাথে। বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে জানতে পেরে যারপরনাই আনন্দিত উইল কনোলি বলেন, ‘ডিম আমাকে করেছে বিখ্যাত। এখন পৃথিবীর সব অঞ্চলের মানুষ আমাকে চেনে। আমি চাই এই চর্চা চালিয়ে যেতে। আর এই চর্চায় বাংলাদেশের বিকল্প কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না।’

কিন্তু বাংলাদেশে এসেই তিনি ডিম মারার সুযোগ পেয়ে যাবার ব্যাপারে এতটা আত্মবিশ্বাসী হলেন কী করে, এমন প্রশ্নের জবাবে এগবয় বলেন, ‘আমাদের এখানে ডিম মারা ব্যাপারটি মোটেই সুবিধাজনক না। সিনেটর অ্যানিং আজেবাজে রেসিস্ট কথা বলছিল, তাই তার মাথায় ডিম ফাটিয়েছি। এইজন্য বাকি দেশ কিছু বলে নাই। প্রশংসা করছে। কিন্তু বাংলাদেশে শুনছি ভালো কথা বললেও ডিম মারা যায়। এই সুযোগ হারাই কী করে?’

কিন্তু তিনি বাংলাদেশে এসে কী করতে চান, এই প্রশ্নের সরল উত্তর দেন, ‘ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হব। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে সহমত ভাইয়ের রাজনীতি করব। এইসব নিয়ে খোঁজ নিছি, এইগুলা সহজ। কিছুদিন গেস্টরুম করে মিছিলে গেলেই আমার হাতেও ভাইয়েরা ডিম তুলে দিবেন।’ কিন্তু হেলমেট, রড, হাতুড়ি থাকতে ডিমের ব্যাপারেই কেন আগ্রহী হয়েছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে খুবই চমকপ্রদ কথা বলেন এগবয়। তিনি বলেন ‘আমি নরম মনের মানুষ। কারো মাথা বা মন কোনটাই ভাঙতে পারি না। পারি শুধু ডিম ভাঙতে।’

অন্যদিকে এই খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ পলিটিকাল শিক্ষার্থীদের মাঝে বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা। ডিম নিক্ষেপকারী এক সহমত ভাই আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এগবয় আমাদের মাঝে আসছেন। এটি তো আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, কখন সে আমাদের সাথেই মেতে উঠবে ডিম নিক্ষেপের এই খেলায়।’ ডিমের জন্য কি তাহলে হেলমেট সংস্কৃতি উঠে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবির আরেক ডিম নিক্ষেপকারী নেতা বলেন, ‘আমাদের মাঝেও আছে কোমলমতি অনেক ছাত্র। অনেকেই ভয় পায় রক্ত। প্রতিপক্ষ ভেবেছিল, তাদের হাত হয়ত খালি থাকবে। কিন্তু না! আমরা বরং তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি ডিম। ডিম মারতে মারতে একসময় আরও বড় কিছু মারার প্র্যাকটিস হচ্ছে ওদের।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উইল কনোলি অপেক্ষা করছেন ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের। ফাঁসকৃত প্রশ্ন পেয়ে গেলেই তাকে আর কেউ আটকে রাখতে পারবে না বলে, একটি অনির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন অপেক্ষার অস্ট্রেলিয়ান এগবয় বাংলাদেশি কন্ডিশনে কেমন করতে পারেন।

৫৫৬৯ পঠিত ... ২০:০১, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

Top