নিজের ডাক নামকে কি বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়?

৫৬১৪ পঠিত ... ২১:২৬, এপ্রিল ০২, ২০১৯

অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় কিছুদিন আগে আলোচনায় এসেছেন একটি পুরনো আবেদনপত্রের সুবাদে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জয় প্রধানমন্ত্রী কাছে পূর্বাচলে শিল্পীদের জন্য বরাদ্দ প্লটের আবেদন করে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে জয় জানান, প্লটের জন্য আবেদনের সময় তিনি শুটিংয়ের কাজে দেশের বাইরে থাকায় আবেদন করতে পারেননি। সেই অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আশা করে এই আবেদন করেন। সেই চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজের জয়ের সাথে নামের মিল থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন। ছোট্ট ঐ আবেদনপত্রে ৫বার ‘মা’ সম্বোধন করেন তিনি। প্রচুর তৈলাক্ত এই চিঠিটির ছবি ফেসবুকে রীতিমত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

 

তার কিছুদিনের মাথাতেই জয় আবার আলোচনায় আসেন আরেকটি ইস্যুতে। ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন থেকে নাঈম নামের এক ছোট ছেলের ফায়ার ব্রিগেডের পানির পাইপের ছিদ্রে পলিথিন চেপে বসে থাকার ছবিটি ভাইরাল হতে থাকে সকল মাধ্যমে। আলোচনায় চলে আসে এই বাচ্চা ছেলেটি। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নাঈমের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক প্রবাসী পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা করেন। তারপর শাহরিয়ার নাজিম জয় নাঈমের একটি সাক্ষাৎকার নেন। সেই সাক্ষাৎকারে নাঈম বলে যে, সে পুরো টাকাটা এতিমখানায় দান করতে চায়, কারণ খালেদা জিয়া এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এত কমবয়সী এক বাচ্চার কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনে বিস্মিত সবাইকে আরও বিস্মিত করে দিতে তার পর দিন নাঈমের দেয়া আরেকটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে নাঈম জানায়, তাকে ঐ বক্তব্যটি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর জয় একটি লাইভ ভিডিওতে এসে জানান যে, তিনি নাইমকে কিছুই শিখিয়ে দেননি। নিজেকে হুমকির শিকার বলে দাবি করে জয় নিজের ‘জীবন ভিক্ষা’ চান প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে। এ সময়ও তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন করেন।

তার এই মা-মা বাড়ির আবদার দেখে জনমানবের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে, 'তাহলে কি ডাকনামকে খুব বেশিই সিরিয়াসলি নিচ্ছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়?

এ ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে eআরকির শোবিজ ইউনিট জয়ের সাথে যোগাযোগ করে। এই বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আপনারা আমার শো-তে আসেন৷ আমি আপনাদের প্রশ্ন করবো! আপনারা আমার মন্তব্য নিয়ে কী করবেন? তখন আপনারা বলবেন, 'আমরা আপনার মন্তব্যের স্মারক হিসেবে একটি খাম্বা নির্মাণ করবো। কারণ তারেক রহমান খাম্বা নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।'

এ সময় eআরকি প্রতিবেদকরা এই ধরনের শিখিয়ে দেয়া কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি রেগে যান৷ রেগে গিয়ে জেমস বন্ডের মত বলেন, 'আমাকে আপনারা চিনেন নাই। আমি জয়৷ সজ... সরি, শাহরিয়ার নাজিম জয়।'

এই মন্তব্য থেকে আমরা তার ভুল ধারণা সম্পর্কে নিশ্চিত হই।

এ বিষয়ে কী ভাবছেন সাধারণ জনতা? আবুল হোসেন নামে একজন বলেন, 'উনি বোধহয় ইন্টারনেটে প্রচলিত "আমার ছেলে জয়" বাক্যটাকে ভুল বুঝেছেন।'

আরেকজন বলেন, 'এ রকম যদি চলতে থাকে তাহলে কি ভবিষ্যতে আমাদের নতুন সাধারণ জ্ঞান পড়তে হবে যে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ না, শাহরিয়ার নাজিম জয় সাহেব? উনি কি নিজেকে মোবাইলেরও আবিস্কারক দাবি করবেন?'

সাইকিয়াট্রিস্টরা অবশ্য এটাকে সিরিয়াস রোগ হিসাবে মতামত দিয়েছেন। তারা বলেন, 'এটাকে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ডিজিজ বলে। যখন একটা মানুষ তার নামের কারণে নিজেকে অন্য মানুষ ভাবতে থাকেন, তখন তিনি এই রোগে ভোগেন।'

এই রোগকে তারা DPA বা 'ডেস্পারেট ফর পলিটিকাল এটেনশন' ডিজিজ বলেও আখ্যায়িত করেন। এ বিষয়ে চিকিৎসক একটি পরামর্শও দেন, 'ডাক নাম নয়, সফল হওয়ার জন্য নামডাকের উপরই নির্ভর করতে হবে।'

৫৬১৪ পঠিত ... ২১:২৬, এপ্রিল ০২, ২০১৯

Top