একটি মুমূর্ষু ফ্লাইওভারকে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করছে বাস ভাইটি

১০৭৩ পঠিত ... ১৬:৩২, মার্চ ৩০, ২০১৯

ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস ফ্লাইওভারের নীচে খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে৷ যে আটকা পড়াকে সোজা বাংলায় বলা হয় 'মাইনকা চিপা'। বাসটি সামনেও আগাতে পারছে না, পারছে না পিছিয়ে যেতেও। অনলাইনে সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল এই ছবিটি দেখে এরকম মনে হলেও বাস্তবতা একদমই আলাদা। আমাদের মাইনকার চিপা বিশেষজ্ঞদের এক্সক্লুসিভ গবেষণায় জানা গেছে, বাসটা ভুল করে ফ্লাইওভারের নীচে ঢুকে আটকা পড়েনি, বরং দয়ালু এই বাসটি ফ্লাইওভারটিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এই দেশে ভালো কাজের মূল্যায়ন নাই বিধায়, তাই বাসটিকে হতে হচ্ছে নিন্দার শিকার৷ এজন্যই কোনো এক বিখ্যাত ব্যক্তি বলে গেছিলেন, 'যে দেশে উপকারী বাসের কদর নেই, সেদেশে উপকারী দোতলা বাসও তৈরি হয় না।'

কিন্তু আসলেই কি ফ্লাইওভারটি ভেঙ্গে পড়ছিলো? এ বিষয়ে দোতলা বাসটির ড্রাইভার জানান, 'এই ঢাকা শহরে কিছুরই গ্যারান্টি নাই। কখন কোন জিনিস ভেঙে পড়ে কে জানে। তাই আমি এই ফ্লাইওভারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ আমার মনের মধ্যে কু ডাক ডেকে ওঠে। আমার সিক্সথ সেন্স বলে, ফ্লাইওভারটি ভেঙে পড়তেই পারে। আমি তাই দ্রুত ফ্লাইওভারকে বাঁচাতে নিজের শরীর আই মিন আমার দোতলা বাসের শরীর পেতে দেই।

'কিন্তু ফ্লাইওভারটি তো ভেঙে পড়ে নাই...' আমাদের প্রতিবেদক এতটুকু বলা মাত্র ড্রাইভারটি রেগে গিয়ে বলেন, 'অন্য বাসগুলান যে রাস্তায় মানুষ মারতেছে, তাদের তো কিছু বলেন না। আর আমি ফ্লাইওভারের নীচে আটকায়ে গেলেই দোষ।'

এ সময় আমরা তার কথার কোনো জবাব দিতে পারিনি।

মিম: সংগৃহীত

এই বাস এখন কিভাবে বের করা হবে, আদৌ বের করা যাবে কিনা, যাত্রীরা গন্তব্যে পৌছাবে কখন, এমন অনেক প্রশ্ন ভিড় করে আমাদের মনে। বাসের এক যাত্রীকে দেখা যায় ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করে মুভি দেখছেন। আমরা তার কাছে মতামত জানতে চাইলে তিনি সিনেমা পজ করে বিরক্ত গলায় বলেন, 'মাত্র দুইটা মুভি শেষ করলাম, আরেকটা চলতেছে। ঢাকা শহরে বাস করতে হলে এতো তাড়াহুড়া করলে চলে না। ভাগ্যে থাকলে একদিন না একদিন ঠিকই বাসায় পৌছাবো৷ এখন যান বিরক্ত কইরেন না। সিনেমা দেখতে দেন।'

ছবি: কালা কাউয়া

এ পর্যায়ে বাসের ড্রাইভার, হেল্পার ও বয়স্ক যাত্রীরা পাশের দোকানে চা সিগারেট খেতে খেতে নিজেদের মধ্যে বনানী ও গুলশানের অগ্নিকান্ড নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করছেন। তাদের কাছে বাস কিভাবে ও কখন চিপা থেকে বের করা হবে জানতে চাইলে তারা রাগ করে বলেন, 'দেশের এই অবস্থায় আপনি আছেন বাস নিয়ে, ছি!'

আমাদের প্রতিবেদক আর কিছু বলার সাহস না পেয়ে হেটে হেটেই বাসায় চলে আসায় বাসটির পরবর্তী আপডেট জানতে সক্ষম হননি।

১০৭৩ পঠিত ... ১৬:৩২, মার্চ ৩০, ২০১৯

Top