পুড়তে পুড়তে ২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকাই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি শহর

৩৩৭৩ পঠিত ... ২০:৫৭, মার্চ ২৮, ২০১৯

২০১৯ সালের এক চতুর্থাংশ শেষ হতে না হতেই রাজধানী ঢাকাতে ঘটে গিয়েছে দুইটি বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে এবং আজ ২৮ মার্চ বনানীর এক বহুতল ভবনে আগুনের মতো বিভিন্ন অগ্নিকান্ড প্রায়শই ঘটে ঢাকায়। এতে হতাহত সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকায় কেন এত আগুনের ছড়াছড়ি হওয়ার পরেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে এই উদাসীনতার নেপথ্যে কী আছে, জানতে সরেজমিনে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় eআরকি আগুনের গোলা বিশেষজ্ঞদের একটি দল।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই দলটি একজন কাল্পনিক নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার সুযোগ পায়। ঢাকায় এত এত আগুন লাগার ঘটনার পরেও কেন এখনো ফায়ার এস্কেপ, ফায়ার ড্রিল ইত্যাদির ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, জানতে চাইলে বের হয় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাল্পনিক এই বিশেষজ্ঞ আমাদের বলেন, ‘এই আগুন আসলে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ। আমরা জানি স্বর্ণকে যত আগুনে পোড়ানো হয়, তত বেশি তা খাঁটি হয়ে উঠে। আর আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র আমাদের জানিয়েছে, লোকে যেই সোনাকে এত খাঁটি বলে, তা আসলে ততটা খাঁটি নয়। বাংলাদেশের মাটি তার চেয়েও বেশি খাঁটি। কিন্তু আমরা হতে চাই খাঁটিতম। সেই লক্ষ্য নিয়েই ঢাকা পোড়ানোর কর্মসূচী আমরা হাতে নিয়েছি। আসা করছি ২০২৫ সাল নাগাদ আমরা খাঁটিতম শহরের ট্যাগ পেয়েই যাবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই আমরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যাল মজুদ রাখতে শুরু করেছি। এছাড়া এই পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই আমরা ফায়ার এক্সিটের ব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন ভবন অনুমোদন দিয়েছি। খাঁটি হতে হলে একটু রিস্ক তো নিতেই হবে। এছাড়াও বিভিন্ন বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা এই খাটিকরণ প্রকল্পেরই অংশ।’

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঢাকার নানান জায়গায় অগ্নিকাণ্ড ছাড়াও ফায়ার ওয়ার্ক্স ও ‘আগুন নিয়ে খেলা’র আয়োজন করা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। একই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘লক্ষ্য এখন পৃথিবীর খাঁটিতম শহর’ নামক একটি সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে। ফিতায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে আগুনের ফুলকি উড্ডয়ন করে সেমিনারটিকে প্রথমে খাঁটি করে নেয়া হবে। এরপর সেমিনারে পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি শহর হওয়ার আসন্ন বিরল গৌরব এবং দেশের ফুলে ফেঁপে ওঠা জিডিপি নিয়ে আলোচনা চলবে। ‘জ্বালো রে জ্বালো আগুন জ্বালো, পুড়ে খাঁটি শহর সবচেয়ে ভালো’ এটিই হতে যাচ্ছে গোটা প্রকল্পের মূল শ্লোগান।

৩৩৭৩ পঠিত ... ২০:৫৭, মার্চ ২৮, ২০১৯

Top