রাতারাতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি

৪৪৭৮ পঠিত ... ১৮:৫১, মার্চ ২৩, ২০১৯

সম্প্রতি একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকিত নামফলকের ছবি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে। অগণন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহরে আরও একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি দেখে আপ্লুত হয়ে পড়ে eআরকির বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক গবেষণা সেল। কিন্তু এই আবেগ স্থায়ী হওয়ার আগেই জানা যায় এক ভিন্ন খবর। এটি নতুন কোন বিশ্ববিদ্যালয় নয়। জানা যায়, রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (আইইউবি) হুট করে হয়ে পড়েছে নির্ভরশীল।

চমকপ্রদ এই তথ্য জানতে পেরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছুটে যায় eআরকি প্রতিনিধি দল। রাতের বেলা গিয়ে দেখা যায়, ‘ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ’-এর নাম জ্বলজ্বল করছে নামফলকে। একটি স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় কী করে রাতারাতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ল এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ফাহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘ইনডিপেনডেন্ট দেখেই আমি এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম। অথচ এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পড়েছে পরাধীন, নির্ভরশীল। কে এখন আমার দুই বছর ফিরিয়ে দিবে?’

কিন্তু কেন এই নির্ভরশীলতা? সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এই ছাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন ‘আমরা তো জানিই, স্বাধীনতা অর্জনের চাইতে রক্ষা করা অনেক কঠিন। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ভার্সিটি এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতার মাসে এই স্বাধীন দেশে এমন একটি ঘটনায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’ অন্য এক শিক্ষার্থী অবশ্য সন্দেহ করছেন একেবারেই ভিন্ন এক কথা। আতংকিত এই শিক্ষার্থী বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি নাইট শিফটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে? আমরা কি প্রতারিত হচ্ছি? এই প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।’ বেশ কয়েকটি অবিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, নাইট শিফটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানতে পেরে অনেক কোচিং সেন্টার এখন ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ভর্তি কোচিংও শুরু করেছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্নরকম এক তথ্য। দেখা গেছে, দিনের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ইনডিপেনডেন্ট থাকলেও কেবল রাত এলেই ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (ডিইউব) হয়ে যায়। এ নিয়ে এক দার্শনিকমনা শিক্ষার্থী বলেন,‘সূর্য ডুবলেই আমাদের ভার্সিটি ডুব হয়ে যায়। সূর্যের সাথে স্বাধীনতার যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক সেটিকেই নামে প্রতীয়মান করতে চেয়েছে ভার্সিটি অথরিটি। প্রযুক্তির এই বাড়-বাড়ন্ত যুগে প্রকৃতির সাথে এই ঐকতান নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য।’

৪৪৭৮ পঠিত ... ১৮:৫১, মার্চ ২৩, ২০১৯

Top