বাল্যবিবাহ বৈধ না হওয়ায় এতদিন বিয়ে করতে পারেননি জয়া আহসান

১১৮৭৪ পঠিত ... ০০:৪৬, মার্চ ১৭, ২০১৯

বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে জয়া আহসানের। একটি সাক্ষাৎকার সূত্রে এমন খবর দেশীয় মিডিয়ায় আসার পর থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সকলের মনে দানা বাঁধছে নানান প্রশ্ন। আঠারো বছরের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সেটা তো বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। জয়া আহসানের ফ্যামিলি কি তাহলে বাল্যবিবাহের পক্ষে? জয়া আহসানকে কি ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপ দেয়া হচ্ছে? এতসব প্রশ্নের ভীড়ে eআরকি খুঁজে বের করেছে এক দুর্দান্ত তথ্য। ফাইনালি আঠারো বছরে পা দিয়েছেন জয়া আহসান। সেজন্যই বাসা থেকে এই বিয়ের চাপ!

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে জয়া আহসানের আসল আইডি থেকে রিপ্লাই না পাওয়ায় আমরা তার কয়েক হাজার ফেক আইডির মধ্যে একটিতে নক করি। 'সত্যিই কি আপনার বয়স আঠারো হয়ে গেছে?' এমন প্রশ্নের জবাবে জয়া আহসান (ফেক আইডি) মুচকি হেসে বলেন, 'দেখুন, মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের ফেসবুক পাসওয়ার্ড কখনো জানতে চাওয়া ঠিক না।' 

তাহলে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে কেন বাসা থেকে, এই প্রশ্নের জবাব দেন জয়া আহসানের এক দূর সম্পর্কের খালু (ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা সূত্রে খালু) জানান, 'যত দিন যাচ্ছে মেয়ের বিয়ের বয়স ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। আর কিছুদিন গেলে জয়াকে ফের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করা লাগবে। তখন বিয়ে দিলে পুলিশ বাল্যবিবাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে। এখন কমতে কমতে বয়স আঠারোতে দাঁড়িয়েছে। এখনই জয়ার বিয়ে দেয়ার ঠিক সময়।' 

তবে জয়া আহসানের বয়স আঠারো চলছে এটা মেনে নিতে নারাজ দেশের আপামর জনতা। সর্বত্র এই বিয়ের বিরুদ্ধে চলছে নিন্দা ও সমালোচনা। আহমাদ ইশতিয়াক নামক এক চাকুরিজীবী কাম জয়া আহসানভক্ত রাগত স্বরে আমাদের প্রতিবেদককে জানান, 'জন্মের আগে থেকে দেখে আসছি জয়া আহসানের বয়স ১৬ বছর। এখন হুট করে আঠারো বললেই সেটা জাতি মেনে নেবে না। জয়া আহসানের পরিবার তার বিয়ে দেয়ার জন্য যে গভীর ষড়যন্ত্র এঁটেছে, বাংলার বিপ্লবী জনতা সেটা নস্যাৎ করে দেবে।'

জাতীয় জয়া লাভার বা জাজলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী বলেন, 'বিয়ের চাপ দিচ্ছে, বিয়ে তো আর হয়নি। এই ধরনের কিছু হলে আমরা দরকার পড়ে তো হাইকোর্টে যাবো। আমরণ অনশনে নামবো। ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। তবুও জয়া আহসানের বাল্যবিবাহ মেনে নেয়া হবে না কোনোভাবেই।' 

আবির আর তার বাবা দুইজনেরই ক্রাশ জয়া আহসান৷ তারা সুদূর পঞ্চগড় থেকে ঢাকা এসেছে এই বিয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে। আবির eআরকি প্রতিবেদকের সামনে বলেন, 'বুঝতে শেখার পর থেকেই জয়া আহসান আমার ক্রাশ। শুধু আমিই না, জয়ার উপর ক্রাশ খেয়েছে আমার বাবা, তার বাবা, তার বাবা...। বাসা থেকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে সেটা শোনার পর আর ঘরে থাকতে পারিনি। বিকালে গণভবনের সামনে যাবো। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা রাখবেন।' 

আবিরের বাবার মুখে ছিল অন্য কথা। তিনি বলেন, 'বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও একটা বাচ্চা মেয়েকে কোন সাহসে তার বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়? সরকারের উচিত এ বিষয়ে আরো কঠোর হওয়া। আজ ষোল বছরে জয়া আহসানের বিয়ে হয়ে গেলে দেশের অন্য বাবা মায়েরাও এভাবে বাল্যবিবাহ দিতে উৎসাহী হবে। সেটা সমাজে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। জয়া আমার ক্রাশ বলে বলছি না। কোনো মেয়েরই আঠারোর আগে বিয়ে দেয়া উচিত না।'

তাহলে কি আর দুই বছর পর জয়া আহসানের বিয়ে দেয়া যাবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, 'যে মেয়ের বয়স ত্রিশ বছর যাবৎ ষোল থাকে, তার আঠারো হতে আরো ত্রিশ বছর তো লাগবেই কমপক্ষে।' 

এ বিষয়ে স্বয়ং জয়া আহসানের কাছে তার কি মতামত জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি নিজে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে। এবং কথা দিচ্ছি যা কিছু হোক না কেন, কখনো আঠারো বছর বয়সী হবো না। সুতরাং আপনাদের টেনশনের কোনো কারণ নেই।' 

এই কথায় দেশের সর্বস্তরে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত কোনো খবর বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস যাই করুন, নিজ দায়িত্বে করবেন।]

১১৮৭৪ পঠিত ... ০০:৪৬, মার্চ ১৭, ২০১৯

Top