ঢাবি থেকে গণভবন, ২১০ টাকা? তবে কি নুরের প্রোমো কোড ছিল না?

৬৪০৮ পঠিত ... ০০:০০, মার্চ ১৭, ২০১৯

১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গণভবনে দেখা করতে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত ডাকসু নেতাদের নিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দুটি গাড়ি পাঠানো হয়। ওই গাড়িতে স্বতন্ত্র নেতারা গণভবন গেলেও উবার ডেকে নেন ভিপি নুর। 

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতাদের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো গাড়িতে না উঠে সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেনকে সঙ্গী করে একটি উবার কারে করে রওনা দেন সেখানে। এতে নুরের ভাড়া পড়ে ২১০ টাকা সূত্র: সারাবাংলা ডটনেট। 

আজকের এই সাক্ষাতটি বিভিন্ন কারণে তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো, সে কারণে দেশবাসী ও ফেসবুকবাসীদের আলোচনার অন্যতম বিষয়ও ছিলো এটি। তবে eআরকি বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। নিয়মিত উবার ব্যবহারকারীরা জানেন, দুপুর ২-৩ টায় উবারের অফ-পিক আওয়ার চলে বলে এ সময়ের ভাড়া পিক আওয়ারের মতো বেশি হয় না। সেক্ষেত্রে নুরুল হক ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে গণভবনে যেতে উবারের ভাড়া উঠেছে ২১০ টাকা। তবে কি তার উবারে কোন প্রোমো কোড আসেনি? 

এ ব্যাপারে ব্যাপক কৌতূহল নিয়ে অনুসন্ধানে মাঠে নেমে পড়ে eআরকি প্রোমোকোড বিশেষজ্ঞ দল। উবারে ‘earkikoren’ প্রোমো ব্যবহার করে তারা ছুটে যান উবার হেডকোয়ার্টারে। সেখানে আমাদের সাথে KUBER শাখার একজন কর্মকর্তা আমাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হন। তাকে নুরুল হকের এই ২১০ টাকা উবার ভাড়ার কথা বললে তিনি চমকে উঠে আমাদের বলেন, ‘এ তো হতে পারে না! প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে তিনি উবারে যাবেন এমন খবর আমরা জানতে পারার সাথে সাথেই তাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ‘votesomnia’ প্রোমো কোডটি। তিনি কি তা অ্যাপ্লাই করেননি?’ 

কেন প্রোমো কোডটি তিনি ব্যবহার করেননি, জানতে চেয়ে তার আসল ফেসবুক প্রোফাইলে নক করা হয়। তবে সেটি লকড থাকায় এবং ম্যাসেঞ্জারে আমাদের নকে সাড়া না দেয়ায় আমরা নুরুল হক নামের একটি ফেক প্রোফাইলে নক দেই। তিনি আমাদের ডাকে সাথে সাথে সাড়া দিয়ে বলেন, ‘আসলে আজ উবারের প্রোমো পেয়েও আমি তা ব্যবহার করিনি, কারণ তা প্রোমো না পাওয়া উবার ব্যবহারকারীদের জন্য অবিচার মনে হয়েছে। উবারের এই প্রোমো ব্যবস্থাকে কোটার মতো একটি অন্যায্য ব্যবস্থা বলে মনে করি। যতদিন পর্যন্ত এই প্রোমো কোড ব্যবস্থার সংস্কার না করা হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমি কোন প্রোমো ব্যবহার করবো না।’ 

এই কথার প্রতিক্রিয়ায় উবার কোম্পানি সামনে যেন এই প্রোমো নিয়ে অযথা কোন ঝামেলা না হয়, সে জন্য প্রোমো ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করার ঘোষণা দিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে আরেকটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গেছে, এই উবার ব্যবহার করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা ও খরচের বর্তমান চিত্র তুলে ধরার একটি প্রয়াস। উবার বা এ ধরনের রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে যেই খরচ হয়, তা সাধারণ ছাত্রসমাজের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে ঢাবি ক্যাম্পাসে মেট্রোরেল নির্মাণের পক্ষে অকাট্য যুক্তি। মেট্রোরেল হয়ে গেলে নুরুল হকের মতো সাধারণ ছাত্রদের এত টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসতে হবে না। এটি প্রমাণ করতেই তার এই উবার ভাড়ার কথাটি প্রকাশ পেয়েছে।

৬৪০৮ পঠিত ... ০০:০০, মার্চ ১৭, ২০১৯

Top