গ্যাসের দাম বাড়ায় এন্টাসিড আর সেকলোর বিক্রিতে ধস

৮৯৪ পঠিত ... ২০:১০, মার্চ ১৪, ২০১৯

গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানিগুলো সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস বিল বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। তারা এক চুলার জন্য গ্যাসের দাম মাসপ্রতি ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৮০০ থেক ১২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। যদিও এখনো কোন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি, তবে জনমনে এই নিয়ে দেখা গেছে তীব্র ক্ষোভ।

তবে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক ভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। গ্যাসের সাথে ওষুধের সম্পর্ক কোথায়, আর এ নিয়ে সমস্যা কীভাবে সৃষ্টি হলো তা জানতে eআরকি পামপট্টি বিশেষজ্ঞরা নেমে পড়েন অনুসন্ধানে।

জনৈক ফার্মাসিউটিকাল ব্যবসায়ীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে গেলে আমরা তাকে আবিষ্কার করি হতাশায় ডুবে থেকে ড্রাগস নিচ্ছেন (পিকআপ থেকে ওষুধ বুঝে নিচ্ছেন আরকি)। গ্যাসের কথা তুলতেই তিনি আমাদের বলেন, ‘এই গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা বলে আমাদের যে কী এক ক্ষতি করলো, বলে বুঝাতে পারবো না ভাই। আমাদের ব্যবসা দাঁড়ায় আছে প্যারাসিটামল আর গ্যাসের ওষুধের উপর। বাঙালিরা সবকিছুতে দুই বেলা তো প্যারাসিটামল চালায়ই, আর যদি একটু ঢেঁকুরও উঠে তাহলেও তারা অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল, ইনো খাওয়া শুরু করে দেয়। পেটে যেই গ্যাসের সমস্যার জন্য আমাদের কাছে সেকলো, ওমেপ ইত্যাদি কিনতে আসতো, আজ আর তাদের দেখা নেই।’

কিন্তু কেন পেটে গ্যাস হলে মানুষ আর ওষুধ কিনছেন না? তা জানতে চাইলে তিনি আমাদের কাছে খোলসা করে ঘটনাটি বলেন- ‘গ্যাসের যেইরকম চাহিদা বাড়ছে, এজন্য এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো উঠে পড়ে লেগেছে। মানুষও তো বোকা নয়। এত বছরের ভাজাপোড়া ও বেটাইমে খাবার খাওয়া জাতি হিসেবে তাদের নিজ দেহে গ্যাস উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা ভালমতোই জানে। দিনে রাতে কোন ওয়ার্নিং ছাড়াই গ্যাস তাদের পেটের মধে অটোম্যাটিকালি জমা হয়ে যায়। আর এখন এমন দুর্দিনে এই ফ্রি গ্যাস তারা ওষুধ খেয়ে কমাবে? তা আর হয় না মিয়া, তা আর হয় না। মানুষ এখন ইচ্ছা করে আজেবাজে খাবার খেয়ে তাদের পেটে গ্যাসের জন্ম দিচ্ছেন। আর এই নবজাতক গ্যাসকে তারা পরম যত্নে লালন করছে নিজের পাকস্থলীতে। যেন ঠিকমতো ফুলে ফেঁপে বাড়তে পারে, সে জন্য নিয়ম করে তারা মুলা-চানাচুর-শিঙাড়া খাচ্ছেন। এই দামি গ্যাস কি আর কেউ গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে এবরশন করাবে? এজন্যই আমাদের বেচাবিক্রি নেমে গেছে একদম নিচে।’

এই ফার্মেসির পাশেই ফুটপাতে দেখা যায় একটি ভাজাপোড়ার ভ্যানে ব্যাপক ভিড়। বিষয়টি আরেকটু ভালো করে জানতে সেখানে গেলে আমরা আবিষ্কার করি, এই ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে মুলার শিঙাড়া। আর এটি খেতে পাবলিকের ডিমান্ডও রয়েছে তুঙ্গে। শিঙাড়া ব্যবসায়ীকে এই অভিনব মুলার শিঙাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেটে গ্যাস উৎপাদনের জন্য মুলা আর শিঙাড়া ব্যাপকভাবে প্রচলিত। গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য 'নিজের পেটে নিজের গ্যাস' প্রকল্পের ব্যাপারে সিরিয়াসলি ভাবছে দেশবাসী। কীভাবে অল্প সময়ে বেশি গ্যাস পাওয়া যায়- এই ভাবনা থেকে আমি বানিয়ে ফেললাম এই মুলার শিঙাড়া। এর মধ্যে বোনাস হিসেবে থাকবে চানাচুর আর বাদামের টুকরা। বানানোর প্রথম দিনেই এটা একদম সুপার ডুপার হিট। মানুষ আমার শিঙাড়া খাওয়ার জন্য় দূর-দূরান্ত থেকে চলে আসছে। দাবি জানিয়েছে দেশের সকল প্রান্তে আমার মূলা শিঙাড়ার দোকানের শাখা খোলার।’

একজন কাস্টমারকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে সারাদিন বাইরে থাকি বলে নানা ভাজাপোড়া খেতাম, আর পেটে গ্যাস বাঁধাতাম। শেষ রক্ষা হতো ফার্মেসি থেকে গ্যাসের ওষুধ কিনেই। কিন্তু গ্যাস কোম্পানিগুলো যখন এই গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য হম্বিতম্বি শুরু করলো, তখন থেকে শুরু করলাম পেটে গ্যাস জমানো। সারাদিন এইসব শিঙাড়া চানাচুর জাতীয় ভাজাপোড়া খেয়ে পেটে গ্যাস ভর্তি করি, বাসায় গিয়ে রিলিজ করি। তবে এই গ্যাস দিয়ে রান্নাটা কীভাবে করবো এখনো বুঝে উঠতে না পারলেও, সে ব্যবস্থা শীঘ্রই হয়ে যাবে আশা করছি।’

৮৯৪ পঠিত ... ২০:১০, মার্চ ১৪, ২০১৯

Top