এবার ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবি জানালেন কিম জং উন

৩৫৯৬ পঠিত ... ১৪:৫৫, মার্চ ১২, ২০১৯

ডাকসুর ২৫টি পদের ২৩টিতেই জিতেছে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটের আগেই বস্তাভর্তি দাগানো ব্যালট পেপার পাওয়াসহ বিভিন্ন হলে নানান অনিয়মের অভিযোগে গতকাল দুপুরেই নির্বাচন বর্জন করেছে বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থী। ডাকসু নির্বাচন বাতিল এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বামজোট ও ছাত্রদল।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নুরুল হক ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করছে। ‘নুরুল জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত’ এমন অভিযোগ এনে শুধু ভিপি পদে পুনঃনির্বাচন চায় ছাত্রলীগ।

সবকটা শীর্ষস্থানীয় ছাত্রসংগঠনই ডাকসু নির্বাচন বাতিল, বর্জন কিংবা পুনঃনির্বাচনের দাবি জানানোর পর এবার একই দাবি জানালেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনও।

গত ১০ মার্চ উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০০% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন কিম জং উন। তবে এই নির্বাচনের বিশেষত্ব ছিল, এতে ভোটাররা আসলে প্রার্থী পছন্দের সুযোগ পাননি। ব্যালটে কেবল একজন প্রার্থীর নাম, সেই ব্যালট হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যালট বাক্সে ভরতে হয়েছে ভোটারকে। তারপর ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে গিয়ে ভোট দিতে পারার জন্য নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হয়েছে, এর ব্যত্যয় ঘটলেই বিপত্তি।

নিজেদের নির্বাচনে এমন ‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জনের পরও ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মে ক্রুদ্ধ হয়েছেন কিম জং উন। ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে অলরেডি ডাকসুর দিকে একটি মিসাইল তাক করে তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, ‘ডাকসুতে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এমন অনিয়মের নির্বাচন মেনে নেয়া যায় না।’

এই পর্যায়ে তিনি ওভারএক্সাইটেড হয়ে ডাকসুর দিকে তাক করা মিসাইলটি ছুড়ে মারেন, যা মাত্র তিন গজ সামনে গিয়ে ফুঁস করে উঠে হালকা একটু ধোয়া উৎপন্ন করে। তিনি এতে আরও রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, নির্বাচন এভাবে হয় না। নির্বাচনে প্রার্থী থাকবে কেবল একজন অথবা শুধু এক দলের। এত দলের এত প্রার্থী নিয়ে এ আবার কেমন নির্বাচন? তার মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছে এক দলের, বাকি ২৩ পদে জিতেছে আবার অন্য দলের প্রার্থী! এটা মেনে নেয়া কঠিন। একটাই দলের প্রার্থী থাকলে নির্বাচনে এত অনিয়ম হতো না।’

বিশাল একটি বার্গারে কামড় দিয়ে তা চিবোতে চিবোতে অস্পষ্টভাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের দিকে তাকান। কই, কেউ তো এটা বর্জন করতে চায়নি! কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। নির্বাচন হতে হয় এমনই স্বচ্ছ, যেন ভোটারদেরও কোনো কনফিউশন না থাকে। প্রার্থী একজন, জিতবেও একজন, সোজা হিসাব।’ এই পর্যায়ে তার আশেপাশে থাকা সামরিক সদস্যরা আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সহমত প্রকাশ করেন।

এই ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে নিজের তত্ত্বাবধানে ‘ফেয়ার ইলেকশন’ করতে চান এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাকসুর নির্বাচনটা আমি এবং আমার আর্মির দ্বারা আমাদের সিস্টেমে পরিচালিত হলেই এসব ঝামেলা হবে না। প্রতিটা পদে নির্দিষ্ট একটা দলের একজনই প্রার্থী থাকবে, জিতবেও একজন। কে জিততে যাচ্ছে তা আগে থেকেই সবাই জানলে ভোট বাতিল কিংবা পুনঃনির্বাচনের দাবিও উঠবে না।’

ভবিষ্যতে ডাকসুর ভিপি হতে চান কিনা, এমন প্রশ্ন করলে কিম জং উন আরও রেগে গিয়ে হাতের কাছে থাকা একটি ব্যালট পেপার ছুড়ে মারেন।

৩৫৯৬ পঠিত ... ১৪:৫৫, মার্চ ১২, ২০১৯

Top