ভোটের আগে ব্যালট পেপার ফাঁস হওয়ার পেছনেও কি তাহলে কোচিং সেন্টারই দায়ী?

৩৬১ পঠিত ... ২১:৫৩, মার্চ ১১, ২০১৯

১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের দিন সকালবেলায় কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা হলের রিডিং রুম থেকে হল সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার উদ্ধার করে। প্রতিটি ব্যালট পেপারেই ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেলের সদস্যদের নামের পাশে ভোটের ‘ক্রস’ চিহ্ন দেখা যায়। ছাত্রীদের ক্ষোভের মুখে হল প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয় দায়িত্ব থেকে। ভোট গ্রহণও স্থগিত থাকে প্রায় তিন ঘন্টা। খবর: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর।

এর আগে একাধিকবার পাবলিক পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসরোধে কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছিল। সর্বশেষ, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসরোধে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হয়। খবর: প্রথম আলো। যদিও বিভিন্ন সময়ে বিজি প্রেসের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের শক্ত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তবুও কোচিং সেন্টারকেই প্রশ্ন ফাঁসের কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়ে এসেছে। তবে কি ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপার ফাঁস হওয়ার পেছনেও কোচিং সেন্টারই দায়ী? এ নিয়েই কৌতূহলী হয়ে পড়ে eআরকি। eআরকির পুরনো প্রশ্ন ফাঁস অনুসন্ধানী দলকে নতুন রূপে সাজিয়ে ‘পেপার অনুসন্ধানী দল’ গঠন করা হয়। এই নবগঠিত চৌকস দলটি অনুসন্ধানের কাজে মাঠে নেমে পড়ে।

ডাকসু নির্বাচনের একজন নিম্নপদস্থ অকর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে তিনি বলেন ‘আমরাও এমনটা ভেবেছি। আমাদের মনে হচ্ছে, কোচিং সেন্টারগুলো থেকেই প্রশ্নপত্রের মতো ব্যালটপত্র ফাঁস হয়েছে। দেখেন, প্রশ্নপত্রও কাগজ, ব্যালট পেপারও কাগজ। গত রাতে ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ক্লাস তো আর বন্ধ ছিলো না। ফলে এই কাজে কোচিং সেন্টারের জড়িত থাকার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ব্যালট ফাঁসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জড়িত। এই অভিযোগকে একদম উড়িয়ে দিয়ে একজন ছাত্রনেতা কোচিং সেন্টারের দিকে তার সংগ্রামী আঙুল তুলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই এক শ্রেণীর অসাধু দুষ্কৃতিকারী শিক্ষার্থী এমন গুজব রটাচ্ছে। এগুলো সব মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোন কটু কথা সহ্য করা হবে না। ব্যালটপত্র ফাঁস করছে কোচিং সেন্টারই। এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই! কোচিং বন্ধ করে দেয়া হলেই সকল ধরনের ব্যালট ফাঁস বন্ধ হবে।’

বাংলালিক্সের একজন অবিশ্বস্ত কর্মকর্তা আমাদেরকে নিজেই যেচে পড়ে ফোন দিয়ে বলেন, 'শুধু ব্যালট পেপার ফাঁস নয়, বেশ কয়েকজন সেলিব্রেটির স্ক্রিনশট ফাঁসের পেছনেও কোচিং সেন্টারের হাত কিংবা মার্কার বা হোয়াইট বোর্ড রয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। নিশ্চয়ই ফার্মগেটে "ডাকসুসিসি" টাইপ কোনো কোচিং সেন্টার এই কাজগুলো পরিচালনা করছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই জড়িতরা বেরিয়ে আসবে। তবে তদন্তের আগেই ইমিডিয়েটলি কোচিংয়ের উপর সব দোষ দিয়ে সব কোচিং বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।'

এই পর্যন্ত বলার পর পাছে কোনো কোচিং সেন্টার তার এই বক্তব্য ফাঁস করে দেয়, সেই ভয়ে তিনি ফোন রেখে দেন।

ওদিকে ক্যাম্পাসের জনৈক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা ব্যালট পেপার ফাঁসের তদন্তের পুরো ভার নিজের কাঁধে নিয়ে বজ্রকন্ঠে শ্লোগান দিতে দিতে বলেন, 'যেসব শিক্ষার্থীরা ব্যালট পেপার ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তারা যেসব কোচিং সেন্টারে এডমিশন কোচিং করে ঢাবিতে ঢুকেছে সেই কোচিংগুলো বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন।' তবে এ পর্যন্ত বলার পর নিকটস্থ একটি কোচিং সেন্টারে তার বিসিএস কোচিংয়ের ক্লাস থাকায় তিনি ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

৩৬১ পঠিত ... ২১:৫৩, মার্চ ১১, ২০১৯

Top