ইভিএম আসায় চাকরি হারাচ্ছেন আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা

১৭৪০ পঠিত ... ১৬:২১, মার্চ ১০, ২০১৯

৮ মার্চ (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না (সূত্র: প্রথম আলো)।

গত জাতীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে যাওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নির্বাচনের ব্যাপারে ভোটের আগের দিনই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগকে আমলে নিয়েই সিইসি ইভিএমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা বলেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সিইসি এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন?

তবে এই সংবাদে দেশজুড়ে বইছে শোকের হাওয়া। ইভিএম আসায় চাকরি হারাচ্ছেন আগের র‍্যাতে ব্যলটবাক্স ভরে রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মীরা।

'জাতীয় পূর্বরাত বাক্স পরিপূরক' সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমাদের সঙবাদদাতাকে বলেন, 'সিইসির এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না৷ ইভিএমে আমাদের সমস্যা নেই, তবে আগের রাতেই ইভিএমে ব্যালট পেপার ভরে রাখার সিস্টেম করতে হবে।'

পরে আমরা সরেজমিনে কয়েকজন বাক্স ভরে রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মীর বাসায় যাই দেখতে। সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশ চোখে পড়ে৷ আকাশে বাতাসে যেন কান্নার রোল। এক চল্লিশোর্ধ্ব নারী কাদতে কাদতে বলেন, 'আমার স্বামীর এই একটা চাকরিই করতো৷ বছরের কয়েকটা নির্বাচন থেকে যা আয় হতো, তাই দিয়েই চলতো সংসার। আজ সিইসি ইভিএম এনে গরীবের পেটে লাথি দিয়েছে। আজ যে আমরা নিস্ব হয়ে গেলাম!'

আরেক ব্যক্তি জাতির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, 'ব্যালটবাক্সের বদলে ইভিএম আসুক আর যাই আসুক৷ ভোটে যাদের জেতার তারাই তো জিতবে৷ কিন্তু আমাদের সংসার চলবে কিভাবে?'

এই সংস্থার যেসব কর্মীরা পাশাপাশি অন্যান্য জব করতেন, তাদের চিন্তা কিছুটা কম। তবে শখের বশে ব্যালট বাক্স ভর্তি করতেন এমন অনেকেই ভেঙে পড়েছেন। এমন একজন ব্যক্তি দুঃখ ভারাক্রান্ত গলায় জানান, 'কাজটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। রাত জাগা, সবাই একসাথে মিলে সিল মারা৷ ভাজ করা। চা সিগারেট খেতে খেতে কত গল্প আর আড্ডা৷ আহা, সেই রাতগুলো বুঝি আর ফিরে পাবো না৷'

বলতে বলতে তিনি স্বপ্নালু হয়ে পড়েন। বলেন, 'টাকা তো চাইনি৷ আমার নিজের দোকান আছে৷ কিন্ত শখ বলতে এই একটা জিনিসই ছিলো৷ খুব মিস করবো।'

সবশেষে 'সিলটা কোন মার্কায় মারতেন?' এমন প্রশ্ন করলে তিনি মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলেন, 'দেখেন ভাই, আমার ভোট আমি দেবো, অন্যদের ভোটও আমি দেবো... যাকে খুশি তাকে দেবো। এভাবে কাকে ভোট দিয়েছেন এমন প্রশ্ন করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করবেন না।'

১৭৪০ পঠিত ... ১৬:২১, মার্চ ১০, ২০১৯

Top