ভারতের বিরুদ্ধে ফেসবুক এবং প্রথম আলোর কমেন্টবক্সে যুদ্ধ ঘোষণা করলো বাংলাদেশি পাকিপ্রেমীরা

৫১০৯ পঠিত ... ২০:০৭, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। যেকোনো সময় বাধতে পারে যুদ্ধ। ভারতীয় বায়ুসেনা কর্তৃক পাকিস্তানে এয়ার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে ৩০০ জঙ্গি হত্যার সংবাদে পাকিস্তানে চলছে যুদ্ধের প্রস্ততি। তবে পাকিস্তান এখনো যুদ্ধ ঘোষণা না করলেও অলরেডি বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান-প্রেমীরা ঘোষণা দিয়েছে ধুন্ধুমার যুদ্ধের। তবে যুদ্ধের মাধ্যম হিসাবে তারা বেছে নিয়েছে ফেসবুক ও প্রথম আলোর কমেন্টবক্সকে। চলছে সারাদিন দূরপাল্লার ভারি ও স্বল্প কমেন্ট বর্ষণ। অ্যাংরি রিয়্যাক্ট উৎক্ষেপণ ও গালি ছোড়ার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাকিস্তান যুদ্ধের ময়দানে না পারলেও পাকিপ্রেমি এইসব কমেন্টযোদ্ধাদের চাপে ফেসবুকে দিশেহারা ভারতীয়রা।

পাকিস্তানকে কেন একেবারে মাতৃভূমির মতো ভালোবাসেন, এমন প্রশ্নে এক পাকিপ্রেমী জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'মানচিত্রটা আলাদা হয়ে গেলেও আমাদের হৃদয়টা এক। একাত্তরের পর হয়তো আমরা আর একসাথে নেই, কিন্তু ভ্রাতৃত্বটা তো এখনো অটুট।' কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান তো আমাদের কখনোই বন্ধু ছিল না, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, 'দেখেন, পাকিস্তান-প্রেমের সাথে রাজনীতি মেশাবেন না তো। তাছাড়া ওরা আমাদের মুসলমান ভাই...'।

পাকিস্তান-প্রেমের সঙ্গে রাজনীতি না মেশাতে চাইলেও ধর্ম কেন মেশাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আমাদের দিকেও একটি অ্যাংরি রিয়েকশনের গোলা ছুড়ে মারেন।

পাকিস্তানের পক্ষে কী করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক পাকিপ্রেমী বলেন, 'বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার কমেন্টবক্সে ভারতীয়দের পচাচ্ছি। পাকিস্তানের পক্ষে কমেন্ট করছি। এছাড়াও পাকিস্তানের পেজে গিয়ে লাভ ফ্রম বিডি লিখে আসছি। ভারতের পেজে গিয়ে দিচ্ছি গালাগালি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কেউ কিছু বললেই ভারতীয় দালাল বলে তাকে ধুয়ে দিচ্ছি।'

এমন অনলাইন কার্যপন্থায় কী লাভ হবে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'খুব কষ্ট! একাত্তরে জন্ম হয়নি বলে তখন হয়তো দুই দেশকে আমরা এক রাখার পক্ষে কাজ করতে পারিনি। তবে এবার যেহেতু সুযোগ এসেছে, পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করতে চাই। সুযোগ হলে সম্মুখ যুদ্ধেও যেতাম। তবে আপাতত ফেসবুকেই যুদ্ধ চালাচ্ছি।'

আমরা সরেজমিনে যুদ্ধ দেখতে প্রথম আলোর কমেন্ট বক্সে যাই। এ সময় আমাদের দুইজন সাঙবাদিক ধেয়ে আসা একটি পাকিপ্রেমির কমেন্টের গোলায় আহত হন। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এই যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে যত দ্রুত সম্ভব। এবিষয়ে জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, 'এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আপনাদের সরকারকে বলুন দেশ থেকে কাঠালপাতা আর খড় বিছালির রিজার্ভ কমিয়ে দিতে। তাহলেই এইসব পাকিপ্রেমি ছাগলদের উপদ্রব কমে যাবে।'

সবশেষে জাতিসংঘের ঐ মুখপাত্র আশ্চর্য হয়ে বলেন, 'পাকিস্তান সেই একাত্তরে আপনাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা আর দুই লাখের মতো নারীকে ধর্ষণ করার পরও কিভাবে কিছু বাঙালি এখনো পাকিস্তানের পক্ষ নেয়? আমার এটা বিশ্বাস হয় না।'

এ সময় আমরা তাকে বলি, 'জাস্ট eআরকির এই পোস্টটির কমেন্টবক্সে চোখ রাখুন। দেখবেন বহু পাকিপ্রেমি জ্বলেপুড়ে শেষ হবে। eআরকিকে গালি সহ ভারতীয় দালালের উপাধি দিবে। কেউ কেউ ইমোশনাল কমেন্টও করার চেষ্টা করবে। কেউ আবার ফেলানি ইস্যুকে এনে ৩০ লাখ খুনীর পক্ষে যাবে। শুধু দেখতে থাকুন আপনার ঠিকই বিশ্বাস হয়ে যাবে।'

সবশেষে বাংলাদেশ পাকিপ্রেমী ছাগু সংঘ (বাপাছাস) এর সভাপতি নয়ন আহমেদ আমাদের জানান, 'আমাদের স্টকের সমস্ত কাঠালপাতা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই কমেন্ট যুদ্ধ চলমান থাকবে।'

৫১০৯ পঠিত ... ২০:০৭, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

Top