ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জমা দেয়া অস্ত্রগুলো পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভাস্কো দা গামা মিউজিয়াম

১৫৮৪ পঠিত ... ১৪:৫০, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার কক্সবাজারের টেকনাফে একটি স্কুলের মাঠে ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী জনসম্মুখে আত্মসমর্পণ করেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আব্দুল রহমান বদির আপন তিন ভাই সহ ঘনিষ্ঠ আটজন আত্মীয় থাকলেও তিনি বা তার ভাই মজিবর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি।

কিন্তু আত্মসমর্পণের চেয়েও বেশি আলোচিত ছিলো ইয়াবা ব্যবসায়ীদের জমা দেয়া আগ্নেয়াস্ত্র। এই বন্দুকগুলো দেখে এগুলো থেকে গুলি বের হবে নাকি ধূলি বের হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ফেসবুকে এই বন্দুকগুলোর ছবি দেখেই এগুলো নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল প্রকাশ করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক মহল। এই প্রাগৈতিহাসিক প্রযুক্তিতে নির্মিত বন্দুকগুলোর ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ভাস্কো দা গামা মিউজিয়ামের আর্কিওলজিস্টরা এগুলো গবেষণা করার জন্য নিজেদের ল্যাবে আনতে চাইছেন।

কিন্তু কেন তাদের এই আগ্রহ এই বন্দুকের প্রতি? জানতে মাঠে নেমে পড়ে eআরকি ঠুসঠাস গবেষণা দল। তারা সরাসরি চলে যান মিউজিয়ামের লবিতে। সেখানে ভাস্কো দা গামা মিউজিয়ামের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক আমাদের বলেন, ‘ফেসবুকে ইয়াবা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই হৈ চৈ হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু সেদিন হঠাৎ একটি ছবিতে আমার চোখ আটকে গেল। টেবিলে থরে থরে সাজানো কিছু বন্দুক নিয়ে অনেকেই হাসি তামাশা করছে দেখলাম। কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে যা নিছক ইয়ার্কির বস্তু, আমাদের মতো মানুষের কাছে তাই আবার চরম গুরুত্বপূর্ণ।’

কেন এই দুস্থ বন্দুকগুলো এত গুরুত্ব বহন করে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাস্কো দা গামা প্রথম ইউরোপিয়ান যে ভারতীয় উপমহাদেশে পা রেখেছিলেন। তখন তার হাতে ছিল এমন বন্দুক। জলপথে নানা বাধা বিপত্তির মুখোমুখি হতে তিনি ব্যবহার করতেন এটি। কিন্তু সেগুলো ছিলো রিকশাচালক আকবরের ‘হাতপাখার বাতাসে’র মতোই ওয়ান হিট ওয়ান্ডার- অর্থাৎ এক শুটেই গুলি ফুরিয়ে যেত। সেই প্রাচীন প্রযুক্তির বন্দুক কালের আবর্তে হারিয়ে গিয়েছিল বলেই আমাদের ধারণা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এইরকম বন্দুক আবার আমরা দেখতে পেয়ে শিহরিত হয়ে উঠলাম। হতে পারে, ভাস্কো দা গামার বন্দুকই হাতে হাতে ঘুরে টেকনাফে পৌঁছেছে! আমরা তাই এগুলো কালেকশনে রাখতে চাই।’

এমন কি হতে পারে যে ভাস্কো দা গামার পঞ্চদশ শতাব্দীর ক্রু এখনো অ্যাকটিভ? নতুন কোন অজানার পথে তারা পা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে? প্রত্নতাত্ত্বিক মহোদয় সেই সম্ভাবনা নাকচ করেননি, ‘হতে পারে। হয়তো নতুন এই অভিযানের স্পন্সর না পেয়ে অস্ত্র বেঁচেই তারা খরচ যোগাচ্ছে। সে কারণেই আমাদের এই অস্ত্রগুলো নিয়ে এত কৌতূহল। আমরা দেখতে চাই, এই অস্ত্রগুলো সত্যিই গামা প্রযুক্তির তৈরি কিনা। যদি তাই হয়, এগুলো খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।’

১৫৮৪ পঠিত ... ১৪:৫০, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

Top