যানজটে ফার্স্ট হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করায় মিরপুরকে ধন্যবাদ জানালো ঢাকাবাসীরা

১১৩৭ পঠিত ... ১৯:৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিও’র প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯’এর তথ্যমতে বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। শীর্ষ অবস্থানের আশেপাশে বেশ কিছুদিন ঘোরাঘুরি করলেও এবারই প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান অর্জন।

এই দুর্দান্ত অর্জনে ঢাকার মানুষের মাঝে দেখা যায় এক ধরনের বিচিত্র উচ্ছ্বাস। এতদিন ধরে জ্যামের ঠেলা খেয়ে চলাচল করেছে তারা। অথচ এত ঝক্কি-ঝামেলার পরেও ন্যায্য সম্মান কখনোই পায়নি ঢাকাবাসী। কিন্তু এতদিন পর চির অবহেলিত সেই মিরপুরের কারণেই ঢাকা জ্যামে প্রথম হতে পেরেছে। মেট্রোরেলের পাশাপাশি বাণিজ্য মেলা আর বিপিএলের আসরকে বুকে ধারণ করে ঢাকায় জ্যামে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। সেই অবদানেই ঢাকার জ্যাম হয়েছে বিশ্বসেরা।

এই সাফল্য উদযাপনের জন্য সমগ্র ঢাকাবাসীরা ছুটে গিয়েছিলেন মিরপুরের কাছে, যে কারণে সৃষ্টি হয় আরো এক ঐতিহাসিক জ্যাম। জ্যাম সামলে মিরপুরে পৌছানোর পর চোখের সামনে যে মিরপুরবাসী পড়েছেন, তাকেই বুকে জড়িয়ে ধরে উল্লাসে ফেটে পড়েছে ঢাকাবাসীরা। এরকম এক উচ্ছ্বসিত ঢাকাবাসীর কাছে অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘এতদিন ধরে মিরপুরকে এত গালি দিলাম, এত অভিশাপ দিলাম। কিন্তু এখন এই মিরপুরের কারণেই আমরা হয়ে গেলাম জ্যামে ফার্স্ট! এই ত্যাগ তিতিক্ষা অবশেষে সার্থক হলো।’

তবে বাণিজ্য মেলা আর বিপিএল এক বছরের আগে আর আসবে না বলে জ্যামে শীর্ষস্থান ধরে রাখা নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছে মিরপুরবাসী। মিরপুরবাসীদের জন্য যদিও সুসংবাদ, জ্যামের শীর্ষস্থান বজায় রাখতে এগিয়ে এসেছে তেজগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ এলাকাসমূহ। নব্য মেট্রোরেলের ছোবলাক্রান্ত এক ফার্মগেটবাসী আমাদের বলেন, ‘মিরপুর তো আমাদের অনেক টানলো। সেই প্রাচীন আমল থেকে তারা অনবরত জ্যাম দিয়ে আমাদের ঢাকাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বাণিজ্য মেলা আর বিপিএলের অনুপস্থিতিতে মিরপুর হারাচ্ছে তার আগের ফর্ম। কিন্তু এখন আমাদের পালা। আমরা বয়ে নিয়ে যাবো জ্যামের আলোকবর্তিকা। যানজটে প্রথম স্থান থেকে ঢাকাকে কোনভাবেই টলতে দিবো না।’

নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও ঢাকাকে জ্যামের তালিকায় এক নাম্বারে রাখার ব্যাপারে আগের মতই সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে নিশ্চিত করেছে একটি অবিশ্বস্ত সূত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে ঢাকার রাস্তাকে সবসময়ই স্থবির করে রাখা হবে বলে তারা আশাবাদী। ওয়াসা, ডেসকো, সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য সংস্থাও এ ব্যাপারে পূর্ণ সমর্থন দেবে এমন  আশাবাদও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

১১৩৭ পঠিত ... ১৯:৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯

Top