এক অদ্ভুত বাণিজ্যমেলাহীনতায় ভুগছে মিরপুরবাসী

২০৫৩ পঠিত ... ১৩:১৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

গত ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবারে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার পাট চুকেছে। তার আগের দিন শেষ হয়েছে বিপিএলের আসর। যেই আসর দুটি মিরপুরকে জ্যামে জমজমাট করে রেখেছিলো, তা এক দিনের ব্যবধানেই শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে মিরপুরবাসীকে দেখা যায় উচ্ছ্বসিত উল্লাসে মেতে উঠতে। সড়কে যানবাহন স্থবির না হয়ে থেকে চলাচল করার ঘটনাই যেন ছিল আনন্দ মিছিলের এক প্রতিরূপ।

কিন্তু এত আনন্দের নেপথ্যেও কেমন যেন এক বিষাদের সুর বাজছে। মিরপুরবাসীর এই হাসির মধ্যেও যেন এক কোণে ফুটে বিষণ্ণতার ছাপ। জ্যামের চাপ কিঞ্চিত কমার জন্য এত হাহাকারের পর যখন তা সত্যি হলো, তখনও তারা কেন পুরোপুরি খুশি হতে পারছেন না কেন? এই জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমে পড়ে eআরকির সুবিশাল মিরপুর গবেষণা দল।

মিরপুরে নেমে সেখানে ছোটখাট একটি ধাক্কা খায় দলের একজন সদস্য। এতদিন মিরপুরের যেই স্থানটিকে পার্কিং লট ধারণা করা হয়েছিল, আজ সেখানে গাড়ি চলাচল করতে দেখে বোঝা যায় সেটি মূলত একটি সড়ক। বিপিএল এবং বাণিজ্য মেলার কারণে সেখানে এতদিন গাড়ির স্থবির অবস্থা দেখে আসায় এই বিপদজনক ভুল করে বসে সদস্যটি। ঘন্টায় ১০০ মিটার গতিতে ধেয়ে আসা একটি গাড়িই তাকে এই ছোটখাট ধাক্কাটি দেয়। অবশ্য এটি সামলে নিয়েই গবেষণা শুরু হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে ইচ্ছুক (নামের বানান জানা নেই বলে দেয়া যাচ্ছে না) এক মিরপুরবাসীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি eআরকিকে বলেন, ‘এতদিন বাণিজ্যমেলার কারণে মানুষজন এদিক দিয়ে যাইতো, রাস্তায় হর্ন টর্ন বাজাইতো। আর বিপিএল হইলে তো বাদ্যবাজনার জ্বালাতনে টেকা মুশকিল হইয়া যাইতো। কবে যে এই গজব শেষ হইবো- এইটাই মনে মনে ভাবতাম। কিন্তু কালকে রাত্রে একফোঁটা ঘুম হইলো না। হর্নের আওয়াজ শুনতে শুনতে মাথাটা হালকা না ধরলে তো ঝিমানি আর আসে না। ভাবতেছি ইউটিউবে বাণিজ্য মেলার লাইভ আর বিপিএলের আগের ফুটেজ ছাইড়া ঘুম দিবো।’

মিরপুরের রাস্তা দিয়ে নিয়মিতভাবে যাতায়াত করা একজন যাত্রীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত সুরে আমাদের বলেন, ‘আরে মিয়া, এতদিন ধরে জ্যামে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি। জ্যামে সময় যেন একদম নষ্ট না হয়, তার জন্য নগদ পয়সা দিয়ে নেটফ্লিক্স একাউন্ট নিলাম একটা। আজকে ভাবলাম একটা মুভি দেখতে দেখতে যাবো, কিন্তু শুরুর ক্রেডিটের লেখা উঠা শেষ হওয়ার আগেই জ্যাম ছুটে গেল। এখন আমি কখন নেটফ্লিক্স দেখবো? টাকাটা পুরা গচ্চা গেল!’

 

বিগত দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে একজন প্রবীণ মিরপুরবাসী আমাদের বলেন, ‘আগে এত দৌড়াদৌড়ি হুড়োহুড়ি ছিলো না আমাদের মিরপুরে। গাড়িঘোড়া সুস্থিরভাবে আগাইতো। আর হর্নের আওয়াজে একটা ফুর্তি ফুর্তি ব্যাপার লাইগাই থাকতো। এখন সব কেমন জানি বদলায় গেছে। গাড়ি সারাক্ষণ টানের উপরে থাকে। সবার অনেক তাড়াহুড়া। মিরপুর আর আগের মতো নাই।’

এই বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে আরো নতুন নতুন উৎসব শুরু করার কথা ভাবছে নিখিল মিরপুর কল্যাণ সংঘ। এছাড়াও মেট্রোরেল নির্মাণকাজ যেন পুরোদমে সচল থাকে সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নজর দেয়ার কথা বলেছে সংঘটির সভাপতি। তা না হলে, অসহনীয় শূন্যতায় অনেকেই মেট্রোরেল নির্মাণকাজের সাম্প্রতিক শিকার, ধুলা উৎসবে মেতে ওঠা শাহবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারে বাসা পাল্টিয়ে চলে যেতে পারেন বলে স্থানীয় বাড়ির মালিকদের ভয়।

 

২০৫৩ পঠিত ... ১৩:১৯, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

Top