বদির হাতে এখন শুধু দুটি অপশন, সময় মাত্র পাঁচ দিন

১০৩০ পঠিত ... ১৭:৩৭, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

টেকনাফ থেকে ইয়াবার বদনাম ঘোচাতে বদ্ধপরিকর কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ, থুক্কু, সাংসদ শাহীন আক্তারের হাজবেন্ড আবদুর রহমান বদি। ১১ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে টেকনাফ চৌধুরী পাড়ায় নিজ বাস ভবনে তার স্ত্রী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহীন আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, 'টেকনাফে যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত তাদের পাঁচদিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কেউ আত্মসমর্পণ না করলে এলাকা ছাড়তে হবে। তাদের কোনো রেহাই নেই। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না' (জাগোনিউজ টুয়েন্টিফোর)।

এই খবর পাওয়া মাত্রই eআরকির টেকনাফ প্রতিনিধি বিস্ময়ে 'বাবাগো' বলে উঠে দ্রুত কল্পনায় বদির কার্যালয়ে ছুটে যান। অফিসে ঢুকতেই একজন কর্মচারির কাছ থেকে জানা যায়, স্যার এখন ব্যস্ত আছেন। কী সেই ব্যস্ততা তা জানতে চাওয়া হলে জানা যায়, তিনি একটি জটিল সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আছেন।

বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমরা বদির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই। ঘরে ঢুকে দেখা যায়, তিনি চেয়ারে বসে নিবিড় মনোযোগে 'শি লাভস মি, শি লাভ মি নট' স্টাইলে ফুলের পাঁপড়ি ছিড়ছেন। একবার বলছেন, আত্মসমপর্ণ। আরেকবার বলছেন, এলাকা ছাড়া। আমাদের প্রতিনিধিকে দেখে তার ধ্যানে সাময়িক বিরতি আসে।

'ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তো পাঁচদিনের আল্টিমেটাম দিলেন। এখন কী করতে চান, সারেন্ডার করে ইয়াবা ব্যবসা ছেড়ে শুদ্ধ জীবনচর্চায় ফিরে আসবেন, নাকি টেকনাফ ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসন নেবেন?'

প্রশ্নটি শুনে বদি উত্তর না দিয়ে পাঁপড়ি ছেড়াছেড়িতে ব্যাক করেন। অতঃপর 'ওহ শিট, আত্মসমর্পণ! নাহ, প্রশ্নই আসে না' বলে পাঁপড়ি ছেড়া ফুলের কান্ডটা ক্রুদ্ধ হয়ে ছুড়ে মারেন। আমাদের প্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে বলেন, 'দুই টাকার কয়েন আছে?' প্রতিনিধি লজ্জিত হয়ে 'ওরে বাবা, না না, আমি ওসব খাই না' বললে তিনি তার উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে জানান 'ইয়ে, টস করবো। ফুলের সিস্টেমটা ফালতু। আমার ধারণা, টস করলেই একটা ভালো সমাধান পাওয়া যাবে।'

বদি কয়েন দিয়ে একবার টস করার পর তার মুখ আরও বিমর্ষ হয়ে যায়। এবারো ভালো সমাধান না পেয়ে তিনি বললেন, 'টস তো তিনবার করতে হয়, তাই না? হ্যাঁ, দানে দানে তিন দান।'

আমাদের প্রতিনিধি বলে, 'কিন্তু বদি ভাই, আপনি নিজেই তো ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দুইটা অপশন দিলেন, নিজের জন্য একটা সহজ অপশন রেখে আল্টিমেটাম দিলেই পারতেন'।

বদি এই কথা শুনে বিরক্ত হলেন নাকি তিন টসেও ভালো সমাধান না পাওয়ায়, তা বোঝা গেলো না। তবে নিজের সিগনেচার হাসিটা হেসে জানালেন, 'আরে দাঁড়ান না, সময় তো আছে পাঁচ দিন! আচ্ছা ভাই, একটা চিরকুটে দুইটা অপশন লিখে র‍্যাফেল ড্র সিস্টেম করলে হয় না?'

[এটি একটি স্যাটায়ার নিউজ। এটাকে বিশ্বাস, অবিশ্বাস যাই করুন না কেন, নিজ দায়িত্বে করুন।]

১০৩০ পঠিত ... ১৭:৩৭, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

Top