যেভাবে বাংলাদেশি ডাক্তার কানাডা গিয়ে হলেন সফল সেলসম্যান

৭৭৬৭ পঠিত ... ১৮:৪৫, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

একজন ডাক্তার দেশে প্রাইভেট হাসপাতালের চাকরী ছেড়ে কানাডাতে গিয়ে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সেলসম্যান হিসাবে যোগ দিলেন।
স্টোরের মালিক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি অভিজ্ঞতা আছে?
তিনি জানালেন, আমি দেশে একজন ডাক্তার হিসাবে পরিচিত ছিলাম।
চাকরীর প্রথম দিনে তিনি খুব মন দিয়ে কাজ করলেন।
সন্ধ্যে ছ'টায় ছুটির পরে বস তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আজ তুমি কজন খরিদ্দারকে জিনিস বিক্রি করেছ?
তিনি উত্তর দিলেন, স্যার, আমি প্রথম দিনে একজন খরিদ্দারকে জিনিস বিক্রি করেছি।
মালিক আশ্চর্য হয়ে বললেন, মাত্র একটা? 

একটু থেমে বস আবার বললেন, এখানকার প্রতিটি সেলসম্যান দিনে ২০ থেকে ৩০ জন খরিদ্দারকে জিনিস বিক্রি করে। আচ্ছা বলতো, তুমি কত মূল্যের জিনিস বিক্রি করেছ?
তিনি বললেন, ৮৪০০০ ডলার। 

বস অবাক হয়ে গেলেন, কি? তুমি এটা কিভাবে করলে?
তিনি বললেন, একজন খরিদ্দারকে আমি প্রথমে মাছ ধরার একটি ছোট বড়শি বিক্রি করেছি। তারপরে তাকে একটি বড় ও একটি মাঝারি বড়শি বিক্রি করেছি। তারও পরে তাকে একটি বড় ফিসিং রড আর কয়েকটি ফিসিং গিয়ার বিক্রি করেছি।তারপরে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কোথায় মাছ ধরবেন? তিনি উত্তর দিলেন, তিনি সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় মাছ ধরবেন। তখন আমি তাকে বললাম, তাহলে তো আপনার একটি নৌকার প্রয়োজন হবে। আমি তাকে নীচের তলায় নৌকার ডিপার্টমেন্টে নিয়ে গেলাম। ভদ্রলোক সেখান থেকে কুড়ি ফুট দীর্ঘ দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট নৌকা কিনলেন।

এরপরে আমি তাকে বললাম, এই নৌকাটি তো আপনার ভক্সওয়াগন গাড়িতে ধরবে না, একটা বড় গাড়ির প্রয়োজন। আমি ভদ্রলোককে অটোমোবাইল ডিপার্টমেন্টে নিয়ে গেলাম। আমার পরামর্শে তিনি নৌকাটি বহন করার উপযোগী একটি গাড়ি কিনলেন। 

তারপরে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, মাছ ধরার সময় কোথায় থাকবেন? তিনি জানালেন, এ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা করিনি। আমি তাকে ক্যাম্পিং ডিপার্টমেন্টে নিয়ে গেলাম। তিনি আমার পরামর্শমতো ছজন লোক ঘুমানোর উপযোগী একটি ক্যাম্প তাঁবু কিনলেন। 

আমি শেষে তাকে বোঝালাম, আপনি যখন এতকিছু কিনে নিয়েছেন, তখন কিছু খাবার ও পানীয় কিনে নেওয়া উচিত। ভদ্রলোক দুশ পাউন্ড দিয়ে কিছু মুদিখানা দ্রব্য ও দু কেইস বিয়ার কিনে নিলেন। 

এবারে স্টোরের মালিক একটু দমে গেলেন এবং বিস্ময়ের সঙ্গে বলে উঠলেন, যে লোকটা একটি বড়শি কিনতে এসেছিল, তুমি তাকে দিয়ে এত জিনিস কেনালে! 

ডাক্তারটি বললেন, না স্যার। ওই ভদ্রলোক শুধুমাত্র মাথা যন্ত্রণার ওষুধ কিনতে এসেছিল। আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম, মাছ ধরলে মাথা যন্ত্রণার উপশম হবে।

স্টোরের মালিক প্রশ্ন করলেন, তুমি এর আগে কী কাজ করতে?
তিনি বললেন, আজ্ঞে, আমি দেশে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার ছিলাম। রোগী আসলে আমরা তাদের নানা ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, ইকো, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, এক্সরে, এমআরআই ইত্যাদি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতাম।

স্টোরের মালিক বললেন, তুমি বরং এখন থেকে আমার চেয়ারে বসবে আর আমি তোমার দেশে গিয়ে কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে আসব।

(কৌতুকটি সংগৃহীত)

৭৭৬৭ পঠিত ... ১৮:৪৫, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top