কানস লায়নসে দুটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ জিতলো বাংলাদেশের গ্রে

৯৮ পঠিত ... ১৯:০০, জুন ২৩, ২০১৯

কান’ শুনলেই আমার আপনার মনে শ্রবণযন্ত্রের ছবি ভেসে উঠলেও বৈশ্বিক সিনেমা নিয়ে আগ্রহী কোন মানুষ হয়ত ভেবে নেবেন ‘কান ফিল্ম ফেস্টিভাল’এর কথা। ফ্রান্সের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী এই শহরটি থেকে যেমন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষরা স্বীকৃতি পাওয়ার আশা করেন, তেমনি বিজ্ঞাপন দুনিয়াতেও এই শহরের বিশেষ মর্যাদা আছে। এই শহরেই অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞাপন জগতের অস্কার হিসেবে পরিচিত ‘কান লায়নস’।  বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশনের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ‘কান লায়নস’-এ এই বছর পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্রে, ঢাকা।

এই অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর মধ্যে সেরা ক্রিয়েটিভ কাজগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে, প্রতি বছর পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে থাকে একটি কান লায়নস মেডেল এবং সার্টিফিকেট। এবার গ্রে দুটি সিলভার লায়ন ও একটি ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়েছে।

২০১৪ থেকেই বাংলাদেশের হয়ে কান-এ অংশগ্রহণ করছে গ্রে, ঢাকা। ২০১৮ পর্যন্ত অনেকগুলো ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট হয়েছে তাড়া। এর মধ্যে ২০১৬ তে গোল্ড জয়ও আছে, যা বাংলাদেশের প্রথম কান লায়নস অর্জন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও স্বপ্নের যৌথ প্রজেক্ট ‘অ্যাগ্রোব্যাংক’-এর জন্য নির্মিত বিজ্ঞাপনের জন্য গ্রে এবারের এই সম্মান অর্জন করে। বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষকরা যারা খুব বেশি ফসল ফলাতে পারেন না, তারপরেও নিজের চাহিদা মিটিয়ে যা বাড়তি থাকে সেই সামান্য অংশই বিক্রি করতে হয়। আবার এই বাড়তি ফসলটুকুতেও তারা সচরাচর ন্যায্যমূল্য পায় না।

‘অ্যাগ্রোব্যাংক’ প্রজেক্টটি এই কৃষকদের জন্য এমন একটি নতুন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে কৃষক তাদের সেই বাড়তি ফসলটুকু জমা দিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে এবং প্রতিদিন তাদের ফসল জমা দিয়ে নিজ অ্যাকাউন্টে সেই ফসলের বিনিময়ে টাকা জমাতে পারবে। পুরো বিষয়টিই তারা নিজ নিজ মোবাইলে দেখতে পারবেন, এবং নিয়ন্ত্রণও করতে পারবেন। অন্যদিকে স্বপ্ন সেই তাজা শাক-সবজি-পোল্ট্রি পণ্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্বপ্নের রিটেইল আউটলেটে বিক্রি করবে। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও

অ্যাগ্রো ব্যাংক প্রজেক্টটি ধারণা, পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন গ্রে ঢাকার সিনিয়র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ আকরুম হোসেন শাহিন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন গ্রে ঢাকার কান্ট্রি হেড সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন।

গ্রে থেকে অ্যাগ্রো ব্যাংক প্রজেক্টের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নমুনা জমা দেওয়া হয়েছিল, এর মধ্য থেকে ৮টি ক্যাটাগরিতে গ্রে শর্টলিস্টেড হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো, পিআর, ডিরেক্ট, মোবাইল, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-পোভার্টি, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-ডিসেন্ট ওয়ার্ক ফর ইকোনোমিক্যাল গ্রোথ, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-রিডিউসড ইনইকুয়ালিটি, ব্র্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স-ইভেন্ট এন্ড অ্যাকটিভেশান, ক্রিয়েটিভ ই-কমার্স।

গ্রে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘কান লায়ন অত্যন্ত সম্মানজক একটি অর্জন। এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। অত্যন্ত গৌরবের একটি বিষয়। এই অর্জন আমাদের ক্রিয়েটিভ কাজের আন্তর্জতিক স্বীকৃতি।’

৯৮ পঠিত ... ১৯:০০, জুন ২৩, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top