যে ৩০টি 'বায়োপিক' সিনেমায় অভিনেতার সঙ্গে চরিত্রের রয়েছে বিস্ময়কর মিল

৪৩৩ পঠিত ... ১৫:১৯, জুন ১৯, ২০১৯

ইতিহাসের বিখ্যাত, সফল কিংবা বিতর্কিত-সমালোচিত চরিত্রদের নিয়ে কম সিনেমা হয়নি দুনিয়াজুড়ে। কখনো কখনো বাস্তব চরিত্রের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমা, আবার কখনো ঐ চরিত্রকে সরাসরিই দেখানো হয় সিনেমার পর্দায়। হাজার বছর আগের রানি ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে স্টিভ জবস, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো পৃথিবী বদলে দেওয়া চরিত্রদের নিয়ে যেমন সিনেমা হয়েছে, তেমনি রূপালী পর্দায় দেখানো হয়েছে আইলিন ওয়ারনসের মতো সিরিয়াল কিলারকেও। এসব বায়োপিক ধাচের সিনেমায় যারা মূল চরিত্রে অভিনয় করেন, কখনো কখনো তারা চরিত্রগুলোকে প্রায় বাস্তবের মতো করেই ফুটিয়ে তোলেন। ঐতিহাসিক চরিত্রদের সিনেমার পর্দায় একেবারে বাস্তব মনে হয়েছে এমন কিছু উদাহারণ থাকছে eআরকির পাঠকদের জন্য। 

 

১# আই, টোনিয়া (২০১৭) সিনেমায় টনিয়া হার্ডিং চরিত্রে মার্গট রবি

আমেরিকার ফিগার স্কেটার টনিয়া হার্ডিংকে নিয়ে তৈরি এই সিনেমা। তিনি প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে সফলভাবে ট্রিপল এক্সেল সম্পূর্ণ করেছিলেন। পরে ১৯৯৪ সালে তার সাবেক স্বামী অপর এক স্কেটারকে আক্রমণ করায় ও তার অলিম্পিক যাত্রা না হওয়ায় তার নামের সাথে কলঙ্ক জড়িয়ে যায়।

 

২# জবস (২০১৩) সিনেমায় স্টিভ জবস চরিত্রে অ্যাশটন কুচার

একুশ শতকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে আমরা যে পর্যায়ে দেখছি তার পিছনে যে কয়জন মানুষের অবদান অনস্বীকার্য, তাদের একজন হলেন স্টিভ জবস। তিনি এবং তার কোম্পানি অ্যাপল একরকম দুনিয়ার প্রযুক্তির গতিপথটাকেই বদলে দিয়েছিলেন। অ্যাপলের সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের এই দুনিয়া পালটে দেয়ার কাহিনী নিয়েই এই সিনেমাটি।

 

৩# সেলেনা (১৯৯৭) সিনেমায় সেলেনা কুইন্টানিলা চরিত্রে জেনিফার লোপেজ

আমেরিকান-মেক্সিকান পরিবারে জন্ম নেয়া সংগীতশিল্পী সেলেনা কুইন্টানিলার জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। তারুণ্যেই আমেরিকায় তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে যাওয়া সেলেনা ২৪ বছর বয়সেই মারা যান নিজ ভক্তের গুলিতে।

 

৪# কুইন (২০০৬) সিনেমায় কুইন এলিজাবেথের চরিত্রে হেলেন মিরেন

ঘটনাবহুল গত শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত দুর্ঘটনার একটি ছিল প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রিন্সেস ডায়নার মৃত্যু। মৃত্যুর আগের বছরই প্রিন্স চার্লসের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় ডায়নার। তবুও তার মৃত্যু নিয়ে আছে নানারকম জল্পনা। ডায়নার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং রানি এলিজাবেথকে যথেষ্ট সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। সেসব নিয়ে ‘কুইন’ সিনেমাটি।  

 

৫# দ্য থিওরি অফ এভরিথিং (২০১৪) সিনেমায় স্টিফেন হকিং চরিত্রে এডি রেডমেইন

ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকের চরিত্রে এডি রেডমেইন এতই স্বাবলীল অভিনয় করেছিলেন যে বাংলাদেশে কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে হকিংয়ের ছবির বদলে রেডমেইনের ছবি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্যই ভুল করে!

 

৬# আয়রন লেডি (২০১১) সিনেমায় মার্গারেট থ্যাচার চরিত্রে মেরিল স্ট্রিপ

প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে নিয়েই এই সিনেমা। তার শাসনামলের নানান সংকটকে উপজীব্য করে নির্মিত এই সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য মেরিল স্ট্রিপ জিতে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্কার।  

 

৭# জেমস ডিন(২০০১) সিনেমায় জেমস ডিন চরিত্রে জেমস ফ্রাংকো

হলিউড অভিনেতা জেমস ডিনের জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। পঞ্চাশের দশকে জেমস ডিন মাত্র তিনটি সিনেমাতেই অভিনয় করেছিলেন বড় চরিত্রে। সবাই ধরে নিয়েছিল হলিউডের আকাশে নতুন এক নক্ষত্রের আগমন হিসেবে। অথচ মাত্র ২৪ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে অঞ্জন দত্তের ভাষায় ‘ছাইচাপা আগুন’ হয়েই থেকে যান তিনি।

 

৮# রে (২০০৪) সিনেমায় রে চার্লসের চরিত্রে জেমি ফক্স

অস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাটি মার্কিন জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী রে চার্লসকে নিয়ে নির্মিত। একেবারে শৈশবে পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারানো এই কৃষ্ণাঙ্গ জীবনে নানা রকম বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হয়ে ওঠেন সংগীত জগতের এক নক্ষত্র। হলিউড ওয়াক অফ ফেম, রক এন্ড রোল হল অফ ফেম, গ্র্যামির আজীবন সম্মাননা, ন্যাশনাল মেডেল অফ আর্টস-সহ অসংখ পুরস্কার পেয়েছেন রে চার্লস।

 

৯# মনস্টার (২০০৩) সিনেমায় আইলিন ওয়ারনস চরিত্রে চার্লিজ থেরন

এক সময়ের যৌনকর্মী আইলিন ওয়ারনস ১৯৮৯-৯০ সালে ফ্লোরিডায় সাতজন পুরুষকে খুন করেন। একেবারে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা পুরুষদের প্রতি তার অভিযোগ ছিল, এরা প্রত্যেকেই তাকে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের প্রচেষ্টা করেছিল। পরে মার্কিন আদালত এই সিরিয়াল কিলারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তাকে নিয়েই নির্মিত হয় চলচ্চিত্র মনস্টার।

 

১০# ফ্রিডা (২০০২) ফ্রিদা কাহলোর চরিত্রে সালমা হায়েক

মেক্সিকান সাররিয়ালিস্টিক চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলোর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই সিনেমা। শৈশবে পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৮ বছর বয়সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত না হলে হয়ত ডাক্তারই হয়ে যেতেন। কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর থেকে ফ্রিদা আঁকাআঁকি নিয়ে সময় কাটাতে থাকেন।

 

১১# মাই উইক উইথ মেরিলিন (২০১১) সিনেমায় মেরিলিন মনরো চরিত্রে মিশেল উইলিয়ামস

পঞ্চাশের দশকের হার্টথ্রব হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর সাথে একটি সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে এক উঠতি সিনেমা নির্মাতার অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই সিনেমা। ১৯৬২ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা মেরিলিন মনরো সে সময়ের সবচেয়ে আবেদনময়ী অভিনেত্রী। শুধু পঞ্চাশের দশকই না, এই এখন পর্যন্ত মেরিলিন মনরো হয়ে আছেন লাখো তরুণের স্বপ্ন।


১২# মিডনাইট ইন প্যারিস (২০১১) সিনেমায় সালভাদর দালি চরিত্রে অ্যাডিয়েন ব্রডি

সিনেমার মূল চরিত্রের হুট করেই প্যারিসে গিয়ে কিছু বিখ্যাত মানুষদের সাথে দেখা হয়ে যায়। তার মধ্যে স্প্যানিশ সাররিয়ালিস্টিক চিত্রশিল্পী সালভাদর ডালিও ছিলেন।


১৩# সোশ্যাল নেটওয়ার্ক (২০১০) সিনেমায় মার্ক জাকারবার্গ চরিত্রে জেসি আইজেনবার্গ

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই সিনেমা তৈরি করা হয়। ২০০৪ সালে মাত্র বিশ বছর বয়সে হার্ভার্ডের ছাত্র থাকাকালে ডরমিটরির বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য ফেসবুকের শুরু করেন। যা এক দশক না ঘুরতেই পৃথিবীর জনপ্রিয়তম সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপ নেয়।

 

১৪# এরিন ব্রকোভিচ (২০০০) সিনেমায় এরিন ব্রকোভিচ চরিত্রে জুলিয়া রবার্টস

মার্কিন আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী এরিন ব্রকোভিচকে নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা। আইন নিয়ে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ১৯৯৩ সালে একটি গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা লড়ে জিতে গিয়েছিলেন তিনি। তখনো অবশ্য তিনি কোন জনপ্রিয় মুখ নন। পরে ২০০০ সালে সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করেই সিনেমা হবার পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান এরিন।


১৫# ম্যান অন দ্য মুন (১৯৯৯) সিনেমায় অ্যান্ডি কফম্যান চরিত্রে জিম ক্যারি

আমেরিকান কমেডির ইতিহাসে অন্যতম প্রতিভাবান এন্টারটেইনার অ্যান্ডি কফম্যানের জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছিল এই সিনেমা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুর আগেই পেয়েছিলেন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা।


১৬# বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি (২০১৮) সিনেমায় ফ্রেডি মার্কারির চরিত্রে রামি মালেক

পার্সি বাবা-মায়ের ঘরে ফারুক বুলসারা নামে জন্মেছিলেন ভারতের গুজরাটে। ভারতেই কাটিয়েছেন স্কুলজীবন। পরে দাঙ্গার হাত থেকে বাঁচতে সপরিবার ইংল্যান্ডে চলে যান ১৮ বছর বয়সেই। আর সেখানে গিয়েই যেন সব বদলে যায়। স্কুলজীবনে সহপাঠীদের ‘বুলিইং’ থেকে বাঁচতে গানের দলে যোগ দেওয়া ফারুক লন্ডনে গিয়ে হয়ে যান ফ্রেডি মার্কারি। ব্রায়ান মে আর রজার টেইলরকে নিয়ে বানিয়ে ফেলেন ব্যান্ড ‘কুইন’। বদলে দিয়েছেন রক মিউজিককে। কনসার্টে লাইভ পারফরম্যান্সের সংজ্ঞাও বদলে গেছে তার হাত ধরে। ঘটনাবহুল জীবনের শেষে এসে আক্রান্ত হন এইডসে।

ফ্রেডি এবং ব্যান্ড ‘কুইন’কে নিয়ে বানানো সিনেমা ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ মাতিয়ে দিয়েছে পুরো দুনিয়াকে। রামি মালেক ফ্রেডির চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নিয়েছেন অস্কার।


১৭#  লিংকন (২০১২) সিনেমায় আব্রাহাম লিংকন চরিত্রে ড্যানিয়েল ডে লুইস

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনকে নিয়ে এই সিনেমা। আমেরিকায় দাস প্রথা বন্ধ করে লিংকন ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন। আততায়ী হাতে নিহত হওয়ার আগের কয়েক মাসের ঘটনা নিয়েই স্পিলবার্গ নির্মাণ করেছিলেন সিনেমাটি।


১৮# দ্য ডোরস (১৯৯১) সিনেমায় জিম মরিসন চরিত্রে ভ্যাল কিলমার

‘ক্লাব টুয়েন্টি সেভেন’-এর উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের একজন জিম মরিসন। বেঁচে ছিলেন মাত্র ২৭ বছর। কিন্তু এই ২৭ বছরেই যেসব গানের জন্ম দিয়ে গেছেন, তা পৃথিবী রাজত্ব করছে প্রায় পাঁচ দশক পরেও। জিম মরিসন এবং তার ব্যান্ড ‘দ্য ডোরস’কে নিয়ে একই নামের এই সিনেমাটি হয়েছিল জিম মরিসনের মৃত্যুর ঠিক দুই দশক পর।


১৯# চ্যাপলিন (১৯৯২) সিনেমায় চ্যাপলিন চরিত্রে রবার্ট ডাওনি জুনিয়র

বিশ্বখ্যাত কমিক অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে এই সিনেমা। চার্লি চ্যাপলিনকে আলাদা করে পৃথিবীর কোন অঞ্চলেই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সম্ভবত কিছু নেই। পর্দায় কারো নির্বাক উপস্থিতিই এতটা জনপ্রিয়তা নিয়ে আসতে পেরেছে, এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসের বিরল।


২০# গান্ধী (১৯৮২) সিনেমায় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী চরিত্রে বেন কিংসলে

ভারতের অসহযোগ ও অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে এই সিনেমা। আফ্রিকায় তরুণ আইনজীবী হিসেবে কাটানো জীবন, পরে ভারতে এসে রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়া এবং শেষে ভারতবর্ষের বিভক্তি ঠেকাবার জন্য আপ্রাণ অথচ ব্যর্থ চেষ্টা করা। এসব নিয়েই সিনেমাটি।  


২১# ডাউনফল (২০০৪) সিনেমায় অ্যাডল্ফ হিটলার চরিত্রে ব্রুনো গ্যাঞ্জ

জার্মান শাসক এবং নাৎযি বাহিনীর প্রধান অ্যাডল্ফ হিটলারের জীবনের শেষ দিনগুলো নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই জার্মান সিনেমাটি। ‘ডাউনফল’ সিনেমার এক পর্যায়ে হিটলার তার অফিসে বসে একদল জেনারেলকে বকাঝকা করছেন, এই দৃশ্যটি   এমনিতেই অনলাইন দুনিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয়। যুদ্ধে একের পর এক ভুল করে এবং নির্মমতার স্টিম রোলার চালিয়ে অবশেষে নিজ বাংকারেই আত্মহত্যা করতে হয় হিটলারকে।


২২# ইনভিকটাস (২০০৯) সিনেমায় নেলসন ম্যান্ডেলা চরিত্রে মরগান ফ্রিম্যান

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে পৃথিবীর কাছে ‘আইকন’ হয়ে যাওয়া নেলসন ম্যান্ডেলা তার জীবনের বিরাট একটা অংশ কাটিয়েছেন জেলে নির্বাসিত অবস্থায়। ১৯৯০ সালে জেল থেকে মুক্তির পর দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন ১৯৯৪ সালে। দেশ তখন বিভক্ত সাদা-কালো দুই ভাগে। সেই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাগবি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রাগবি খেলার মধ্য দিয়েই দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে ‘ইনভিকটাস’ সিনেমাটি। এই সিনেমায় মরগান ফ্রিম্যান এতটাই ভালো অভিনয় করেন যে, নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর ভারতে মরগান ফ্রিম্যানের ছবি বিলবোর্ডে ব্যবহার করে শোক প্রকাশ করা হয়েছিল।


২৩# হিচকক (২০১২) সিনেমায় আলফ্রেড হিচকক চরিত্রে এন্থোনি হপকিনস

সিনেমার জগতকে বদলে দেওয়া ইংরেজ চলচ্চিত্র পরিচালক আলফ্রেড হিচকককে নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমাটি। প্রায় ছয় দশকের ক্যারিয়ারে হিচকক আটলান্টিকের দুই পারেই বানিয়েছেন অসংখ্য সিনেমা। আর টিভি পর্দায় তিনি এসেছেন বিখ্যাত ‘আলফ্রেড হিচকক প্রেজেন্টস’ টিভি শোয়ের মাধ্যমে।


২৪# অ্যা'ম নট দেয়ার (২০০৭) সিনেমায় বব ডিলানের চরিত্রে কেট ব্ল্যানচেট

জীবদ্দশায় প্রায় ছয় দশক ধরে গান লিখে আর গেয়ে বব ডিলান হয়ে আছেন মার্কিন কান্ট্রি মিউজিকের সমার্থক। শুধু গান গেয়েই নয়, গান লেখায় তার অবদান কতটা বিস্তৃত সেটি বোঝা যায় ২০১৬ সালে তার সাহিত্যে নোবেল জয় দিয়ে।  


২৫# কোকো বিফোর শ্যানেল (২০০৯) সিনেমায় কোকো শ্যানেল চরিত্রে অড্রে টাউটো

মেয়েদের পোশাকে অনন্য পরিবর্তন আনা ফ্রেঞ্চ ফ্যাশন ডিজাইনার কোকো শ্যানেলকে নিয়ে এই সিনেমা। গত শতাব্দীর বিশ এবং ত্রিশের দশকে কোকো শ্যানেলের হাত ধরে নারীদের ফ্যাশনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন।


২৬# চে (২০০৮) সিনেমায় আর্নেস্তো চে গেভারা চরিত্রে বেনিসিও ডেল টোরো

বিশ্বব্যাপী বিপ্লবের প্রতীক হয়ে যাওয়া আর্জেন্টাইন মার্কসবাদী ও বিপ্লবী নেতা চে গেভারাকে নিয়ে এই সিনেমা। পেশায় ডাক্তার হয়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকা আর মধ্য আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তারুণ্যে বন্ধুত্ব হয় কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাথে। কিউবার সফল বিপ্লব আর বলিভিয়ার বিপ্লবের ব্যর্থ প্রচেষ্টার ঘটনা নিয়েই দুই পর্বের এই সিনেমা।


২৭# অ্যানা ফ্রাঙ্ক: দ্য হোল স্টোরি (২০০১) সিনেমায় অ্যানা ফ্রাঙ্ক চরিত্রে হান্না টেইলর গর্ডন

জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করা ইহুদি ধর্মাবলম্বী অ্যানা ফ্রাঙ্ক বিখ্যাত হয়ে আছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার লেখা ডায়েরির জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুর্বিষহ সময়গুলোয় পালিয়ে বেড়ানো আর একটা পর্যায়ে জার্মান নাৎযি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে কাটানো দিনগুলোর কথা লিখেছিলেন ডায়েরিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার আগেই তার জীবন প্রদীপ যখন নিভে যায় তখন তার বয়স মাত্র ১৫। এই কিশোরীর জীবন নিয়েই এই সিনেমাটি।


২৮# লিজ: দ্য এলিজাবেথ টেইলর স্টোরি (১৯৯৫) সিনেমায় এলিজাবেথ টেইলর চরিত্রে সেরিলিন ফেন

ব্রিটিশ আমেরিকান অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেইলরকে অনেকেই বলে আধুনিক যুগের ক্লিওপেট্রা। মিশরের এই রানীর চরিত্রে অভিনয় করে বিখ্যাত হয়ে আছেন পঞ্চাশ-ষাটের দশকে পর্দা হলিউড কাঁপানো এই অভিনেত্রী। এলিজাবেথ টেইলরের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়েই বানানো হয়েছিল এই সিনেমাটি।


২৯# আলি (২০০১) সিনেমায় মোহাম্মদ আলি চরিত্রে উইল স্মিথ

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বক্সার মোহাম্মদ আলিকে নিয়ে এই সিনেমা। ১৯৬৪-১৯৭৪ এই এক দশক সময়ে আলির ক্যারিয়ার যখন মধ্যগগনে, সেই সময়ে বক্সিং রিং এবং এর বাইরের জীবন নিয়েই এই সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।


৩০# সাঞ্জু (২০১৮) সিনেমায় সঞ্জয় দত্ত চরিত্রে রনবীর কাপুর

 

বলিউড ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের বৈচিত্র্যময় জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। ৯৩ সালের মুম্বাই বোমা হামলার সাথে সঞ্জয় দত্তের জড়িত থাকার অভিযোগ, আদালত, জেল, অভিনয় ক্যারিয়ারে উথান-পতন, মাদকের সংস্পর্শে আসা এসব নিয়েই এই সিনেমাটি। 'সাঞ্জু'তে রনবীর কাপুরের অভিনয় হয়েছিল তুমুল প্রশংসিত।

৪৩৩ পঠিত ... ১৫:১৯, জুন ১৯, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top