মুড়ি মাখানোতে জিলাপি দেয়া উচিত নাকি না? জেনে নিন জনগণের মতামত

২১৯ পঠিত ... ১১:৪৩, মে ২১, ২০১৯

গত ১০ মে (শুক্রবার) এক ঐতিহাসিক নির্বাচনের আয়োজন করে eআরকি। চলতি সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ‘মুড়ি মাখানোয় জিলাপি গ্রহণযোগ্য কি না?’ এমন প্রশ্নে আয়োজিত এই গণভোটে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে দেশের সর্বত্র। এই নির্বাচনে ১৭ হাজার ভোট পেয়ে প্রায় এক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছে মুড়ি মাখানোয় জিলাপি সমর্থকগোষ্ঠী। সুষ্ঠু নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশংসিত হয়েছে eআরকিও।

তবে এক সপ্তাহব্যাপী চলা এই গণভোট এতটা সহজে হয়ে যায়নি। ১০ মে দুপুরবেলা ভোটগ্রহণ শুরু করেন eআরকির প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রথম দিনেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে পোলটি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভোট দিতে থাকেন। প্রথম দিন শেষে দুই পক্ষেই সমান সমান ভোট ছিল। কখনো ‘ব্যক্তিস্বাধীন জিলাপি’ সমর্থনকারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন, তো কখনো ‘মুড়ি মাখানোয় জিলাপি’ সমর্থনকারীরা এগিয়ে গেছেন।

নির্বাচনের প্রথম দিনগুলোতে মুড়ি মাখানোতে জিলাপি ফাইন ব্যাপার বলা মানুষেরা প্রচার প্রচারণায় তুমুল ব্যস্ততা দেখিয়েছেন। এ নিয়ে নির্বাচন চলাকালে বিপক্ষ দল সমর্থনকারী এক কর্মী বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এক শ্রেণির মানুষ প্রচুর অবৈধ্য অর্থের ছড়াছড়ি করে রেখেছে। সাধারণ ভোটাররা অর্থ ও পেশীশক্তির কাছে জিম্মি হয়ে মুড়ি মাখানো-জিলাপি ফাইন ব্যাপার বলতে বাধ্য হচ্ছে।’ তবে এসব অভিযোগ খুব একটা হালে পানি পায়নি।

গণভোট চলাকালে মুড়ি মাখানোয় জিলাপির বিরোধীরা প্রতিপক্ষকে ‘পিশাচ’ বলে সম্বোধন করতেও দেখা গেছে। অনেকেই জিলাপির পাশাপাশি বুন্দিয়ার (নাকি বুরিন্দা?) কথাও উল্লেখ করে মুড়ি মাখানোতে মিষ্টি সমর্থন করা সবার প্রতি ভর্ৎসনা করেছেন। এক তরুণী মন্তব্য করেন, ‘একজনের উপর ক্রাশ ছিল। কিন্তু সে মুড়ি জিলাপির পক্ষে ভোট দিয়েছে। এখন আর কোন ক্রাশ নাই।’ শিঙাড়ায় বাদাম এবং কাচ্চিতে এলাচের সাথেও মুড়ি মাখানোতে জিলাপির তুলনা করা হয়।

তবে জিলাপি মুড়ির পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের স্বাদ ও স্বাদের বৈচিত্র্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জাকিয়া ইয়াসমিন শাম্মা বলেন ‘শুধু মুড়ি কেন? পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া, পেঁয়াজ, মরিচ, সরিষার তেল দিয়ে মাখানো মুড়ির মাঝে হাত দিয়ে কুটি কুটি করে ছড়িয়ে দিতে হবে জিলাপি। এর বিপক্ষে যারাই যাবে তারা স্বাদ এবং স্বাদের বিবেকের কাছে চিরকাল প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। ভোট ফর মিক্সিং জিলাপি উইথ মুড়ি!’

কেউ কেউ মুড়ি মাখানোতে জিলাপি দেওয়ার বিষয়টিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মুড়ি মাখানোয় জিলাপি নয়, তারা দাবি করেছেন জিলাপিতে মুড়ি দেওয়ার জন্য।

যখন ৫১% ভোট পেয়ে মুড়ি জিলাপি ঐক্যজোট এগিয়ে ছিল তখনই গণভোটের পোলটি আবার সবার উদ্দেশে শেয়ার দেওয়া হয় ১৫ মে (বুধবার)। তখন পর্যন্ত ভোট ছিল ২১ হাজার। তবে শেষ দুই দিনে আরও প্রায় ১২ হাজার ভোট কাস্ট হলে শেষে গিয়ে মোট ভোট দাঁড়ায় সাড়ে ৩৩ হাজারে। eআরকি নির্বাচন কমিশন একেবারে সঠিক সংখ্যা না জানালেও প্রায় ১ হাজার ভোটের ব্যবধান রয়েছে দুই পক্ষের।

নির্বাচন নিয়ে উৎফুল্ল ছিল সবাই। নির্বাচন প্রসঙ্গে তানভীর খালেদ বলেন ‘গত এক যুগে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকাঙ্খিত নির্বাচন! জাতির বড় একটি বিতর্ক এই নির্বাচনের মাধ্যমে সমাধান হতে যাচ্ছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব আপনার মূল্যবান ভোট প্রদান করে এ নির্বাচনকে অর্থবহ করা।’

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হলেও পরাজিত দল নির্বাচন মেনে নিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যা এক অভূতপূর্ব ঘটনা। তবে পরাজিতদের পক্ষ থেকে একে অভিহিত করা হয়েছে ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে’ বলে। আর জয়ীরা বাকিদের আহ্বান জানিয়েছেন, বিভেদ ভুলে মুড়ি-জিলাপির পতাকাতলে আসার।

মুড়ি ও জিলাপি সংক্রান্ত গণভোটটি দেখতে পারবেন এখানে।

eআরকির পরবর্তী পোল ‘আলিফ লায়লা নাকি গেম অফ থ্রোনস?’-এ ভোট দিয়ে আসতে পারেন এখান থেকে।

২১৯ পঠিত ... ১১:৪৩, মে ২১, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top