অনলাইনের জনপ্রিয় চরিত্র গ্রাম্পি ক্যাট হারিয়ে গেলো অফলাইন থেকে

১৬২ পঠিত ... ১৬:৫৫, মে ১৮, ২০১৯

গত ১৪ মে (মঙ্গলবার) মারা গেছে অনলাইন সেনশেসন টার্ডার সস। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে ৭ বছর বয়সেই মৃত্যুবরণ করেছে এই আমেরিকান। শুক্রবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে ইন্টারনেট ভেঙে পড়ে সবার শোক প্রকাশে। আমাদের সবার চেনা এই মুখের মৃত্যুর খবর আপনাকেও নিশ্চয়ই খানিকটা ব্যথিত করবে। এটুকু পড়ে হয়ত অনেকেই কিছুটা অবাক হচ্ছেন। এই নামের কাউকে হয়ত এখনো মনে করতে পারছেন না। তবে যদি বলি এই টার্ডার সসই হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় বিড়াল গ্রাম্পি ক্যাট তাহলেই চিনে ফেলার কথা প্রায় সকলের। আর গ্রাম্পি ক্যাট নামেও যদি না চিনে থাকেন, তাহলে নিচের ছবিটি দেখে এতক্ষণে নিশ্চয়ই চিনে ফেলেছেন বিড়ালটিকে। 

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে সবসময়ই বিড়াল খুব জনপ্রিয় এক চরিত্র। যে কারো ফেসবুক নিউজ ফিড স্ক্রল করতে থাকলে কিছুক্ষণ পরপরপই একটা দুটো বিড়ালের ছবি, মজার ভিডিও আসবেই। বলা হয়ে থাকে, বিড়াল প্রাণিটা না থাকলে অনলাইন বেশ অনেকটাই রঙ হারাত। মজার মজার ছবি ভিডিওর জন্য বিড়াল জনপ্রিয় হলেও ২০১২ সালে একটি বিড়ালের বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকা ছবি অনলাইনে প্রকাশিত হলে কোন এক অদ্ভুত কারণে ছবিটি ভাইরাল হতে থাকে সব সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনরা এর নাম দেয় গ্রাম্পি ক্যাট। এই নামের আড়ালে কোথায় যে হারিয়ে যায় তার আসলে নাম।

যারা মিম বানায় তাদের কাছে প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়ে পড়ে গ্রাম্পি ক্যাট। কোন মিমে বিরক্তি, অনাগ্রহ, অভক্তি এবং কাছাকাছি যেকোনো এক্সপ্রেশন বোঝাতে গেলে যে কারোই সবার প্রথমে মনে পড়বে এই বিড়ালের কথা। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে মোটামুটি বিচরণ আছে অথচ কখনোই গ্রাম্পির ছবি দেখেনি, এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। শুধু কি মিম? টিভি, সিনেমা থেকে শুরু করে গ্রাম্পি ক্যাটকে দেখা গেছে টিশার্ট, গ্লাস-মগসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যে। আর এসব দিয়ে গ্রাম্পি ক্যাট হয়ে গেছে এক মিলিয়নিয়ার বিড়াল।

বেজার মুখের বিড়ালটি আশীর্বাদ হয়েই এসেছিল তার ‘হুম্যান’ (মালিক) তাবিথা বুন্দসেনের জন্য। পেশায় ছিলেন একটি ক্যাফের ওয়েট্রেস। কিন্তু গ্রাম্পি ক্যাটের ছবি ভাইরাল হতে থাকলে, খুব বেশিদিন আর এই কাজ করতে হয়নি। নানানভাবে গ্রাম্পির কল্যাণে অর্থকড়ি আসতে থাকে। একটি আমেরিকান কফি কোম্পানির কাছ থেকেই কপিরাইট মামলায় জিতে নিয়েছিলেন ৭ লাখ ডলার। অপরাধ ছিল, তারা ‘গ্রাম্পুচিনো’ নামের একটি কফি আইটেমের অনুমতি নিয়ে আরও অনেকরকম পণ্য বিক্রি করছিল।

বিড়ালের গড় আয়ু ১০-১২ বছর হলেও গ্রাম্পি একটু আগেই যেন চলে গেল। তাই টুইটার, ফেসবুকে মিমাররা নিজেদের পছন্দের ‘গ্রাম্পি মিম’ শেয়ার দিয়ে শোক জানাচ্ছেন। গ্রাম্পির জন্য শোক জানিয়েছে আরেক বিড়াল, বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র গারফিল্ড।

গ্রাম্পি ক্যাটের জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল সেটি বোঝা যায় কিছু তথ্যে। ২০১৫ সালে মাত্র ৩ বছর বয়সে সান ফ্রান্সিসকোর মাদাম তুসো জাদুঘরে তার একটি মোমের মূর্তি স্থান পায়। ইনস্টাগ্রামে গ্রাম্পি ক্যাটের ফলোয়ার ২ মিলিয়নের বেশি মানুষ, ফেসবুকে ৮ মিলিয়ন। অ্যারিজোনার এই বিড়াল একবার গিয়েছিল বিবিসিতেও।

১৬২ পঠিত ... ১৬:৫৫, মে ১৮, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top