পরীক্ষার ফল যখন ফলের ঠোঙা হয়ে ফিরে আসে

৪২২ পঠিত ... ১৮:৩০, মে ১২, ২০১৯

কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়... হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে’। ট্রামের আঘাতে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি কোন শালিক হয়ে তিনি এসেছেন কিনা, তা জানা না গেলেও সম্প্রতি এমন ভিন্নরূপে ফিরে আসার

পরীক্ষা যেমনই হোক, শেষ হওয়া পরীক্ষার খাতার মুখ আবার কেউ দেখতে চায় বলে কোথাও শোনা যায় নি। কিন্তু সেই পরীক্ষার খাতা যদি কোন প্রাক্তনের মতো আবার আপনার সাথে দেখা করতে চলে আসে, তাহলে কেমন লাগবে? সম্প্রতি এমনই ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশন অফ বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষার্থী সালমান খান নাসিফ।

তার গত বছরের সাইকোলজি কোর্সের একটি মিড টার্ম থেকেই  এ ঘটনার শুরু। ১৫ নাম্বারের এই পরীক্ষাটিতে সালমান ১২.৫ নাম্বার পেয়ে বেশ ভালো ফলাফলই করেন বলা যায়। তাই এই মিড টার্ম তার মনের আড়ালেই চলে যায়। কিন্তু নিয়তি এই পরীক্ষার খাতাটিকে তার চোখের আড়াল হতে দেয় নি। ২০১৮ সালের এই খাতাটিই তার হাতে আবার আসে ২০১৯ সালে। কিন্তু এই এক বছরের ব্যবধানে তা পরীক্ষার খাতা নয়, রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছে ফলের ঠোঙ্গায়।

সম্প্রতি সালমান তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন ঠোঙ্গা-ভরা একগুচ্ছ ছোট ছোট কমলার ছবি। ঠোঙ্গাটির ঠিক উপরেই তার পূর্বজন্মের পরিচয় বহন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএর মিড টার্মের হেডিংটি। আইবিএ ছাত্রের হাতেই আইবিএর পরীক্ষার খাতা- বিষয়টি যথেষ্ট চমকপ্রদ। কিন্তু আরেকটু খুঁটিয়ে দেখলে আবিষ্কার করতে পারবেন, এইরকম কাকতালীয় ঘটনা হয়তো শতাব্দীতে একবার ঘটে! ২০১৮ সালের সাইকোলজি মিড টার্মের এই খাতাটিতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন স্বয়ং তিনিই। বাংলা সিনেমার মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাইবোনের মতো সেই ভুলে যাওয়া খাতাকে আবার হাতে পেয়ে তিনি তেমনই আবেগপ্রবণ হয়েছেন কিনা তা জানা না গেলেও, ক্যাপশনে ‘দুনিয়াটা বড় আজব’ বলে উঠেন। এমন কাকতালীয় ঘটনা দেখে এমনই অনুভূতি হয় আমাদেরও।

এই ছবি দেখে আশ্চর্য হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই তার পরীক্ষার নাম্বার, এমনকি মিডটার্মে শুন্যস্থান পূরণ কেন, এসব প্রশ্ন করছেন তাকে। এছাড়া এমন ঘটনা দেখে ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের মনে জেগে উঠেছে শঙ্কার ছায়া। রিসাইকেলিংয়ের চক্রে পড়ে যদি অন্যদেরও নিজ নিজ পরীক্ষার খাতা বাসায় চলে আসে- এ ভয়ে অনেকেই আবার ফিরে যেতে চাইছেন পলিথিনের ব্যবহারে।

এমন ঘটনা দেখে মনে হয়, পৃথিবীটা সম্ভবত এই ঠোঙ্গার ছোট কমলালেবুর মতোই ছোট। হোয়াট গোস এরাউন্ড, কামস এরাউন্ড।

৪২২ পঠিত ... ১৮:৩০, মে ১২, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top