ফটোসেশন করতে গিয়ে তোপের মুখে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

১৩১ পঠিত ... ১৭:৪৯, মে ০৪, ২০১৯

নানা কারণে দেশ-বিদেশের মানুষজন প্রশংসায় সিক্ত করেন ‘তরুণ’ কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে। সাধারণ জীবন যাপন, দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের অধিকার নিয়ে সচেতনতা কিংবা সমকামীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া, ইত্যাদি নানা কারণে ট্রুডো বিশ্ব মিডিয়ার খবরে আসেন। তবে নিজ দেশেই প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রায় চার বছর কাটিয়ে ফেলা ট্রুডোকে নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়। সম্প্রতি আরেকবার ট্রুডো আলোচনায় এসেছেন কানাডার রাজধানী অটোয়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নিতে গিয়ে।  

ভাবছেন হয়ত, প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নেওয়ার কারণে হয়ত আরেক দফা প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু ব্যাপারটি পুরোপুরি উল্টো। গত কিছুদিন ধরে অটোয়ায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্যার পানি যখন ক্রমশ বেড়ে চলছে তখন গত ২৭ এপ্রিল জাস্টিন ট্রুডো গিয়েছিলেন বন্যা কবলিত এক এলাকায়। বন্যার পানি ঠেকাতে সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা লাইনে দাঁড়িয়ে বালুর বস্তা সংগ্রহ করে ফেলে আসছিলেন। এই স্বেচ্ছাসেবকদের লাইনে তার সকল প্রটোকল এবং ফটোগ্রাফার দল নিয়ে যান এই ভিআইপি। অন্য কোথাও হলে হয়ত, এমন ভিআইপিকে পাশে পেয়ে খুশিই হতেন বাকিরা। তবে অটোয়ায় ঘটে ভিন্ন ঘটনা।

স্বভাবতই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কিছুটা ভিড় সৃষ্টি হয় সেখানে। এর ফলে বালুর ট্রাক ঠিকমত ঢুকতে পারছিল না। তার উপর ভিড়ের কারণে অন্যান্য ভলান্টিয়াররাও ঠিকমত বালু সংগ্রহ করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে ট্রুডো ছবি তুলছিলেন কিছু কর্মীকে সাথে নিয়ে। সেই সময় হুট করেই এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক এসে বেশ উত্তেজিত স্বরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলে ওঠেন, ‘আপনি কি জানেন কতক্ষণ ধরে আপনি মানুষজনকে আটকে রেখেছেন? আমি আধা ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি বালুর বস্তা নেওয়ার জন্য! আর এই সময়টায় আপনি ব্যস্ত ক্যামেরায় আসার জন্য।’

ট্রুডো সম্ভবত কথা না বাড়াতেই সেখান থেকে সরে যাচ্ছিলেন এবং তার দলের একজন এই প্রৌঢ়কে আলতো করে ঠেলে পিছনে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি বলে ওঠেন, "এটা একটা ‘ফ্রি কান্ট্রি"। আর সে আমার কথাকে পাত্তাই দিচ্ছে না।’ তখন সম্ভবত বাধ্য হয়েই ট্রুডোকে থামতে হয় এবং কথা বলতে আসতে হয়। উত্তেজিত এই ভদ্রলোক তখন অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ কেউ বালু নিতে পারবে না। আপনি, আপনার সিকিউরিটি আর পুলিশ সবাইকে আটকে রাখবে।’ তার অভিযোগ ছিল, ট্রুডো সেখানে গিয়েছেন শুধুমাত্র ফটোসেশনের জন্যই।

এই পর্যায়ে ট্রুডো নিজেও এখানে কাজ করতেই এসেছেন এমন কথা বললেও স্পষ্টতই খুশি করতে পারেননি অভিযোগকারীকে। ট্রুডোর ভাষ্য ছিল যে, তিনি আসায় আরও বেশি কানাডিয়ান এবং যুবকরা উদ্বুদ্ধ হবেন এই কাজে। আর ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী সহকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিরাপত্তারক্ষীরা কোন ট্রাক বা মানুষকে আটকে রাখেননি।

অবশ্য ছবি তুলতে বেশ পছন্দ করা ট্রুডো এখানে সেখানে পরিকল্পিতভাবে ‘ফটোবম্ব’ হিসেবে কাজ করেন এমন অভিযোগ বেশ পুরনোই। তার উপর মিডিয়ার দৃষ্টি নিজের দিকে রাখা নিয়েও ব্যস্ত থাকেন তিনি, এমন অভিযোগও করেন অনেক কানাডিয়ান। তাই প্রধানমন্ত্রী ভলান্টিয়ার হয়ে ফটোসেশন করতে গিয়ে হলেন সমালোচনার শিকার।

১৩১ পঠিত ... ১৭:৪৯, মে ০৪, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top