সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া অফিসের জারি করা বিপদ সংকেতগুলোর অর্থ জেনে নিন

১৯৭ পঠিত ... ১৫:৪৬, মে ০২, ২০১৯

বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে ছোট- বড় নদী বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। ঝড়- ঝঞ্ঝার সাথে প্রায়ই মুখোমুখি হয়ে বেঁচে থাকতে হয় এ দেশের মানুষকে। সাইক্লোন- জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটাও দেশের মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। সত্তর- একানব্বইয়ের মতো অনেক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন করেছিলো দেশের উপকূল। এখন বাংলাদেশ এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও, মানুষের সচেতনতার উপর নির্ভর করে কতটা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

ভারতের পূর্ব উপকূলে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে প্রায় চার মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। ভারতে আঘাত হানার পর সেটি বাংলাদেশের উপর দিয়েও যেতে পারে। এর কারণে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও মংলা বন্দরে যথাক্রমে ৬ ও ৭ নং বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় এমন বিপদ সংকেত দেখলেও তা আসলে কী বোঝায়, তা আমরা সবাই জানি না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আবহাওয়া অফিস থেকে সমুদ্রবন্দরে জারি করা ১ থেকে ১১ নং সতর্কতা সংকেতেরর সংক্ষিপ্ত অর্থ দেয়া হলো এখানে:

 

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত

জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

 

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত

দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

 

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত

বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।

 

৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত

বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

 

৫ নং বিপদ সংকেত

বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 

৬ নং বিপদ সংকেত

বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 

৭ নং বিপদ সংকেত

বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 

৮ নং মহাবিপদ সংকেত

বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশী হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

 

৯ নং মহাবিপদ সংকেত

বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশী হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

 

১০ নং মহাবিপদ সংকেত

বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

 

১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত

আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

 

১৯৭ পঠিত ... ১৫:৪৬, মে ০২, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top