মানুষের কাঁধে চড়ে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ালো এক মুরগি

১১৫ পঠিত ... ২০:১২, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

ঘুরতে যাওয়া বা ভ্রমণ কিংবা ট্র্যাভেলিং, যে নামই দিই না কেন, আজকের যুগে এসে কতটা জনপ্রিয় তা বুঝতে ফেসবুকের নিউজফিডের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। অবশ্য অজানাকে জানার এবং দেখার নেশা মানুষের সেই আদিকাল থেকেই ছিল। ইবনে বতুতা, হিউয়েন সাং, কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা কিংবা গল্পের ফিলিয়াস ফগ, পৃথিবী চষে বেড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাই নিয়েছেন তারা। শুধু কি মানুষ, পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ায় অগণিত সামুদ্রিক প্রাণি আর পাখি। প্রতি শীতেই দূর-দূরান্ত থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে উড়ে আসে অসংখ্য অতিথি পাখি। তাই পাখিদের বিশ্বভ্রমণের ব্যাপারটি আমাদের কাছে খুব একটা নতুন না। তবে যদি আপনাকে বলা হয়, একটা মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে দুনিয়া! ভাবছেন, নিশ্চয়ই কোন অ্যানিমেশন ফিল্মের কথা বলছি? না, সত্যি সত্যিই একটি মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে পুরো দুনিয়া।

গত পাঁচ বছর মনিক নামের এই মুরগি এবং তার পালক গুইরেক সোদি জলপথে পৃথিবী ভ্রমণ করে বেড়িয়েছেন। যদিও ভ্রমণের অধিকাংশ ঝামেলাই পোহাতে হয় গুইরেককে। তবুও প্রচণ্ড ঠান্ডা আর গরম আবহাওয়া সহ্য করে দিনের পর দিন মনিকের টিকে থাকাটাকেও অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। তবে ডেকে বসে দৃশ্য উপভোগ করা ছাড়া মনিকের আর কোন কাজ নেই, এমনটাও ভাবার কোন কারণ নেই। মনিক নিয়মিত ডিম পেড়ে সঙ্গী গুইরেকের বেশ উপকার করে যাচ্ছে।

২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তাদের এই পথচলা শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এসে শেষ হয়। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চল থেকে শুরু হয় তাদের যাত্রা। এরপরে ক্যানারি আইল্যান্ড থেকে স্পেনের কিছু অঞ্চল হয়ে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলসহ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু অব্দি প্রায় ৪৫ হাজার মাইল এক সঙ্গে ভ্রমণ করেছে এই জুটি।

আরও অনেক প্রাণী থাকতে কেনই বা একটা মুরগিকে বেছে নিলেন গুইরেক, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন 'ঘোরাঘুরির জন্য মুরগিই সবচেয়ে আদর্শ প্রাণী। মুরগিকে বেশি দেখাশোনা করার দরকার হয় না এবং এর থেকে আমি ডিমও পাই নিয়মিত। লোকজনে আমাকে বলেছিল যে ওকে নিয়ে আমার কোন উপকার হবে না। তারা বলেছিল মনিক দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ডিম পাড়া বন্ধ করে দেবে। অথচ তেমন কোন সমস্যাই হয়নি, ডিম পাড়া বন্ধ করার কোন লক্ষণই দেখা যায়নি এবং খুব দ্রুতই আমার মুরগি নতুন নতুন সব পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে।’

ডিম পাড়ায় মনিক বেশ ভালোই করেছে বলতে হবে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ছয়টি করে ডিম দিয়েছে সে। আর খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়টা বোঝা যাবে একটি ঘটনায়। গ্রিনল্যান্ডের প্রচন্ড ঠান্ডায় এবং তিন মাসব্যাপী সূর্যহীন সময়েও মনিক ডিম দিয়ে গেছে নিয়মিত। তাছাড়া মনিক যে শ্রোতা ও বক্তা হিসেবে খুবই ভালো সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন গুইবেক। সিন্দাবাদের ভূত বা বিক্রমের কাঁধে চড়ে বসা বেতালের মতো মনিকও একরকম গুইরেকের কাঁধেই চড়ে বসেছিল। তবে এমন চমৎকার এক সঙ্গী কাঁধে চড়ে বসলে আপত্তির আর কী আছে! 

লেখা: জুবায়েদ দ্বীপ 

১১৫ পঠিত ... ২০:১২, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

আরও eআরকি

 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top