ওয়াসার পানির শরবত দিয়ে এমডিকে আপ্যায়ন করতে চান জুরাইনবাসী

৪২৯ পঠিত ... ১৪:৫২, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন জুরাইন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। মিজানুর রহমান এবং আরও কয়েজন জুরাইন নিবাসী একত্রিত হয়ে কারওয়ান বাজারের ঢাকা ওয়াসার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে এমন অভিনব প্রতিবাদ করেন। অবশ্য পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানে শরবত খাওয়ার হাত থেকে ‘বেঁচে’ গেছেন এমডি।

গত ১৭ এপ্রিল টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়াসার নিম্নমানের পানির কারণে ৯১% গ্রাহক তা ফুটিয়ে পান করেন এবং এতে বছরে প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস পোড়ে। এই প্রতিবেদনকে উড়িয়ে দিয়ে ২০ এপ্রিল ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। এই বক্তব্যে ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ওয়াসার এমডির বক্তব্য নিয়ে নানান সমালোচনা চলে।

শহরের অন্যান্য এলাকার তুলনায় দক্ষিণ ঢাকার জুরাইনে দীর্ঘদিন ধরেই সুপেয় পানির সংকট অনেক তীব্র। তাই এমডির বক্তব্যের জের ধরে ২৩ এপ্রিল (বুধবার) জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে শিশুসহ ৫ জন বেলা ১১টার দিকে অবস্থান নেন ওয়াসার কার্যালয়ের সামনে। তারা আসেন জুরাইনে ওয়াসার সরবরাহকৃত ‘সুপেয়’ পানি দিয়ে বানানো শরবত দিয়ে এমডিকে ‘আপ্যায়ন’ করতে। এ সময় তাদের হাতে ‘দূষিত পানির দায় নিতে হবে’, ‘আর কতকাল কালাপানি খাওয়াবেন’, ‘পানি দাও, ময়লা না’ ইত্যাদি স্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পাঁচ জুরাইনবাসীর অবস্থানের বিপরীতে ওয়াসার গেটে অবস্থান নেয় ডজনখানেক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য।

কাচের জগে জুরাইন থেকে আনা ওয়াসার অস্বচ্ছ পানি দেখিয়ে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, এর চাইতেও নোংরা পানিও কখনো কখনো তারা পান। খাওয়ার কাজে এসব পানি কোনভাবেই ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে সাড়ে তিন হাজার মানুষের স্বাক্ষর সহ চল্লিশ বছরের পুরনো পাইপলাইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন ওয়াসা বরাবর। এখনো পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এমডিকে তার দাবি করা ‘সুপেয়’ ওয়াসার পানির শরবত খাওয়াতে এসেছেন তারা।  

বেশ অনেক অপেক্ষার পর অবশেষ ওয়াসা কার্যালয়ে ঢুকতে পারলেও তাকসিম এ খানের সাথে সাক্ষাত করতে পারেননি তারা৷ বরং ওয়াসার একজন প্রকৌশলীর সাথে দেখা করার সুযোগ হয়। তাকেও এই ‘সুপেয়’ পানির শরবত খাওয়াতে চাইলে এই আতিথেয়তা না নিয়ে তিনি বলেন ‘আজকে শরবত খাব না, লাইন ঠিক করে শরবত খাব।’ পানির লাইনের উপরই সকল দোষ চাপিয়ে ওয়াসার শতভাগ সুপেয় পানি খাওয়ার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন তিনি।

সচরাচর কোথাও অতিথি হয়ে গেলে, শরবত দিয়ে শুরুতেই অতিথিদের আপ্যায়নের রীতি আমাদের দেশে অনেক পুরনো। তবে নিজেরাই শরবত নিয়ে গিয়েও এমডির সাথে দেখা করতে পারলেন না। জুরাইনবাসীরা নিশ্চয়ই কিছুটা হতাশ!  

৪২৯ পঠিত ... ১৪:৫২, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top