ভোট চাইতে এসে জুটলো জুতার মালা

৪৯৩ পঠিত ... ১৯:৫০, এপ্রিল ১৬, ২০১৯


ভারতজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। গত ১১ এপ্রিল শুরু হওয়া জাতীয় লোকসভা নির্বাচন সাত ধাপে শেষ হবে ১৯ মে। বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশেও আলোচনায় আসছে ভারতের নির্বাচন। সম্প্রতি ভারতের একটি নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যেখানে দিনে দুপুরে এক ভোটপ্রার্থীকে জুতার মালা পড়িয়ে দেন এক ভোটার।

এটি অবশ্য চলতি নির্বাচনের কোন ঘটনা না। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এই ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার ধামনদ এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনীতিবিদ দীনেশ শর্মা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন দরজায় দরজায় গিয়ে ভোট চেয়ে। গলায় সুন্দর এক ফুলের মালা নিয়ে দলবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সবাইকে প্রণাম করে ভোট চাইতে গিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করেন এক বৃদ্ধ মহাউৎসাহে তার গলায় পরিয়ে দিচ্ছেন জুতা দিয়ে গাঁথা এক মালা!

 


অবশ্য এ নিয়ে দীনেশ শর্মা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেননি। তিনি পরে এই ‘অভ্যর্থনা’ নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তার সন্তানের মতো। নিশ্চয়ই কোন একটা ব্যাপার নিয়ে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন, তাই এমন করেছেন। আমরা একসাথে বসে কথা বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’ আর ‘অভ্যর্থনাকারী’ এমনটা করার কারণ হিসেবে জানান, ‘আমাদের এলাকায় তীব্র পানির সংকট। আমাদের মহিলারা বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। বরং পুলিশ বারবার অকারণে থানায় ডেকে নিয়ে হেনস্থা করেছে। এর বিরুদ্ধেই আমার এই প্রতিবাদ।’  

নির্বাচনে এই ব্যক্তি জিতেছিলেন কি না তা না জানলেও এই ঘটনার প্রায় বছরখানেক পর এই মধ্যপ্রদেশেই ঘটে যায় জুতার মালা সংক্রান্ত আরেক কীর্তি। কোন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি নয়, এই অভ্যর্থনার ‘শিকার’ একেবারে মধ্যপ্রদেশের আইনসভার সদস্য। ২০১৮ সালের নভেম্বরে নির্বাচনকে সামনে রেখে মধ্যপ্রদেশের নাগাদায় আগাম প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এমএলএ দিলীপ শেখাওয়াত।


একটি সমাবেশে সবার সাথে কুশল বিনিময় করছিলেন দিলীপ। তখন তার গলায় শোভা পাচ্ছিল সুদৃশ্য ফুলের মালা। কিন্তু আচমকা এক ভদ্রলোক একটি জুতার মালা পরিয়ে দেন দিলীপের গলায়। অবশ্য দিলীপ শেখাওয়াত মোটেই দীনেশ শর্মার মত শান্ত ছিলেন না। তৎক্ষণাৎ তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার ভিডিওটি এই মারামারি চলার মাঝেই শেষ হয়ে যায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হতেই পারে মধ্যপ্রদেশে রাজনীতি করাটা মোটেও সহজ কিছু না। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের হয়ে রাজনীতি করতে গেলেও না!

৪৯৩ পঠিত ... ১৯:৫০, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top