বিটলস বাংলাদেশে থাকলে হয়তো তাদের রাস্তা পার হতে গিয়েই মরতে হতো!

৮৯৯ পঠিত ... ১৭:১২, মার্চ ১৯, ২০১৯

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত ‘অ্যাবি রোড’ অ্যালবামের বিখ্যাত কভার ছবিটি ছিলো, চারজন বিটলের একটি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন স্টুডিওর দিকে। ছবিটিতে বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের চার সদস্যকে দেখা যায় নির্ভয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। রাস্তা পারাপারের জন্য পুরো বিশ্বেই জেব্রা ক্রসিংকে ব্যবহার করা হয় নিরাপদ এক মাধ্যম হিসেবে। তবে আরও অনেক কিছুর মতো বাংলাদেশেও যেন বদলে গেছে জেব্রা ক্রসিং-এর ভূমিকা। ১৯ মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটকের সামনের জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হবার সময় দুটি মাসের মাঝে পড়ে মারা যান এক শিক্ষার্থী।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবরার আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস-এর প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় ঐ রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের দুটি বেপরোয়া বাসের মাঝে পড়ে যান তিনি। রক্তে রঞ্জিত হয় জেব্রা ক্রসিংয়ের সাদা অংশ।

ঢাকা শহরে সড়কে এমন মৃত্যু নতুন কিছু না। এর আগে ২০১৮ সালের এপ্রিলে দুই বাসের চাপায় হাত কাটা পড়ে তিতুমীর কলেজের এক ছাত্রের। তিনি বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাত অন্য একটি বাস একেবারে কাছ ঘেঁষে চলে গেলে হাত কাটা পড়ে তার। ঐ বছরের ২৯ জুলাই ঢাকায় একটি বেপোরোয়া বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই শিক্ষার্থী। বাসের অপেক্ষায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাকালে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় প্রাণ হারান ঐ দুই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার জের ধরে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছিল সাধারণ মানুষের মনে। অনেক আশ্বাসের পর কিছুটা সংশোধিতও হয়েছিল আইন। আন্দোলনের পরপর কিছুদিন শহরের রাস্তায় যানবাহনের নিরাপদ চলাচল দেখা গেলেও পুরনো অবস্থায় ফিরতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর এসেছে একের পর এক।

 

অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যাচ্ছে, ঢাকা শহরে মানুষ নিরাপদ নয় বাসের ভিতরে, নিরাপদ নয় ফুটপাথে বা রাস্তার পাশে, এমনকি নিরাপত্তা নেই জেব্রা ক্রসিংয়েও। সে কারণেই হয়ত উত্তর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন দুর্ঘটনাস্থলে নিহতের নামে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের। এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনার পর এমন ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের ঘোষণা এসেছিল। অবশ্য ঢাকায় প্রতিনিয়ত যত দুর্ঘটনা ঘটছে, তাতে প্রশাসনকে হয়ত বছরজুড়েই ওভারব্রিজ নির্মাণ করে যেতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা আনার চাইতেও সম্ভবত ওভারব্রিজ বানিয়ে ফেলা সহজ কাজ কর্তাব্যক্তিদের কাছে। অবশ্য এতে করে ঢাকা হয়ে উঠতে পারে ওভারব্রিজের শহর।

অবশ্য আমাদের দেশে ফুটওভারব্রিজের যে আধিক্য দেখা যায়, অধিকাংশ উন্নত দেশের শহরগুলোতেই এমনটা আপনি দেখবেন না। সেসব শহরে জেব্রা ক্রসিংই (ক্ষেত্রবিশেষে আন্ডারপাস) রাস্তা পারাপারের জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমনটা লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারের অ্যাবি রোডে করেছিলেন জন লেনন, জর্জ হ্যারিসন, পল ম্যাকর্টনি এবং রিঙ্গো স্টার। বাংলাদেশের একটি ব্যান্ড হলে হয়ত বিটলসের ঐ ফটোশুটই শেষ করা হত না। রাস্তা পার হতে গিয়েই হয়ত মরে যেতে হতো লেনন, হ্যারিসনদের। ‘অ্যাবি রোড’ই হতে পারত শেষের অ্যালবাম। অ্যালবামের কভারে হয়ত থাকত বিটলদের রক্তে রঞ্জিত জেব্রা ক্রসিং।

৮৯৯ পঠিত ... ১৭:১২, মার্চ ১৯, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top