ক্যাম্পাসকে গেস্টরুম নির্যাতনের মতো আবর্জনা থেকে মুক্ত করতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের 'ময়লা উৎসব'

৮৬৮ পঠিত ... ১৬:৫০, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

টিএসসির বাইরে হাঁটতে হাঁটতে পেপার কাপে চা খাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাঈন। চা শেষ করে কাপটি ফেলার জন্য কোন ডাস্টবিন খুঁজে পাচ্ছিলেন না । সাথে থাকা আদনান এবং রমীমকে বললেন, ডাস্টবিনেই ফেলতে হবে এটি।  ক্যাম্পাসকে নোংরা করতে চান না। তখন আদনানের মনে হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এমন অনেক কিছুর অস্তিত্ব আছে যেগুলো আবর্জনার মতোই, সেগুলোও আসলে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া উচিত। তখনই তাদের মাথায় এলো এক ভাবনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের এইসব ‘আবর্জনা’ নিয়ে তারা করবেন প্রতীকী ময়লা উৎসব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণ শিক্ষার্থীরা হলেন পপুলেশন সাইন্স বিভাগের মাঈনউদ্দিন আহমেদ, ক্রিমিনোলজি বিভাগের আদনান আজিজ চৌধুরী এবং মার্কেটিং বিভাগের নাজমুল ইসলাম রমীম। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা থেকে টিএসসির প্রবেশমুখে কতগুলো ডাস্টবিন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন আদনান, মাঈন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কিছু শিক্ষার্থী। ডাস্টবিনগুলোর কোনটায় গেস্টরুম নির্যাতন, কোনটায় হেলমেট বাহিনী, তো কোনটায় ক্যান্টিনগুলোয় ডালের নামে যে পানি দেয়া হয় সেসবের মতো আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত অনেক বছর ধরেই অর্জনে যেন অনেকটাই ম্রিয়মাণ হয়ে আছে। আর এর বিপরীতে প্রাপ্তির খাতায় সব নেতিবাচক বিষয় যোগ হয়েই যাচ্ছে। নারী নিপীড়ন, হলগুলোয় ‘ম্যানার’ শেখানোর নাম করে গেস্টরুম করানো, হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে নিম্নমানের খ্যাবার, শিক্ষকদের হেনস্থা করা, ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষার্থীদের হাতে রড-চাপাতি আর মাথায় হেলমেট; এসব ঘটনায় দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলঙ্ক লেগেই যাচ্ছে। এখনো অর্জনের কথা বলতে গেলে বর্তমানহ শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নিতে হয় গৌরবময় ইতিহাসের, নিজেরাই যে গৌরব সৃষ্টি করবেন তার পথ যেন অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে আছে।

কথা এবং কাজের স্বাধীনতা নেই অনেকাংশেই। শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র যে সংগঠন, সেই ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না প্রায় তিন দশক। প্রশাসন যেন কানে ইয়ারফোন আর চোখে ভিআর বক্স পরে বসে আছে, শুনছে এবং দেখছে অন্য দুনিয়ার কিছু। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংকট যেন চোখে পড়ছে না। এমন সব ক্ষোভ থেকেই আয়োজকদের ভাষ্যে বিষয়টি অনেকটা এমন, ‘যেখানে সেখানে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ময়লা করে ফেলছেন আপনারা। অতীত সংগ্রামের ঐতিহ্যের বাহক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে আপনাকে চুপ থাকতে হবে। চুপ থাকতে থাকতে যদি মুখে থুতু জমে যায় তাহলে আসুন ময়লা উৎসবে। বাকস্বাধীনতা না দিতে পারলেও আমরা অ্যাস্থেটিক ডাস্টবিনে জঞ্জাল বিদায় করার বিকল্প দিতে পারি। সল্যুশন না দিলে ইল্যুশনে শান্তি হয়। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটান, ডাকসুর কাজ ডাস্টবিনে করেন। এক দলা থুতু দিয়ে যান।’

এই প্রতীকী ডাস্টবিনগুলো কিন্তু বাস্তবে প্রতীকী থাকছে না। গত দুইদিনে টিএসসিতে অবস্থান করা ছাত্র-ছাত্রীরা এবং দর্শনার্থীরা নিজেদের মতো করে দৃশ্যমান ময়লা-আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন, কেউ ঘৃণাভরে থুতু ফেলে যাচ্ছেন। আর প্রতি রাতেই ডাস্টবিনগুলোতে জমে ওঠা ঘৃণার পাহাড় পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এই শিক্ষার্থীদের আশা, সবাই চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে জমে থাকা ভয়ংকর সব আবর্জনাও পুড়িয়ে ফেলা যাবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিএসসিতে চলবে এই ময়লা উৎসব। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অংশেও ময়লা উৎসব নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে আয়োজক তরুণদের। পুরো আয়োজনে আদনান এবং মাঈনের সহযোগিতায় ছিলেন মেঘমল্লার বসু, মীম আরাফাত মানব, মাহমুদুল হাসান ইশাদীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থী। ফেসবুকে ময়লা উৎসবের ইভেন্টটি খুঁজে পাবেন এখানে। আপনিও চাইলে বইমেলা যাওয়া আসার পথে ময়লা উৎসবে যোগ দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করতে পারেন এই অভিনব উদ্যোগের সাথে।  

৮৬৮ পঠিত ... ১৬:৫০, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top