বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চির পরিচিত লোগোটি এঁকেছিলেন যিনি

৬১৮ পঠিত ... ১৬:২২, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

শহরের একটি অতি পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে রাস্তায় সুবিশাল সব বাস বইতে বোঝাই করে ছুটে চলছে। দেখলেই যে কেউ চিনে ফেলতে পারে, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ছুটে যাচ্ছে কোন এলাকার পড়ুয়া মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে। রাজধানীর বাংলা মোটরে সুবিশাল ভবন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, স্কুল-কলেজের সুবিশাল বই পড়া কর্মসূচি কিংবা ২৮ লক্ষ সদস্যের যে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান আমরা আজ দেখি এই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল খুবই ছোট পরিসরে। দশ জন তরুণ, একজনের কাছ থেকে বই কেনার জন্য পাওয়া ৩৪ টাকা সম্বল করে ১৯৭৮ সালে শুরু হয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা।

পরবর্তী সময়ে সুবিখ্যাত হওয়া সেইসব তরুণদের সাথে ছিলেন এক কিশোর। আঁকাআঁকি পছন্দ করা সেই কিশোরের কাঁধে পড়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মনোগ্রাম আঁকার ভার। এই কিশোরও পরবর্তী সময়ে এসে হয়েছেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনি হচ্ছেন মাসুক হেলাল। আলোক শিখার কথা মনে করিয়ে দেয়া যে লোগোটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আজও ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেটি প্রায় চার দশক আগে এঁকেছিলেন মাসুক হেলাল।

চল্লিশ বছর আগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একদম শুরুর দিনগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণায় মাসুক হেলাল বলেন ‘ইন্দিরা রো‌ডের এক‌টি ভাড়া বাড়িতে শুরু হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এক‌ সেট সাদা বে‌তের সোফা ছিল। সায়ীদ স্যার সন্ধ্যায় এসে বস‌তেন। আড্ডা হ‌তো ফাঁ‌কে, বাতাসা দি‌য়ে মু‌ড়ি খাওয়া হ‌তো। বিশ্ব সা‌হিত্য কে‌ন্দ্রের ভবিষ্যৎ প‌রিকল্পনা ফাঁ‌কে ফাঁ‌কে তুমুল আড্ডা।’

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গঠনের শুরুর দিকেই মনোগ্রামের কাজ দেয়া হয়েছিল মাসুক হেলালকে। আগেই শুনেছিলেন বিখ্যাত এক শিল্পীর আঁকা মনোগ্রাম বাতিলের খবর। তাই দায়িত্ব পেয়ে অনেকটা ভয়েই ছিলেন। সেই সময়টা নিয়ে তিনি বলেছেন ‘সালটা আশি/উনআশি হ‌বে। তখনই আমা‌কে বিশ্ব সা‌হিত্য কে‌ন্দ্রের জন্য ম‌নোগ্রামটা কর‌তে দেয়া হ‌য়ে‌ছিল। তখন আমার প্রায় কি‌শোর বেলা। আমি এক‌দিন ভ‌য়ে ভ‌য়ে ম‌নোগ্রামটা এঁকে নি‌য়ে গি‌য়ে‌ছিলাম। শুনলাম‌, একজন বিখ্যাত শি‌ল্পীর আঁকা ম‌নোগ্রাম বা‌তিল হ‌য়ে‌ছে। তখন মিজানুল কা‌য়েস ছি‌লেন বিশ্বসা‌হিত্য কে‌ন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক। আমার যদ্দুর ম‌নে প‌ড়ে, সে দিন, সে সময় আড্ডায় ছি‌লেন, ডা:‌ লিয়াকত, স‌লিমুল্লাহ খান, আনিসুল হক (মেয়র), আহমাদ মাজহার, লুৎফর রহমান রিটন, সুশীল সুত্রধর, এরা আমার বন্ধু । আমি ম‌নোগ্রামটা দেখাই। কেউ কেউ নি‌জেরাই ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন ম‌নোগ্রামটার। শু‌নে আমার পশম দাঁ‌ড়ি‌য়ে যায়। কি ব‌লে এরা! আমিতো এতো ভে‌বে আঁকিনি।’

শেষ পর্যন্ত মাসুক হেলালের করা মনোগ্রামকেই সবাই পছন্দ করে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ চূড়ান্ত রায়ে জানিয়ে দিলেন এটিই হবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মনোগ্রাম। সেই থেকে এখন পর্যন্ত এই লোগোটিই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচয় জানান দিয়ে যাচ্ছে। ইন্দিরা রোডের ভাড়া বাড়ি থেকে বাংলা মোটরের পরিত্যক্ত বাড়ি হয়ে আজকের দিনে বাংলা মোটরের সুবিশাল ভবনে এসেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। দীর্ঘদিন কেন্দ্রে যাননি মাসুক হেলাল। এরপর যেদিন আবার গেলেন, সেদিনটার কথা বলেছেন এভাবে ‘প্রায় পঁ‌চিশ বছর বিশ্ব সা‌হিত্য কে‌ন্দ্রে আমার আসা হয়‌নি। স্যার খবর পা‌ঠি‌য়ে‌ছেন, যে‌তে। বছর দু'য়েক আগে আসি, বাংলা মট‌রের বিশ্ব সা‌হিত্য কে‌ন্দ্রে। ভব‌নের উপর আমার আঁকা ম‌নোগ্রামটা দে‌খে, প্রথ‌মে চম‌কে যাই, অনেকক্ষণ তা‌কি‌য়ে থা‌কি। আমার চো‌খে পা‌নি চ‌লে আসে।’

৬১৮ পঠিত ... ১৬:২২, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top