সাংবাদিক নিখোঁজ, প্রতিবাদে ওয়াশিংটন পোস্টের এক কলাম নীরবতা

৩৬৯ পঠিত ... ১৮:১১, অক্টোবর ০৮, ২০১৮

প্রতিবাদ শুনলেই মিছিলে চিৎকারের কথাই সবার আগে আমাদের মাথায় আসে। ব্যানার-ফেস্টুনে লিখে রাখা কথা বা আঁকাবুকিও হতে পারে প্রতিবাদের শক্ত ভাষা। তবে কখনো কখনো শব্দহীনতাও হতে পারে প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার ৫ অক্টোবর সংখ্যাটি কোন শব্দ ব্যয় না করেই যেন অন্য রকম এক প্রতিবাদ করে।

সৌদি সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং লেখক জামাল খাশোগি স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন আমেরিকায়। সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক এই সাংবাদিক ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন তীব্রভাবেই। পরে গত বছরের জুনে সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স করা হলে একের পর এক বিরুদ্ধ মতপ্রকাশকারীদের গ্রেপ্তার করা হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জামাল খাশোগি সৌদি আরব ছেড়ে আমেরিকা চলে আসেন।

সেখানে বসেও তিনি নিয়মিত সৌদি সরকারের সমালোচনা করে যেতে থাকেন তার লেখায়। তিনি আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের নিয়মিত কলাম লেখক। গত ২ অক্টোবর তিনি ছিলেন তুরস্কে। তুরস্কে গিয়েছিলেন ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে তার বিবাহ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে আসতে। গত ২ অক্টোবর তিনি সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকলে পরে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ থাকার তৃতীয় দিনে শুক্রবার, জামাল খাশোগির নিয়মিত কলামের স্থলে ওয়াশিংটন পোস্ট জামালের একটি ছবি দিয়ে ইংরেজিতে ‘A missing voice’ শিরোনামে একটি কলাম ছাপে। কলামের পুরো অংশটি একেবারে সাদা রাখা হয়। কলামে একটি শব্দও ছিল না।

এই শব্দহীন প্রতিবাদ যেন অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুনের হাজার শব্দের সমান শক্তিশালী। অবশ্য আজ ৮ অক্টোবরেও জামাল খাশোগির কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রথমে আটকে রাখার ধারণা করা হলেও এখন প্রায় সবারই ধারণা সৌদি নীতির সমালোচক এই সাহসী সাংবাদিককে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে। তুরস্ক কর্তৃপক্ষ থেকে এমনটাই ধারণা করা হয়েছে। যদিও সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাকেই অস্বীকার করা হয়েছে। তবে সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে ২ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে ১৫ সদস্যের একটি দল ইস্তাম্বুলে উড়ে আসার ঘটনা প্রকাশিত হলে।

সাহসী ও স্বাধীনচেতা এই সাংবাদিক বিভিন্ন লেখার মাধ্যমেই আলোচনায় এসেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সাহসী কাজটি সম্ভবত জঙ্গিনেতা ওসামা বিন লাদেনের একাধিক সাক্ষাৎকার। তিনি ১৯৮৭ এবং ১৯৯৫ সালে দুই বার আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নেন। 

৩৬৯ পঠিত ... ১৮:১১, অক্টোবর ০৮, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top