যদি তোর ‘ডাকসু’নে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে : ডাকসু নির্বাচন নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৫৮১ পঠিত ... ২০:৫০, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে হচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। আগামী মার্চের ১১ তারিখ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ডাকসুর সভাপতি হিসেবে তার ক্ষমতাবলে এই দিন ঠিক করেছেন বলে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনঢ় ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য নানান ছাত্র সংগঠন। তবে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে তাদের সঙ্গে নীরবেই ছিলেন আরও একজন। তিনি আর কেউ নন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সেই শতবর্ষ আগেই তিনি লিখেছিলেন, ‘যদি তোর ডাকসুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’

বাংলাদেশের স্বাধিকার, ভাষার সংগ্রাম ও স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার ডাকসু। কিছুদিন বাদেই সেই ডাকসু নির্বাচন। এখন কেমন বোধ করছেন রবিঠাকুর? জানার উদ্দেশ্যে আমরা কবিকে নক দিতে গিয়েই দেখি টিএসসিতে তাঁর চেক ইন। দ্রুত তাই আমরা ছুটে যাই টিএসসির চায়ের দোকানগুলোর সামনে। দেখা যায়, টিএসসি চত্বরে একাকী বসে মালটোভা চা খাচ্ছেন কবি। ডাকসু নিয়ে কবির ভাবনা নিয়ে সেখানেই চললো আমাদের আলাপচারিতা।

আমাদের দেখেই কবি উৎফুল্ল হয়ে চা খাওয়ার আহ্বান জানালেন। বললেন, ‘ইংরেজদের আমলে চা নিয়া একখানা বিজ্ঞাপনের কপি লিখিবার অনুরোধ পাইয়াছিলাম। না লিখিয়া ভালো করিয়াছি। টিএসসির মালটোভা চায়ের কাছে ওই ইংরেজি চা অতি তুচ্ছ। আমার পরাণও যাহা “চা”য়, ইহা তাই...’

আমরা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে চা নিয়ে বসলাম। কবি বললেন, ‘eআরকি ডটকম আমি নিয়মিত ফলো করি। আমাকে নিয়ে তাহারা অত্যন্ত মজার সব রসিকতা করিয়া থাকে। eআরকিতে মায়াবন বিহারিনী গানখানার চমৎকার এক প্যারোডি দেখিয়া আমি নিজেই হো হো করিয়া হাসিয়াছি।’ কবির চোখেমুখে সেই হাসির ঝিলিক দেখা গেলো।

হালকা আলাপের মাঝেই হলো কিছু সিরিয়াস কথোপকথন। প্রশ্ন করলাম ডাকসু নির্বাচন নিয়েই...

‘কবি, অবশেষে ডাকসু নির্বাচন তো হচ্ছে। আপনি কী ভাবছেন।’

‘খবরটা দেখিয়া অত্যন্ত আনন্দ পাইয়াছি। সেই ঢাবি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যুগেই আমি ডাকসু নির্বাচন লইয়া অত্যন্ত চিন্তিত ছিলাম। একবার নির্বাচনে দাঁড়াইব, এমনটাও ভাবিয়াছি।’

‘তবে? দাঁড়ালেন না কেন?’

‘আমি ঢাবিতে অধ্যয়ন করি নাই, অর্থাৎ আমি বহিরাগত। এই কারণে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাই নাই। ইয়ে, ওই প্রসঙ্গ থাকুক।’ মনে হলো, কবি হয়তো ডাকসু প্রেসিডেন্ট হতে না পারার বেদনা এখনো ভুলতে পারেননি।

‘এই যে এত বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন হলো না, কর্তৃপক্ষও এই নিয়ে নানান গড়িমসি করেছে। আপনার কী মনে হয়েছে, আদৌ কখনো ডাকসু নির্বাচন হবে?’

‘আলবৎ। সেই হেতুতেই আমি শিক্ষার্থীদেরকে মোটিভেশন প্রদান করতে লিখিয়াছিলাম, যদি তোর ডাকসু নে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে। “নির্বাচনে” শব্দখানাকে ছন্দ মেলানোর সুবিধার্থে লিখিয়াছিলাম “নে”। আমি জানিতাম, ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে কেহই পদক্ষেপ লইতে আসিবে না। তবুও, একলা হইলেও আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালাইয়া যাইতে বলিয়াছি।’

‘কিন্তু ডাকসু নির্বাচন হলেও কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আপনি মনে করেন? ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা নিশ্চয়ই এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কি এতে কোনো লাভ হবে?’

‘সে ব্যাপারেও আমি লিখিয়াছি...’ এটুকু বলেই কবি তাঁর মধুর কন্ঠে গেয়ে শোনালেন নিজের লেখা গান-

‘যদি কেউ কথা না কয়, যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়, তবে পরান খুলে... ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে...! অনেকেই ভয় পাইবে, কেউই সহমত ভাই বলিবে না, তবুও নির্ভয়ে ন্যায়ের পক্ষে স্লোগান দিয়া যাইতে হইবে। যদি একলা হও, তবুও। বৎস, এইসব সমস্যার সমাধান তোমরা আমার গানেই খুঁজিয়া পাইবে। শতবর্ষ আগেই আমি এসব বলিয়া গিয়াছি।’

আমরা যেন আশ্বস্ত হলাম। ‘কবি, তবে কি আপনি বলছেন, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুদিন ফিরবে?’

কবি চায়ে চুমুক দিয়ে আবারো গাইলেন স্বরচিত একটি গান, ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর...’

১৫৮১ পঠিত ... ২০:৫০, জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top