কাহারে হেরিলাম! সে কি সত্য, সে কি মায়া : নিজের ভাস্কর্য দেখে প্রতিক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৩২৬৫ পঠিত ... ২২:১৮, জানুয়ারি ২৫, ২০১৯

সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় নির্মিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ১০০ ফুট উঁচু এক ভাস্কর্য। জাতির জনকের এমন একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবার খবরে সবার আনন্দিত হবার কথাই ছিল। কিন্তু ঝামেলা হয় ভাস্কর্য নির্মাণের দায়িত্ব যে ভাস্কর পেয়েছেন তার নাম জানার পর। তিনি হলেন আলোচিত ভাস্কর মৃণাল হক, যার নির্মিত অধিকাংশ ভাস্কর্যের ডিজাইন নিয়েই আছে প্রচুর সমালোচনা। এই নিয়ে আলোচনার মাঝে উঠে এসেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্থাপিত মৃণাল হক নির্মিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটির সাথে যদি পরিচয় না লেখা থাকত, তাহলে অনেকেই হয়ত এটিকে অন্য কারো ভাস্কর্য বলে ভুল বুঝত।

সে যাই হোক, নিজের সেই আলোচিত ভাস্কর্যটি কি দেখেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? মেসেঞ্জারে মেসেজ সিন না হওয়ায় আমরা দ্রুত পাড়ি জমাই কলকাতার জোড়াসাঁকোতে...

ঠাকুরবাড়ির উঠোনে ঢুকতেই দেখা গেলো, ছায়াময় এক বৃক্ষের নিচে চেয়ার পেতে চিন্তিত ভঙ্গীতে বসে আছেন কবি। কোলের উপর রাখা একটা ল্যাপটপ, চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ। ফেসবুক খোলা সেটা বোঝা যাচ্ছে, তবে মনে হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘাটছেন।

বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কবির চোখ পড়লো আমাদের উপর। সঙ্গে সঙ্গেই গান গেয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, ‘আমার ল্যাপটপো আড়ালে লুকিয়ে ছিলে, দেখতে তোমায় পাইনি আমি দেখতে...’

‘তা এত মনোযোগ দিয়ে ফেসবুকে কী দেখছিলেন কবি? কোনো বিদেশিনীর টাইমলাইন?’ আমরাও সহাস্য প্রশ্ন রাখলাম।

‘সে কথা আর কী বলিবো! গত রাত হইতে নিজের টাইমলাইনেই পড়িয়া আছি। খুঁজিয়া খুঁজিয়া কয়েকটা ছবি অনলি মি করিয়া দিতেছি। অভ্র আসার আগে দেয়া মুরাদ টাকলা পোস্টগুলো অনলি মি আগেই করেছিলাম... স্ট্যাটাসপানে চোখ মেলেছি, ফটো অ্যালবাম পানে চাইনি...’

‘কোন ছবিগুলো অনলি মি করে দিচ্ছেন? বুঝিয়ে বলবেন কবি?’

কবি চিন্তিত মুখে বুঝিয়ে বলা শুরু করলেন- ‘ফেসবুকে কিছু হতচ্ছাড়া আছে, যেই ছবিখানায় তোমাকে ভালো লাগিতেছে না, তোমার চেহারা ভচকাইয়া গিয়াছে রূপ বোধ হইতেছে, সেইসব ছবিগুলোতেই তাহারা ট্যাগ করিয়া থাকে। আমার ধারণা, এই ধরনের কোনো ছবি দেখিয়াই মৃণাল সাহেব আমার ভাস্কর্যখানা নির্মাণ করিয়াছেন।’

‘ও, তাহলে আপনি ভাস্কর্যটা দেখেছেন?’

‘না দেখিয়া উপায় কী! ফেসবুকে পোস্ট হওয়া কোনো ছবিতে তোমারে সুশ্রী দেখাইলে তুমি তাহা নাও জানিতে পারো। কিন্তু যদি তোমাকে বদখত দেখায়, কেউ না কেউ কমেন্টে মেনশন করিয়া তোমাকে জানাইয়া দিবে, তোমাকে নিয়া খিল্লি উড়াইবে। আমার ভাস্কর্যের ছবির কমেন্টে কোন পাজি বালক যেন আমাকে মেনশন করিয়াছে।’

‘নিজের ভাস্কর্য তো এর আগে আপনি কম দেখেননি। এবারেরটা কি নতুন কিছু মনে হয়েছে?’

‘আলবৎ নতুন কিছু। পূর্বে আমার যত ভাস্কর্য দেখিয়াছি, সকল সৃষ্টিকর্ম দেখিয়াই আমি নিজেকে চিনিতে পারিয়াছি। কিন্তু এই কর্মটি যে আমার ভাস্কর্য, ঐ বালক কমেন্টে মেনশন না করিলে টেরই পাইতাম না। প্রথমে দেখিয়া আমি ভাবিয়াছি, এই স্কন্ধহীন আলখাল্লা পরিহিত বৃদ্ধ কোনো গির্জার ফাদার। তারপর ভাবিয়াছি, লর্ড অফ দ্য রিংস কিংবা হ্যারি পটার সিনেমার কোনো চরিত্র হইবে। পরে কমেন্ট পড়িয়া বুঝিলাম, ইহা নাকি আমি।’

এই পর্যন্ত বলার পর কবির মুখ বিমর্ষ হয়ে গেলো। একটু থেমে কিছুক্ষণ বাদে আবার নিজেই বলতে শুরু করলেন-

‘আমার ধারণা, ভাস্কর মৃণাল হক আমার প্রোফাইল পিকচার্স অ্যালবাম হইতে কোনো ছবি দেখিয়া ইহা নির্মাণ করেন নাই। তা হইলে অন্তত আমার প্রকৃত অবয়ব ফোটাইতে না পারিলেও, মস্তক ও শরীরের সন্ধিস্থলে একখানা গলা এবং ঘাড় প্রদান করিতেন। আমি অন্যদের আপ করা যেইসব ছবিতে ট্যাগড, হয়তো ভুলক্রমে সেইসবে আমাকে দেখিয়া আমার অবয়ব কল্পনা করিয়াছেন। সেজন্যই দ্রুত সব অনলি মি করিয়া দিতেছি।’

‘ভাস্কর্যটি দেখার পর আপনার মনে কোনো লাইন আসেনি?’

‘নতুন কিছু না। তবে ছবিটি দেখিয়াই মনে মনে বলে উঠেছি, “কাহারে হেরিলাম! সে কি সত্য, সে কি মায়া”! আগামী ভ্যালেন্টাইন্সের জন্য একটি টিভি নাটক লিখিতেছি, নাম চিত্রাঙ্গদা। ভাবিতেছি নাটকে বাক্যখানি ব্যবহার করিবো।’

‘কিন্তু বঙ্গদেশের এত বড় একজন ভাস্কর আপনাকে চেনা যায় না টাইপ একটা ভাস্কর্য বানালেন, এর পেছনে অন্য কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে হয়েছে আপনার?’

‘হইতে পারে তিনি ফেসবুকে আমার কোনো ফেক আইডি পাইয়া তাহার ছবি দেখিয়া ভাস্কর্য বানাইয়াছেন। সেই সম্ভাবনাও আমি নাকচ করিতে পারি না। তবে বন্ধু ও সখিদের কাছে অনুরোধ, প্লিজ যে সকল ছবিতে আমাকে বদখত দেখাইতেছে, সেইখানে আমাকে ট্যাগ করিবেন না।’

আলাপচারিতার সময় আমরা একটা সেলফি তুলেছিলাম। সেলফিতে কবির চোখ বন্ধ আসায় কবি সেই ছবিটিও আপ করতে মানা করলেন।

 

আরও পড়ুন-

৩২৬৫ পঠিত ... ২২:১৮, জানুয়ারি ২৫, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top