দুর্নীতিবাজরা কিভাবে দুর্নীতি করছে সেটা বুঝতেই দুর্নীতি করেছি : কাল্পনিক সাক্ষাৎকারে দুদক পরিচালক

১৪২৭ পঠিত ... ২১:২১, জানুয়ারি ২২, ২০১৯

দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক ফজলুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আসামিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস (সূত্র: যুগান্তর)।

কিন্তু দুদক-এর পরিচালক হয়ে ফজলুল হক কেন দুর্নীতি করতে গেলেন? ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে আমরা নক দেই ফজলুল হক-এর মেসেঞ্জারে।

'হাই-হ্যালো' বলার আগেই তিনি আমাদের বললেন, 'প্লিজ এ্যাড মি'। কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার পরেই আমরা উনাকে এ্যাড করব এমন শর্তে তিনি কথা বলতে রাজি হলেন। মূল ঘটনা জানতে আমরা সরাসরি প্রশ্ন করলাম,

- স্যার, ঘটনা কি সত্য?
- অবশ্যই সত্য। একশো পার্সেন্ট সত্য। আমার কাছে মিথ্যার কোনো স্থান নেই। (লাভ ইমো)
- কিন্তু স্যার আপনার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এসেছে...
- লেনদেন তো সবাই করছে। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এতে অভিযোগ করার কি আছে বুঝলাম না।
- কিন্তু স্যার, দুদকের পরিচালক দুর্নীতি করবে, এটা কি মেনে নেয়া যায়?
- দুর্নীতি নিয়েই তো আমার কাজ। আমাকে তো দুর্নীতি করতেই হবে৷ মেনে নিবেন কি নিবেন না, সেটা আপনাদের বিবেচনা৷ (সেন্টি ইমো)
- স্যার যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন..
- দেখুন, পানিতে না নেমে কেউ সাতার কাটা শিখতে পারে না। তেমনি দুর্নীতি না করে আমি দুর্নীতির ফাঁকফোকর চিনিবো কিভাবে?
- তাহলে স্যার, আপনি বলছেন এটা আপনার কাজেরই অংশ?
- অফকোর্স! ইয়াং ম্যান, দুর্নীতিবাজরা কিভাবে দুর্নীতি করছে সেটা বুঝতেই আমি দুর্নীতি করেছি।
- স্যার, আপনি আসামিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করেছেন, এ ব্যাপারে কি বলবেন?
- দেখো, দেশের জন্য কাজ করতে গেলে অনেক কিছুই করতে হয়৷ যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা গোপনে অনেক মিশনে যায়৷ আমিও আমার দায়িত্ব পালন মানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের স্বার্থে গোপনে কাজ করেছি৷ (সেন্টিমেন্টাল হাসির ইমো)
- সরি স্যার৷ আমরা আপনাকে ভুল বুঝেছি। কতদিনের মধ্যে আবারো কাজে যোগদান করতে পারবেন বলে মনে করেন?
- দেখো, বরখাস্ত যখন হয়েছি কিছুটা সময় লাগবেই৷ তবে ঠিক জায়গায় টাকা ঢালতে পারলে দ্রুত ফিরে আসতে পারবো৷
- স্যার আপনি ঘুষ দিবেন? এটা তো দুর্নীতি!
- এই তো, আবারো ভুল বুঝলে। এটাও আমার কাজের কৌশল। বরখাস্ত হলে দুর্নীতিবাজরা কোথায় ঘুষ দেয় সেটা জানতেই আমার এই পদক্ষেপ৷ হাহাহা৷ প্লিজ এ্যাড মি।
- উফ! ভুল বোঝার জন্য 'সরি' স্যার। (স্যাড ইমো) আমরাও চাই, আপনার মত চৌকশ অফিসার দ্রুত ফিরে আসুক। (লাভ ইমো)
- অনেক ধন্যবাদ। এবার 'প্লিজ এ্যাড মি'।

বার বার এ্যাড মি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা ফজলুল হকের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখি সেখানে লেখা- 'ওয়ার্কস এ্যাট ফেসবুক' এবং 'স্টাডিড এ্যাট ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজ'।

ফেক আইডি বুঝতে পেরে আমরা সাথে সাথে উনাকে ব্লক দিয়ে চলে আসি।

১৪২৭ পঠিত ... ২১:২১, জানুয়ারি ২২, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top