রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণেই আমরা আলাদা হয়ে গেছি : নারায়ণগঞ্জের ব্লুটুথ সেতু

৫৬০ পঠিত ... ২০:৫৯, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

লাইলি-মজনু, রোমিও জুলিয়েট, প্রেমজগতের কোনো কিংবদন্তিই একসাথে থাকতে পারেনি। তেমনই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মসুরী গ্রামের একটি সেতু ও তার রাস্তাকে। বিগত ১০ বছর ধরে তাদের এই বিচ্ছেদ।

প্রায় দেড় যুগ আগে বিএনপি সরকারের আমলে মাটির উঁচু সড়ক বানানো হয় গ্রামটিতে। কিন্তু সেতুর জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় খাল ভরাট করেই রাস্তা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর খালের উপর সেতু বানানোর বরাদ্দ হয়। সেতুটিও বানানো হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক বানানোর অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রায় ত্রিশ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি একলাই পড়ে থাকে (প্রথম আলো)।

ব্রিজটি নিয়ে eআরকির জানাশোনা বেশ আগে থেকেই। নারায়ণগঞ্জের এই ব্রিজটি কী কারণে রাস্তা ছেড়ে খালের পাশে বানানো হলো, তা নিয়ে গবেষণা করেছি আমরা আগেও! তবে আমরা জানতাম না এই পরিণতির রাজনৈতিক ইতিহাস। সম্প্রতি পত্রিকায় তার করুণ ইতিহাস প্রকাশিত হলে eআরকির স্পেশাল সাক্ষাৎকারকি দল ছুটে যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারের আশায়।

মসুরী গ্রামে গিয়ে মাটির সেই ঐতিহাসিক রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে আমরা পৌঁছে গেলাম ব্রিজটির কাছে। যেতে যেতে কথা হচ্ছিল রাস্তার সাথেই। রাস্তাটি জানিয়েছিল সুদীর্ঘ ১৮ বছরের নিঃসঙ্গ জীবনে আর ভালো লাগে না। বয়স ১৮ হলো, অথচ শৈশবের সঙ্গীটির সাথে আর মিলন হলো না। দুঃখে গলা ধরে আসায় আর কথা বলতে পারেনি সে। তবে ব্রিজটির বয়স খানিকটা কম হওয়ায় eআরকিকে মনের সব দুঃখ ক্ষোভের কথা বলেছে ব্রিজটি।

‘কেমন আছেন?’

‘আপনারা আর ভালো থাকতে দিলেন কই?’

‘ইয়ে মানে, আমরা কী করলাম?’

‘দুই দিন পরপর আপনাদের মতো লোকজন আমাদের দেখতে আসে। শান্তি নাই!’

‘আসলে বিচ্ছেদের পরও এমন সহাবস্থান তো কেউ সচরাচর দেখেনি।’

‘বিচ্ছেদ? ফাইজলামি করেন? আমাদের মিলনটা হয়েছিল কবে!’

‘দুঃখিত, আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি… আপনি বলুন আপনার কথা!’

‘কি আর বলব! সেই কবে আমাকে এখানে আনা হয়েছিল। স্বপ্ন দেখেছিলাম, ওর সাথে বাঁধব সুখের ঘর। কিন্তু দেখুন… আমাদের এমন পরিণতি!’ বলেই হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে খালের পানির স্তর কয়েক ইঞ্চি বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

 

‘কাঁদবেন না প্লিজ। আপনার এই পরিণতির জন্য কাকে দায়ী করেন?’

‘কপাল! সব আমার কপাল!’ চিৎকার করে বলে ওঠে ব্রিজটি। উড়ে যায় কতগুলো পাখি।  

চমকে ওঠা eআরকি দলের উদ্দেশে বলতে থাকে ব্রিজটি।

‘রাজনীতির শিকার আমি। ভিলেজ পলিটিকস। ওর সাথে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ মেলেনি। ও করে বিএনপি, আমি আওয়ামী লীগ। বলুন, এরপরও কি একসাথে থাকা যায়?

‘কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকেই তো বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। আপনারা একসাথে থাকতে পারলেন না কেন?’

‘আরে কী বলেন! সংসদেই দুই দল একসাথে থাকতে পারে না! আর রাজপথে এক আকাশের নিচে দুজন একসাথে থাকবো? তার চেয়ে যেমন আছি, তাই ভালো! এভাবেই কাটে যদি দিন কেটে যাক না…

 

আমরা আর কথা বাড়ালাম না। রাজনীতি দুই পরিবার, দুই জাতিকে আলাদা করে দেয়, আর এ তো শুধু ব্রিজ আর রাস্তা! 

৫৬০ পঠিত ... ২০:৫৯, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top