ভ্যালেন্টাইন্স ডে এবার বোন সার্সেইকে নিয়ে পাকিস্তানেই কাটাবো : একান্ত সাক্ষাৎকারে জেইমি ল্যানিস্টার

২০১২ পঠিত ... ১৮:৩৪, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অফ থ্রোনসের শেষ সিজনের টিজার। এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, পৃথিবী জুড়েই ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হলেও, পাকিস্তানে তা পালিত হতে যাচ্ছে ‘বোন দিবস’ হিসেবে। পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের ইউনির্ভার্সিটি অব এগ্রিকালচার-এর উপাচার্য জাফর ইকবাল ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সিস্টারস ডে’ ঘোষণা দিয়েছেন। ভাই-বোনের সম্পর্কটি নিঃসন্দেহে স্নেহের ও মমতার, কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি বা ভালোবাসা দিবসে শুধু বোনদের কাছে কেন ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে, তা নিয়ে সবার মনে সৃষ্টি হয়েছে কিঞ্চিত কৌতূহল।

ভাই-বোন এবং ভালোবাসা (নাকি প্রেম?), এই দুটি বিষয় একসাথে চিন্তা করতে করতে আমাদের মনে পড়ে যায় ক্যাস্টারলি রকের সূর্যসন্তান ‘কিংস্লেয়ার’ জেইমি ল্যানিস্টারের কথা। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি র‌্যাভেন মারফত জানান, এবারের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি তার যমজ বোন সার্সেই ল্যানিস্টারকে নিয়ে পাকিস্তানে কাটাবেন। এই উপলক্ষে সিজন সেভেনের শেষে তিনি বোনকে ছেড়ে দূরে চলে গেলেও আবার ফিরে এসেছেন রেড কিপে।

সুদূর কিংস ল্যান্ডিং থেকে সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে তিনি পাকিস্তানে কি নাইট কিং-এর ভয়েই চলে আসছেন, নাকি অন্য কোন কারণে? পুরো বিষয়টা নিয়ে জানতেই কৌতুহলী হয়ে পড়ে eআরকি।

জেইমির অনুভূতি জানতে কৌতুহলী eআরকি দল যাত্রা শুরু করল সেভেন কিংডমের উদ্দেশ্যে। ডথরাকি সির প্রতিকূল পরিবেশ, এসোস, পেন্টোজের নানাবিধ লোভনীয় বিষয়কে পাশ কাটিয়ে ন্যারো সি পাড়ি দিয়ে অবশেষে eআরকি প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছুল কিংস ল্যান্ডিংয়ে।

সেভেন কিংডমের জরুরি অবস্থার মাঝেও রাজকীয় সুরক্ষাতেই আমরা পৌঁছালাম সুদৃশ্য রেড কিপে। মূল প্রাসাদে প্রবেশ করে অন্দরমহলের সামনে এসে দরজায় কড়া নাড়তেই দরজা খুলে গেল। দেখি জেইমির অপূর্ব সুন্দরী বোন সার্সেই ল্যানিস্টার আমাদের বললেন ‘হ্যালো ব্রো!’ শুনেই আমাদের প্রতিবেদক কিঞ্চিত ঘাবড়ে যান, লজায় তার চোখমুখ লাল হয়ে ওঠে। আবেগাক্রান্ত হয়ে তিনি জসীমের মতো বলে ওঠেন, ‘না! আমাকে ভাই ডাকবেন না প্লিজ…’

কিছুটা অস্বস্থিকর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে নিয়ে সার্সেই আমাদের নিয়ে গেলেন জেইমি ল্যানিস্টারের দরবারে। সেখানেই এই একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন জেইমি ল্যানিস্টার।

eআরকি : কেমন আছেন?

জেইমি : খুব একটা ভালো না। ‘উত্তরে নাইট কিং, দক্ষিণে খালিসির আগুন’ অবস্থায় আছি। আপনাদের ঐ ‘জলে কুমির ডাঙায় বাঘ’ তো এর কাছে নস্যি! বড় পেরেশানিতে আছি।

eআরকি : তা তো বটেই। আপনার পাঠানো একটি ডিএমএস (দাঁড়কাক ম্যাসেজ সার্ভিস) থেকে জানতে পারলাম আপনি আর রানী সার্সেই নাকি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আসছেন। স্ট্রেস রিলিফের জন্য এই ট্যুর দিচ্ছেন? নাকি আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কোন কাজে?

জেইমি : আরে না ভাই, এত গ্যাঞ্জামে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে গেছি। ভাইবোন মিলে একটু চিল করতে পাকিস্তান যাচ্ছি। ইটস গোইং টু বি এ ফ্যামিলি ট্যুর।

eআরকি : এত দেশ রেখে পাকিস্তানেই কেন? আর ভালোবাসা দিবসেই আপনাদের এই প্ল্যান?

জেইমি : আরে আপনারা কি এতদিন উত্তরে ওয়াল পাহারা দিচ্ছিলেন নাকি? দেখেন নি ১৪ ফেব্রুয়ারিতে  পাকিস্তান কী একটা দারুণ অফার দিয়েছে? ভালোবাসা দিবসে সবাই শুধু প্রেমিকা বা স্ত্রীর জন্য অফার দিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু একমাত্র পাকিস্তানই ভাইবোনের সম্পর্কের মর্যাদা বুঝতে পেরেছে। তারা তো পুরো দিনটাকে ‘বোন দিবস’ ঘোষণা করে দিয়েছে। সার্সেই এমনিতেই কোথাও যেতে চায় না, বুঝেনই তো, কতো রকমের মানুষ কত রকমের কথা ছড়ায়। আর ওই পাজী হাই স্প্যারোর শেমিং এর পর তো ওর বাইরে বের হওয়া নিয়েই অনীহা এসে গেছে। পাকিস্তান বড় উদার একটি দেশ। কোন সম্পর্ককেই তারা ছোট করে দেখে না।

eআরকি : কিন্তু এর মধ্যে যদি আবার খালিসি এসে হামলা করে? উনি তো শুনলাম আয়রন থ্রোনে বসার জন্য মুখিয়ে আছেন।

জেইমি : আরে প্যারা নাই। জন স্নো আছে না! ও তো ওর ফুপিকে ব্যস্ত রাখবেই।

eআরকি : তাহলে তো সবকিছু ভেবেই প্ল্যান করেছেন। তা আপনারা ভাইবোন মিলে ঐদিন কী কী করবেন ঠিক করলেন?

জেইমি : দুই ভাইবোন মিলে দেখি দেশটা একটু ঘুরেফিরে দেখবো। সার্সেইকে তো এবার বাচ্চাকাচ্চা সামলাতে হবে না, তাই হাতে বেশ খানিকটা সময় পাবো। অনেকদিন পর দেশের বাইরে একটা ট্যুর দিচ্ছি। অনেক কিছুই মাথায় আছে, দেখি কী কী করতে পারি। আশা করছি, দিস ইজ গোইং টু বি দ্য বেস্ট ভ্যালেন্টাইন এভার!

eআরকি : অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য। আশা করি আপনাদের ভাইবোনের ভালোবাসা দিবস অনেক সুন্দর কাটবে।

২০১২ পঠিত ... ১৮:৩৪, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top