ফিলিপাইনে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি : একান্ত সাক্ষাৎকারে সাজাপ্রাপ্ত মায়া সান্তোস দেগুইতো

২১৭৯ পঠিত ... ১৬:৩১, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আদালত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে (সুত্র: রয়টার্স/প্রথম আলো)। এর সাথে তাকে গুনতে হবে ১০৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা। অথচ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত করেই যাচ্ছে। কিন্তু অর্থ আর উদ্ধার হয়নি।

দেশি টাকা চুরি করে এ দেশের কারো শাস্তি না হলেও, বিদেশি টাকা চুরি করে দেশি জেলে যাওয়ার অনুভূতি কেমন তা জানতে eআরকি পররাষ্ট্র গবেষক দল ছুটে যায় স্কাইপে ওপেন করে মায়ার সাথে ভিডিও চ্যাট করতে।

eআরকি: কেমন আছেন মায়াপা?

মায়া: ভালো আর থাকি কীভাবে? বাকি জীবনটা তো দেখছি জেলেই কাটিয়ে দেয়া লাগবে।

eআরকি: আপনি তো দাবি করেছিলেন এই বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লেনদেনে আপনার কিছুই করার ছিলো না। এই রায় কি তবে সুষ্ঠ না?

মায়া: বাংলাদেশি হলে নিশ্চয়ই এমনটাই বলতাম, রায় সুষ্ঠ হয়নি, ষড়যন্ত্র হয়েছে এইসব হাবিজাবি। এই দেশে কি আর এসব বলা যায়! আদালতের রায়, মেনে তো নিতেই হবে। শুধু একটা ব্যাপারই খারাপ লাগছে, টাকা চুরি করলাম বাংলাদেশের, কিন্তু আমার বিচার কেন ফিলিপাইনে করা হবে? হোয়াই?

eআরকি: বাংলাদেশে বিচার হওয়ার জন্য আপনি এত উদগ্রীব কেন? কোন বিশেষ কারণ?

মায়া: অবশ্যই কারণ আছে। সেই ২০১৬ সালে অল্প কয়টা টাকা মেরেছিলাম। এখন চলছে ২০১৯। যদি বাংলাদেশে এই বিচার চলতো, এতদিন কী কেউ এসব মনে রাখতো? কত রকম ইস্যুর ভিড়ে কবেই চাপা পড়ে যেত! টাকাও আমার না, দেশও আমার না, এদিকে জেলে যাচ্ছি আমি। অথচ যে দেশের ঘটনা, সেখানে কারো কোনো বিচার হয়নি। এমন দেশ আর কোথায় পাবো বলুন? ব্যর্থ জনম আমার, জন্মাইনি সেই দেশে…

eআরকি: এখন কী ভাবছেন? উচ্চ আদালতে আপিল করতে চান?

মায়া: ওসব করে এই দেশে কিছু হবে না। তবে বাংলাদেশ হলে অন্য কথা। এখন একটাই উপায়, কোনোভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া। সেটার জন্যই চেষ্টা করছি।

eআরকি: বাংলাদেশে গেলেও তো আপনার বিচার হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আপনার কী করার থাকবে?

(এই প্রশ্ন শুনে মায়া প্রথমে হা হা হো হো করে কিছুক্ষণ হাসেন। এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দেন)

মায়া: শোনেন, বাংলাদেশের সিস্টেম অন্য, আপনারা তো জানেনই। প্রথমে তদন্ত কমিটি গঠন হবে। এরপর আরও একটা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি, এরপর আরও উচ্চ পর্যায়ে কমিটি… কমিটি গঠন হতে হতে তদন্তের রিপোর্ট আসতে আসতে এরপর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে হতেই ফিলিপাইনে আমার যত বছরের কারাদন্ড হয়েছে, তার চেয়েও বেশি সময় কেটে যাবে। এরপর নাহয় আবার ফিলিপাইনে ফেরত আসলাম!

eআরকি: বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ম্যানেজ না করতে পারলে? কোনো ব্যাকাপ প্ল্যান আছে?

মায়া: তাহলে আর কি, জেলে বসে জীবন শেষ করে পরজনমের অপেক্ষা করবো। পরেরবার যেন বাংলাদেশে জন্মাই, এখন এই একটাই শুধু চাওয়া।

এই পর্যায়ে আমাদের নেটের লাইনে কিঞ্চিত ডিস্টার্ব দেখা দেয়ায় বাফারিং শুরু হয়ে লাইন কেটে যায়। তবে লাইন কেটে যাওয়ার আগ মুহূর্তে মায়াকে গুনগুন করে গাইতে শোনা যাচ্ছিল, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি…’

২১৭৯ পঠিত ... ১৬:৩১, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top