খুব শীঘ্রই ফাঁস নেয়ার ইচ্ছা আছে : একান্ত সাক্ষাৎকারে এবারের ফাঁস না নেয়া প্রশ্নপত্র

৫৫৫ পঠিত ... ২১:০০, এপ্রিল ০৬, ২০১৮

একের পর এক গেরোর সমাধান করে আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক প্রশ্নের মুখোমুখি। এ বছরের প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না কেন? সংশয়ের অবকাশ না রাখার জন্যে আমরা সকাল ৮টায় পাওয়া উত্তর সহ প্রশ্ন না দেখে সরাসরি দ্বারস্থ হলাম প্রশ্নের কাছেই। জানতে চাইলাম, কীভাবে সম্ভব হলো এই অসম্ভবের।

সকাল তখন সাড়ে নয়টা। আগে থেকেই বলা ছিলো আমরা আসবো, তাই বাড়ির কলিংবেল টিপতেই হাস্যমুখে দরজা খুলে দিলেন প্রশ্ন।


eআরকি প্রতিনিধিঃ ব্যস্ত নাকি?
প্রশ্নঃ সকাল থেকেই বাড়িতে বিজি প্রেসের লোকজনদের ভীড়। দশটা থেকেই তো আমার ডিউটি শুরু হয়, তাই বছরের এই সময়টায় ব্যস্ততা কিছুটা থাকেই।

e.প্রঃ শেষ কবে ফাঁস নেননি সেটা কি মনে আছে?
প্রশ্নঃ অত আগের কথা কি আর মনে থাকে রে ভাই, বলেন? খুব যদি ভুল নাও করি তাহলে ২০১২ সালেও ফাঁস নিইনি।

e.প্রঃ তাহলে ২০১৩ সালে কী হয়েছিলো যে এমন গণহারে ফাঁস নেয়া শুরু করেছিলেন?
প্রশ্নঃ আসলে সত্যি কথা বলতে কি ভাই, এইটা তো আসলে আমার ফ্যামিলি ট্র‍্যাডিশন। বাপ ফাঁস নিয়েছিলেন। বাপের আগে দাদা। দাদার সময়ের আগে তাঁর বাবাও...মানে বাপ-দাদার অভ্যাস এতো সহজে ছাড়ি কীভাবে, তাই না? আসলে হইছে কি ভাই প্রশ্ন হলেও আমরা মানুষ। বছরে মাত্র তিন-চারবার আমাদের নিয়ে কথা ওঠে। এরপর সবাই একদম চুপচাপ। আমাদের কী খারাপ লাগে না এতে? আমরাও তো মানুষ, নাকি? আমাদেরও তো অনেক দুঃখ-কষ্ট আছে, গোপন সমস্যা আছে। সে সব শেয়ার করবার জন্যেও তো কাউকে দরকার। এসব শেয়ার করতে না পেরেই তো বছরের পর বছর ডিপ্রেশনে ফাঁস নিয়েছে আমার পরিবারের মানুষজন।

e.প্রঃ মানে আপনি তাহলে বলতে চাচ্ছেন...
প্রশ্নঃ আমার মতে, এত এত প্রযুক্তি-যুক্তি তর্কের অপব্যবহার না করে আমাদের মনের কথা শেয়ার করবার জন্যে কিছু সাইকো-থেরাপিস্টের ব্যবস্থা করলেই ফাঁস রোধ করা সম্ভব।

e.প্রঃ কিন্ত এখনো তো কেউ সাইকো-থেরাপিস্টের ব্যবস্থা করে নি, আমি আসলে জানতে চাচ্ছিলাম আপনারা তবুও কেনো এ বছর ফাঁস নিলেন না?   
প্রশ্নঃ মানে প্রত্যেক বছর ফাঁস নিতে তো আমাদেরও কষ্ট হয়। প্রত্যেক বছরের মতো এতো ডিপ্রেশন বুকে নিয়ে ফাঁস না নিয়ে এবার আমি ভাবলাম, অন্তত কাউকে সত্যি কথাটা বলে যাই। ডিপ্রেসড থেকেও প্রত্যেক বছর বারবার ফাঁস নিতে অনেক কন্সট্যান্সি ধরে রাখতে হয়। আমরাও প্রশংসার যোগ্য।

e.প্রঃ মন মেজাজ কেমন? নেক্সট পরীক্ষার দিন কি ফাঁস নেবেন বলে মনে হচ্ছে?
প্রশ্নঃ মন মেজাজ খুব একটা ভালো নেই। ম্যাথ জিনিসটা ভালো লাগে না। ম্যাথ পরীক্ষার আগের রাতে গণহারে ফাঁস নেয়ার ইচ্ছা!

e.প্রঃ আমরা সাক্ষাৎকারের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এই প্রশ্নফাঁস নিয়ে আপনার ফেলো প্রশ্নপত্রদের জন্যে কি কিছু বলার আছে?
প্রশ্নঃ অবশ্যই! শুনেন ভাইসব, মনে রাখবেন অন্ধকারের পরেই ইলেক্ট্রিসিটি থাকলে এবং সুইচ-লাইট ঠিক থাকলে যেমন আলো আসে। তেমনি আমাদের শুভ সময়ও ঘনিয়ে আসছে। বুকে বল রাখবেন। কারণ আমরা কাঁদতে আসিনি, ফাঁসের দাবি নিয়ে এসেছি!

ব্যস্ততা ছিলো, তাই সাক্ষাৎকার বেশী দীর্ঘ করা যায় নি। তবুও এতো ব্যস্ততাতে তিনি যে সময় নিয়ে আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে দিলেন, তা দেখে সত্যিই মনে আর কোন প্রশ্ন রইলো না। মনে হলো, ঠিক দিকে তাকিয়ে একটু চেষ্টা করলে সব উত্তরই পাওয়া যায়।

৫৫৫ পঠিত ... ২১:০০, এপ্রিল ০৬, ২০১৮

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top