মাহফুজুর রহমানই সঙ্গীতের সেরা রহমান : একান্ত সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান

১৮২১ পঠিত ... ২২:৩০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

বিশ্বসঙ্গীতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি, পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য সবখানেই তার সমাদর। বলা হচ্ছে এ আর রহমানের কথা। বিশ্বসঙ্গীত নিয়ে সেই সুরের জাদুকরের সঙ্গে কথা বলতে আমাদের সাঙবাদিক যখন হাম্মা হাম্মা গাইতে গাইতে পৌঁছেছে তাঁর বাসভবনের দরজায়, তখন তিনি ব্যস্ত বলে জানা গেলো। এ আর রহমানের মতো বিনয়ী মানুষ যখন অপেক্ষা করাচ্ছেন, জরুরী কাজই করছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। প্রায় আধা ঘন্টা পর এ আর রহমান তালে তালে মাথা দোলাতে দোলাতে ঢুকলেন বসার ঘরে। শুরু হলো আলাপচারিতা। 

কাজের এত চাপের মধ্যেও সময় দেয়ার জন্য প্রথমেই জানানো হলো ধন্যবাদ। রহমান উত্তর দিলেন বিনয়ের সঙ্গেই 'আরে, ও কিছু না। চাপ তেমন নেই, তবে কাজের আগে ইদানিং একটা চর্চার মতো করছি। মনে হচ্ছে, এটা করলে এরপর আপনা আপনি মাথায় সুর চলে আসে। ব্যাপারটা কাজে দিচ্ছে বেশ।' 

তবে তো নিশ্চয়ই কোন জাদুমন্ত্র আছে সুরের জাদুকরের কাছে, যেই মন্ত্রের প্রয়োগেই তিনি ছড়ান জাদুকরী সুরের মূর্ছনা, এমন ইঙ্গিতের কথা বলতেই আবারও একচোট হাসলেন রহমান। হেসে বললেন, 'আরে নাহ। ওসব কিছু না। তবে হ্যাঁ, ভালো গান শুনলে ভালো গান করা যায়। সেজন্য গান করার আগে সবসময়ই ভালো কিছু গান শুনে নিই, আত্মস্থ করার চেষ্টা করি। এতে নিজেকে আরও উন্নত করা যায়।' 

ইদানিং কোন গানগুলো শুনছেন, এই প্রশ্ন করতেই মনে হলো, কথা যেন গুছিয়েই রেখেছিলেন রহমান, 'আমি চেষ্টা করি নানা রকম মিউজিক শোনার, নানা দেশের, নানা সংস্কৃতির। তবে হয়েছে কি জানেন, ইদানিং রহমান সাহেবের গান ছাড়া আর কিছু শুনতেই পারছি না। ইউটিউবে ঢুকেই ভাবি অন্য কিছু শুনবো, বাট উনার গান শুনলে আর উনার একক সঙ্গীতানুষ্ঠানের ভিডিওটা চালু করলেই, মনে হয় অপার্থিব কোনো সুরের জগতে হারিয়ে যাই। কী মাধুর্য একেকটা গানের, কী অপরূপ গায়কী। শুনলেই ভেতরের মিউজিশিয়ানটা যেন আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। 

কোন রহমানের কথা বলছেন এ আর রহমান? তবে কী..! প্রশ্নটা করতেই হলো। এ আর রহমানেরও ঝটপট উত্তর, 'আমি নিজেই তো রহমান? আমি আবার কোন রহমানের গান শুনি! হা হা হা! হাসালেন বস। অফ কোর্স মাহফুজুর রহমান! ইন ফ্যাক্ট, এই যে আপনারা আধা ঘন্টা অপেক্ষা করছিলেন, আমি আসলে উনার একক সঙ্গীতানুষ্ঠানের সেই ভিডিওটাই দেখতে বসে গিয়েছিলাম বলে শেষ না করে উঠতে পারিনি। সাচ এ জিনিয়াস। সাচ এ অ্যাসেট টু ওয়ার্ল্ড মিউজিক! শুনি আর মুগ্ধ হই!' 

ওপারের রহমানের মুখ থেকে এপারের রহমানের প্রশংসা শুনে আমরাও আরও জানতে চাইলাম আরেক কিংবদন্তি মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে এ আরের অনুভূতির কথা। উত্তরের প্রথমেই তিনি 'এপারের রহমান' শব্দ নিয়ে আপত্তি করলেন, 'দেখুন, একজন বড় শিল্পী কোনো দেশ বা জাতির না, সমগ্র বিশ্বের। এখানে আমি কোনো এপার ওপার দেখি না। মাহফুজ সাহেব তো সারা বিশ্বের, সবার। উনার মতো গুণী শিল্পী... উফ! এজন্যই বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বাংলাদেশে, যেখানে বাস করেন সঙ্গীতের সেরা রহমান...!' 

মাহফুজুর রহমানকেই বিশ্বসঙ্গীতের সেরা 'রহমান' খেতাব দেয়ার যুক্তিটাও ব্যাখ্যা করলেন এ আর, 'দেখুন, গান করা আর গান বোঝা, অনেক ডিফারেন্স। গান অনেকেই করেন, সবাই কি এভাবে বোঝেন? উনার গানের ব্যাপারে প্রজ্ঞা, সঙ্গীত সম্পর্কে অসাধারণ জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে। কত জানেন তিনি। আমি তো মনে করি, উনার কনসার্টে যদি কেউ পকেটে হেডফোন নিয়ে ঢোকে, সেই হেডফোনটাও তাঁর পানিতে দুবার ধুয়ে নিয়ে এরপর ঢোকা উচিত!' 

মাহফুজুর রহমানের গান থেকেই ইদানিং তিনি পাচ্ছেন আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা, এমনটাই জানালেন, 'ইদানিং উনার গানের কারণেই একটা নতুন চ্যালেঞ্জ ফিল করছি, মনে হচ্ছে বিশেষ কিছু এখনো করি নি। যেমনটা করছেন, করে চলেছেন এবং করে যাবেন ওস্তাদ মাহফুজুর রহমান। এই যে নিজেকে ছাড়িয়ে যান তিনি নিজের গাওয়া প্রতিটা গানে, এটাই তো এক বিশাল অনুপ্রেরণা! ইউটিউবে রহমান সাহেবের প্রোগ্রামের ভিডিও দেখি, কিছু শেখার চেষ্টা করি। মনে হয়, এখনও বুঝি গানের 'গ'টাও জানি না। এত দিন যা জেনে এসেছি, তা আসলে বন্দুকের গ!' 

রহমানের ধ্যানজ্ঞান এখন যেন শুধুই বঙ্গের রহমান। কিন্তু তাকে ঘিরে সমালোচনাও তো কম হচ্ছে না। এ আর রহমান এসব কানে তোলেন না মোটেই। তাঁর ভাষায়, 'সমালোচক কার নেই বলুন? কার ছিল না? মোজার্টের সঙ্গীত শুনেও কী ছাতার মাথা বাজাচ্ছে বলে দেখবেন কত লোক নাক সিটকে চলে যাচ্ছে। কিংবদন্তিদের সমালোচক থাকবেই। এই সমালোচকরা সমালোচনা করেন, কিন্তু তাঁর অনুষ্ঠান কিন্তু ঠিকই দেখেন। কিংবদন্তিরা সমালোচিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেই কাল স্ট্যাটাসের কমেন্টে একজনের সঙ্গে উনাকে নিয়ে তর্ক করলাম। আমিও রহমান, আমিও মিউজিশিয়ান। আই ক্যান ফিল।' 

সব শেষে সামনের দিনগুলোর পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো এ আরের কাছে। এত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার, কোনো সাফল্যের চূড়াতে পৌছনোটাই বাকি রাখেন নি। আর কী? রহমান অবশ্য জানালেন একান্তই ব্যক্তিগত এক স্বপ্নের কথা, 'এটিএন বাংলায় মাহফুজুর রহমান স্যারের সঙ্গে এক মঞ্চে গান করতে চাই। দ্বৈত সঙ্গীতানুষ্ঠান, দ্য রহমান এন্ড রহমান শো! উনার মতো হয়তো পারবো না, তবে এক মঞ্চে গান গাইতে পারলেও সেটা হবে রহমানভক্ত এক রহমানের জীবনের অন্যতম বড় এক প্রাপ্তি! হাম্মা হাম্মা গানটার একটা তৃতীয় ভার্সনও স্যারকে দিয়ে গাওয়াতে চাই, স্যারের গলা আর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে গানটি দারুণ মানিয়ে যাবে!'

১৮২১ পঠিত ... ২২:৩০, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top