ঈদের ছুটি আরও কিছুদিন বাড়িয়ে নিতে যেসব অজুহাত দিতে পারেন

২০৯ পঠিত ... ২১:৩৯, জুন ০৯, ২০১৯

এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়েছেন চাকরিজীবীরা। ৮-৯ দিনের এই ম্যারাথন ছুটি কাটিয়েও নিশ্চয়ই অফিস করতে আপনার মন চায় না! আরও দুই-চারদিন বাসায় শুয়ে বসে কাটিয়ে দিতে নিশ্চয়ই আপনার ইচ্ছা করছে? তাই শুধুমাত্র আপনার, আপনার জন্যই আরও কয়দিন ছুটি কাটানোর কিছু অজুহাত খুঁজে বের করেছে eআরকির ফাঁকিবাজ কর্মীদল। আগামী কিছুদিন বাড়িতে শুয়ে বসে আরামে কাটিয়ে অফিসের বসকে এসব অজুহাত দিয়ে দেখতেই পারেন।

১# কোরবানির ঈদ যেহেতু দাওয়াতের ঈদ এবং খাওয়া-দাওয়ার ঈদ, একটু বেশি খাওয়া-দাওয়া করে (তাও আবার একের পর এক গরুর মাংস!) হেড অফিস মানে পেটে গোলযোগ বাঁধানোও তো অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। যদি মিথ্যা না বলতে চান, ঘরে মাংস-টাংস, সেমাই-পায়েস যা আছে সব একবারে গিলে আজকেই পেটের ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেলুন! এরপর কোনোমতে অফিসে গিয়ে পেট ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে ব্যথার চোটে চেচামেচি করতে করতে আপনি যে আসলেই অসুস্থ, তা সবাইকে বুঝিয়ে দিন। তারপর আর কি, সোজা আরও এক সপ্তার ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসবেন...

২# আপনার যেহেতু যথেষ্টই বয়স হয়েছে তাতে ঈদে সালামির ঘরে কোন টাকা যোগ না হলেও নিশ্চয়ই বিয়োগ হয়েছে অনেক। পরিবারের ছোটদের ও অন্যান্য পরিচিত জুনিয়রদের সালামি অথবা তার বিকল্প হিসেবে ট্রিট দিতে দিতে আপনার মানিব্যাগ এখন শূন্য। তাই ভাড়ার অভাবে অফিসে আসতে পারেন নি, এমন কথা বলুন। এতে করে আপনার ঈদ বোনাসটাও যে যথেষ্ট না, সেটিও কৌশলে জানিয়ে দেয়া হবে।  

৩# বসকে জানান, আপনার প্রিয় জিনিস হলো কাজ। কোরবানির শিক্ষা নিয়ে আপনি আসলে আপনার প্রিয় জিনিসকে দু-তিনদিনের জন্য কোরবানি দিয়েছেন...

৪# জ্যোতিষ লিটন দেওয়ান বলেছিলেন ঈদের পর কর্মক্ষেত্রে গমন অশুভ হতে পারে। এই শনির দশা কাটাতে নির্দিষ্ট পাথর দেয়ার কথা বললেও ভোক্তা অধিকারের অভিযানের ভয়ে তারা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। তাই আপনিও পারেননি অফিস তথা কর্মক্ষেত্রে আসতে।  

৫# বসকে মনে করিয়ে দিন বিএনপির সুবিখ্যাত ‘ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন’এর কথা। তাকে বলুন বিএনপির আন্দোলনের ভয়েই আপনি অফিসে আসেন নি।

৬# ঈদের বন্ধ শেষ হলেও শহরের রাস্তা যে ফাঁকা রয়ে গেছে সেটি আপনি খেয়াল করেননি। তাই ফাঁকা রাস্তার কথা ভুলে ভোরে রওনা দিয়ে ভোরেই অফিসে পৌঁছে আবিষ্কার করেন যে অফিস বন্ধ। তাই অপেক্ষা না করে বাসায় ফিরে গেছেন।

৭# এবারের ঈদ ঘুমিয়ে কাটাতে গিয়ে রিপ ভ্যান উইঙ্কলের (কিংবা আহসান হাবীব পেয়ার) মতো ঘুমে থাকায় সময়ের হিসাব ছিলো না। তাই ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর আপনার ঘুম ভাঙে, এবং নাস্তা না করেই আপনি অফিসে চলে এসেছেন।

৮# আপনি পদার্থবিজ্ঞানের আশ্রয় নিতে পারেন। স্থিতি জড়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলুন, ঈদের বন্ধে শরীরে স্থিরাবস্থা চলে এসেছিল। আর যেহেতু স্থির বস্তু সবসময় স্থিরই থাকতে চায়, তাই বন্ধ শেষে দুনিয়ায় গতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হলেও আপনি স্থিতি জড়তার ফাঁদে আটকে গিয়ে নড়তে পারেননি। ফলে অফিসেও আসতে পারেননি এই কয়দিন।

২০৯ পঠিত ... ২১:৩৯, জুন ০৯, ২০১৯

Top