বিজিএমইএ ভবন ভাঙার ১০টি সুপার মেড ইজি পদ্ধতি

৪১৭৮ পঠিত ... ২০:০৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

২০১১ সালে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে ক্যান্সার’ আখ্যা দিয়ে হাইকোর্ট ৯০ দিনের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মিত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই ৯০ দিন অতিক্রম করে ৯০ মাসেরও বেশি সময় পার হলেও ভাঙা হয় নি এই খাল ভরাট করে নির্মিত ভবনটি। সম্প্রতি এই ভবন খালি করে উত্তরায় নবনির্মিত ভবনে বিজিএমইএর অফিস সরিয়ে নেয়া হলেও এই ভবন কীভাবে ভাঙা হবে, কে খরচ বহন করবে ইত্যাদি জটিলতায় আটকে গেছে এই ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া।

কিন্তু eআরকি থেমে থাকায় বিশ্বাস করে না। ভবন ভাঙার জন্য আরো ৯০ দিন (পড়ুন মাস) অপেক্ষা না করে কীভাবে সহজে ভবনটিকে ভেঙে ফেলা যায়, তা নিয়ে ভেবেছে eআরকি ভবন ধ্বস কমিটি।

 

১# বেলুন পদ্ধতি

ধ্বংসযজ্ঞে যদি বিশ্বাসী না হন, তবে কর্তৃপক্ষ নিতে পারে পিক্সারের সিনেমা ‘আপ’ এর পদ্ধতি। ভবনটির ছাদে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস বেলুন বেঁধে দিলে তা একসময় উড়ে চলে যেতে পারে আকাশে।

 

২# খুঁটি ধরে নাড়াচাড়া

২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের পর মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের কর্মীরা হরতালের সময় ভবনের পিলার ধরে নাড়াচাড়া করায় এই ভবন ধ্বসের ঘটনা ঘটে। তার কথা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে এই ভবন ভাঙা উপলক্ষে হাতিরঝিল এলাকায় একটি হরতাল ডাকা যেতে পারে। এই হরতালে বিএনপির কর্মীরা এসে বিজিএমইএর ভবনটির পিলার ধরে নাড়াচাড়া করতে পারেন। এতে করে কিছুদিনের মাথায় ধ্বসে পড়তে পারে এই ভবনটি।

 

৩# হোয়াইট ওয়াকারদের ওই এলাকায় পাঠানো

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি সিরিজে আমরা দেখতে পাই, নাইট কিং তার দলবল ও জম্বি ড্রাগন দিয়ে নর্থের সুরক্ষিত দেয়াল গুঁড়িয়ে চলে আসছে দক্ষিণের দিকে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, পথে যেকোন বাঁধা এলেই হোয়াইট ওয়াকার বাহিনী তা ভেঙে দিবে। তাই তাদের দক্ষিণের দিকে যাত্রাপথে যদি হাতিরঝিলে এই ভবনটিকে রাখা যায়, তাদের ড্রাগন শীতল আগুনের স্পর্শে গুঁড়িয়ে যাবে ভবনটি।

 

৪# জুয়েল আইচের শরণাপন্ন হওয়া

বাংলাদেশের বিখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা দেখেছি, তিনি নিমিষেই নানান জিনিস গায়েব করে ফেলতে পারেন। তাকে দিয়ে বিজিএমইএর ভবনটিকেও সহজেই হাপিস করে ফেলা যেতে পারে। সাধারণত এই গায়েব করা জিনিস তিনি ফেরত এনে দিলেও এ ক্ষেত্রে তাকে আর না ফেরানোর অনুরোধ করা যেতে পারে।

 

৫# ভুলে লস অ্যাঞ্জেলস ভেবে সুপারহিরোদের মারামারি

হলিউডের বিভিন্ন সিনেমা থেকে আমরা জানতে পারি, বেশিরভাগ এলিয়েন কিংবা ভিলেন টার্গেট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোন শহরকেই বেছে নেয়। কলম্বাস আমেরিকাকে ভারতীয় উপমহাদেশ ভাবতে পারলে এলিয়েনরাও বাংলাদেশকে ভাবতে পারে আমেরিকা। কারণ আকাশ থেকে ঢাকাকে লস অ্যাঞ্জেলস মনে হয়। সেই মারামারির মাঝে বিজিএমইএর ভবনটিও গুঁড়িয়ে যেতে পারে।

 

৬# গাণিতিক পদ্ধতি- 'ধরি, ভবনটি নেই'

গণিতের বিভিন্ন সমাধান করার সময় আমরা বিভিন্ন কিছু ধরে নেই। সেভাবে যদি আমরা গাণিতিক পদ্ধতিতে ধরে নেই ভবনটি নেই, তাহলেই সমস্যাটি সহজে সমাধান হয়ে যাবে।

 

৭# শামীম ওসমান পদ্ধতি

বিজিএমইএর এই ভবনটিকে নানা প্ররোচনা দিয়ে একদিনের জন্য নারায়নগঞ্জে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া যায়। সেখানে যাওয়ার পর নীরবে তাকে শীতলক্ষ্যার তলে গুম করে ফেললে কেউ কিছু মনে করবে না। এ ব্যাপারে একজন মনীষী বলেছেন, হোয়াট হ্যাপেনস ইন নারায়ণগঞ্জ, স্টেইস ইন নারায়ণগঞ্জ!

 

৮# আইয়ুব বাচ্চু পদ্ধতি

আইয়ুব বাচ্চুর বিখ্যাত এক গানে বলেছেন, ‘আর বেশি কাঁদালে, উড়াল দিবো আকাশে।’ এই সিস্টেমে নানাবিধ কটু কথা আর অপমান দিয়ে এই ভবনটিকে কাঁদানো যেতে পারে। সঠিক পরিমাণে কাঁদাতে পারলে সে আকাশে উড়াল দিবে। এতে প্রয়োজন পড়বে না কোন হাতুড়ি-ডিনামাইটের।

 

৯# প্রেমে পড়া পদ্ধতি

বিজিএমইএর ভবনটিকে আশেপাশের কোন কিউট ভবনের সাথে প্রেমে পড়তে প্রলুব্ধ করা যায়। এবং পরবর্তীতে তাদের প্রণয়কে পাশের আরেকটি জাস্ট ফ্রেন্ড ভবনের মাধ্যমে বানচাল করে দিতে হবে। এতে করে কষ্টে ও হতাশায় এই ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে।

 

১০# eআরকি পড়তে দেয়া

ভবনটাকে eআরকি ডটকম পড়তে দেয়া যেতে পারে। কথিত আছে যে, হাসার উদ্দেশ্যে eআরকিতে ঢুকে অনেকেই উল্টো বিষাদে ভেঙেচুরে পড়েন। ভবনটিও ঠিক একই পদ্ধতিতে ভেঙে পড়বে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস!

৪১৭৮ পঠিত ... ২০:০৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

Top