বাংলাদেশের বিশ্বকাপ টিমে আরও যে ৮জন খেলোয়াড়ের জায়গা পাওয়া উচিত ছিল

৩২৮০ পঠিত ... ১৭:১২, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

সদ্য ঘোষিত বিশ্বকাপ টিম নিয়ে অনলাইন অফলাইন সর্বত্র চলছে আলোচনা সমালোচনা। এর মধ্যে আমরা ভেবে দেখার চেষ্টা করেছি আমাদের দেশের আরো যেসব বিখ্যাত মানুষকে বিশ্বকাপ দলে রাখা যেত। চলুন দেখি, কে কোন পজিশনে সুযোগ পায়।

 

১# বড় ছেলে ওরফে অপূর্ব 

পরিবারের সব দায়িত্ব যিনি সামনে থেকে একা নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় বড় ছেলে। আর তাই বড় ছেলে ওরফে অপূর্বকে বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেনের দায়িত্বটাও দিয়ে দেয়া যায়। তিনি সামনে থেকে দলকে লিড যেমন দিতে পারবেন তেমনিভাবে জুনিয়র খেলোয়াড়দেরকেও সব ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন। নিজেই সবার আগে একা ৫০ ওভার ব্যাটিং আর বোলিং করবেন যত পরিশ্রমই হোক, তারপরও টিমের বাকিদেরকে কষ্ট করতে দিবেন না। তিনিই হতে পারবেন বাংলার ‘দ্য ডিপেন্ডেবল’। 

 

২# অনন্ত জলিল

ধরুন বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয়। এক ওভারে চল্লিশ রান লাগবে বা দুই বলে আটাশ। এরকম জেতা অসম্ভব পরিস্থিতিতে যাতে হাল ছেড়ে না দেয়া লাগে, সেজন্যই ওই টাইমে মাঠে নামিয়ে দেয়ার জন্য দলে টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে অন্তর্ভূক্তি করা জরুরি গরীবের টম ক্রুজ ইম্পসিবল ম্যানখ্যাত অনন্ত জলিলকে। সাত কিংবা আটে ব্যাট করতে নেমে পিঞ্চ হিটিং দিয়ে দলকে যেকোনো অবস্থা থেকেই টেনে তুলতে পারবেন তিনি। কারণ কে না জানে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তর কাজ।

 

৩# লেজে হুমু এরশাদ

যে মানুষটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এতো দক্ষতার সাথে নিজের কথা ঘুরিয়ে ফেলতে পারেন, বল হাতে পেলে সেটাকে না জানি কি ঘুরানোটাই ঘুরাবেন। তাইতো স্পিন বোলার হিসাবে দলে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদকে অভিষেক করানো এখন সময়ের দাবি। উইকেট শুকনা ভেজা যাই থাকুক, তার মুখের কথার মত তার হাত থেকে ছুঁড়ে দেওয়া বলও ঘুরে ঘুরে ব্যাটসম্যানকে করবে নাযেহাল। তবে সকালে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট করে বিকালে বিপক্ষ দলে যোগ দিয়ে দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এ বিষয়ে সাবধান থাকা গেলেই এরশাদ সাহেব হতে পারেন দলের একজন নির্ভরযোগ্য স্পিনার। এছাড়াও ডিগবাজি দিয়ে কঠিন বল ফিল্ডিং বা ক্যাচ করার ব্যাপারেও উনার পারদর্শীতা কাজে লাগতে পারে।

 

৪# শামীম ওসমান

খেলা যে মানুষটার রক্তে মিশে আছে, বিশ্বকাপ টিমে তাকে না নিলে বড়ই অবিচার হবে। যিনি কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছেড়ে দিবেন না বা হতাশ হয়ে খেলা বন্ধও করবেন না। সবসময় উচ্চস্বরে বলবেন, 'খেলা হবে।'
আক্রমনাত্মক ওপেনার হিসাবে তিনি ভালো খেলবেন, তার রাজনৈতিক খেলাধুলার ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করে এমনটাই ধারণা পাওয়া যায়।

 


৫# সোলায়মান সুখন

দলের কঠিন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার জন্য যেমন খেলোয়াড় দরকার তেমনি খেলোয়াড়রা যাতে হতাশ না হয় সেদিকে নজর দিয়ে তাদের উজ্জীবিত করার জন্য দলে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার রাখা খুবই জরুরী।যিনি এক বলে ছেচল্লিশ লাগবে এমন সময়েও খেলোয়াড়দের বলবেন, 'বল বা রানটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি জিতবো এই বিশ্বাসটা। তুমি যদি ভাবো তুমি জিতবে তাহলে আইসিসি আর আম্পায়াররা তুমি হেরে গেছ ভাবলেও বিশ্বাস করো কিচ্ছু যায় আসে না। তারা যদি তোমাকে খালি হাতে দেশেও পাঠিয়ে দেয়, তারপরও তুমি ভাববা বিশ্বকাপ তুমিই জিতেছ। তাহলে আজ হোক কাল হোক, তুমি লিফট ছাড়াই অনেক উপরে উঠবা৷ তারপর একদিন তোমার নামের পাশেও স্কোরবোর্ডে ছয় ডিজিটের রান লেখা থাকবে।'

 

৬# শাকিব খান

হাসপাতাল থেকে দৌড়ে এসে মাঠে নেমে ম্যাচ জেতানোর রেকর্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র যে মানুষটার তিনি শাকিব খান। আর শুধু কি হাসপাতাল থেকে সরাসরি মাঠে নেমে যাওয়া? পথের মাঝে মারামারি করে বাচিয়েছেন নায়িকা জয়া আহসানকে, নিজে বেঁচেছেন বাইক এক্সিডেন্ট থেকে। তার উপর মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে নেমে জিতিয়েছেন ম্যাচ। আর আজ আমরা এই মানুষটাকে ভুলে গিয়ে টিম ঘোষণা করে দিয়েছি তাকে ছাড়াই। তাই আজ একটাই দাবি, শাকিব খানকে বাংলাদেশ দলে দেখতে চাই।

 

৭# জেসিয়া

সালমান মুক্তাদিরের গেটে ইট ছুড়ে মারা দেখেই বোঝা গেছে ফাস্ট বোলার হিসাবে বেশ ভালো করতে পারবেন তিনি। এমনকি দূর্দান্ত থ্রোতে দুয়েকটা রান আউটও তার বাঁ হাতের ব্যাপার হতে পারে। কথায় আছে, মর্নিং শ্যোজ দ্যা ডে। জাস্টফ্রেন্ডের সাথে প্রাকটিস ম্যাচ দিয়ে তার খেলাধুলার হাতেখড়ি। সেখান থেকে যখন তখন এদিক ওদিক সুইং করেছেন ওপেনিং পেসার হিসাবে দলে তাকে নেয়া হলে নতুন বলে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করে দিতে পারতেন জেসিয়া। 

 

৮# হিরো আলম

মার ছক্কা মুভির হিরো, ইন্টারন্যাশনাল সেলিব্রেটি, গরীবের আইডল এমপিপ্রার্থী হিরো আলমকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না সিলেক্ট করা হলে সেটা খুবই অবিচার হবে। যিনি বগুড়ায় মারলে লাশ পড়ে মাগুরায়, তাহলে ভেবে দেখুন বল মেরে কোথায় পাঠাবেন। এমপি মাশরাফি খেলতে পারলে এমপিপ্রার্থী হিরো আলমের কি দোষ। তাছাড়া তিনি মার ছক্কা সিনেমা করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বিশ্বকাপের মত আসরে তিনি কতটা শক্তিশালী ট্রাম্পকার্ড না হলেও পুতিনকার্ড হতে পারেন।

৩২৮০ পঠিত ... ১৭:১২, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

Top