ক্রিকেটীয় আদর্শলিপি: জেনে নিন ক্রিকেটের এই শব্দগুলোর 'আসল' অর্থ

১১০১ পঠিত ... ১২:১৭, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

সামনেই আসছে ২০১৯ বিশ্বকাপ। ধারণা করা হয় এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনও আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা ক্রিকেট খেলাটা ঠিকমতো বুঝে উঠতেই পারছেন না। ক্রিকেট খেলা শেখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু কী এক আশ্চর্য কারণে খেলাটা মাথার ভেতরে কিছুতেই ঢুকছে না। তাই যারা এখনও ক্রিকেট বোঝেন না তাদেরকে একেবারে আদর্শলিপির মতো ক্রিকেট বুঝিয়ে দিতে ক্রিকেটের শব্দগুলোর অন্যরকম সংজ্ঞা লিখেছেন eআরকির ক্রিকেটবোদ্ধা দলের হেড মোঃ অনীক রশীদ। 

১# নো বল:

ক্রিকেট খেলতে হলে সাধারণত তিনটা বস্তুর প্রয়োজন। বস্তু তিনটা হচ্ছে ব্যাট বল এবং স্ট্যাম্প। এগুলোর একটা মিসটেক হয়ে গেলেই ক্রিকেট খেলা হবে না। অনেক সময় দেখা যায় খেলোয়াড়েরা ভুল করে মাঠের মধ্যে শুধু ব্যাট আর স্ট্যাম্প নিয়ে চলে আসেন। বল নিয়ে আসতে ভুলে যান।কিন্তু বল ছাড়া তো ক্রিকেট সম্ভব না। তাই ক্রিকেট মাঠের এরকম পরিস্থিতিকে বলা হয় নো বল।

২# ওয়াইড বল:

ওয়াইড বলের বাংলা হচ্ছে প্রশস্ত বল। অর্থাৎ বড় বল। কোনো ব্যাটসম্যান যখন বড় কোনো ইনিংস খেলে ফেলে তখন ধারাভাষ্যকারেরা বলে থাকেন যে, এই ব্যাটসম্যান এখন ক্রিকেট বলকে ফুটবলের মতো দেখছেন। আর সেই মুহুর্তটাকেই ইংরেজিতে বলে ওয়াইড বল।

৩্# বল টেস্পারিং:

এর মানে হচ্ছে বল গরম করা। আমরা যারা জাভা কিংবা এন্ড্রোয়েড মোবাইলে ক্রিকেট গেমস খেলি। সেখানে অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটসম্যান পর পর কয়েকটা ছক্কা মারলে বলটা আগুনের গোলার মতো হয়ে যায়। মূলত সেখান থেকেই ‘বল টেম্পারিং’ টার্মের উৎপত্তি। অর্থাৎ ব্যাটসম্যান যখন পর পর কয়েকটা ছক্কা মেরে বলটাকে গরম করে ফেলে তখন তাকে বলা হয় বল টেম্পারিং।

৪# ফ্রি হিট:

এটা আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য না। মূলত শীত প্রধান দেশে এই শব্দটা ব্যাবহার করা হয়। ইদানিং আয়ারল্যান্ড স্কটল্যান্ড সহ আরো অনেকগুলো শীতপ্রধান দেশ ক্রিকেট খেলা শুরু করেছে। কিন্তু সেসব দেশে তো আর চাইলেই ক্রিকেট খেলা যায় না।এতো ঠান্ডার মধ্যে ক্রিকেট খেলতে গেলে হঠাৎ করে বল এসে যদি নাকে মুখে কিংবা আরো কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গিয়ে লাগে তাহলে রীতিমতো মুমূর্ষু অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যাবে। তাই সেসব দেশে ক্রিকেট খেলা শুরুর আগে সরকারের পক্ষ থেকে ফ্রিতে মাঠ এবং খেলোয়াড়দের গরম করে নেওয়া হয়। আর এটাকেই বলা হয় ফ্রি হিট।

৫#  টেস্ট ক্রিকেট:

মনে আছে কি, ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট খেলতেন তখন ব্যাটিংয়ে নামার আগেই বোলারকে বলে দিতেন প্রথম বলটা হচ্ছে টেষ্ট বল। সেই বলে কোনো আউট নাই, রান নাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলাতেও আগে এরকম নিয়ম চালু ছিলো। তখন প্রথম বলটা থাকতো টেস্ট বল। সে বলে কোনো আউট ছিলো না। তখনকার ক্রিকেটকে বলা হতো টেস্ট ক্রিকেট। ২০১৫ বিশ্বকাপে একবার ভারতের রোহিত শর্মা বাংলাদেশের রুবেলের করা এরকম একটা টেস্ট বলে আউট হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সে ম্যাচে ভারত জিতে যায়।
অবশ্য সেই ম্যাচের পরেই টেস্ট ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

 

৬# ওয়ানডে ক্রিকেট:

এটা হচ্ছে একদিনের ক্রিকেট। একদিনে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সারাদিন জুড়ে এই খেলা হয়। যেদিন ওয়ানডে ক্রিকেট আয়োজন করা হয় সেদিন খুব ভোর বেলা খেলা শুরু হয় এবং শেষ হয় মাগরিবের আজানের পর। তাই এটাকে বলা হয় ওয়ানডে ক্রিকেট। মাগরিবের আজানের পর কোন দলের ব্যাটিং বাকি থাকলেও বোলিং দল সাধারণত বল করতে চান না।

৭্# ম্যাচ রেফারি:

দুই দলের খেলোয়াড়রা ছাড়াও আরো একজন ব্যাক্তি মাঠে প্রবেশ করেন। তিনি হচ্ছেন ম্যাচ রেফারি। তিনি বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে খেলা শুরু করেন এবং খেলা চলাকালীন তিনি পুরো মাঠ জুড়ে দৌড়োদৌড়ি করেন। আউট হলে বাঁশিতে ফুঁ দেন, চার, ছক্কা হলেও বাঁশিতে ফুঁ দেন। এক্ষেত্রে চার হলে চারবার এবং ছয় হলে ছয়বার তিনি বাঁশিতে ফুঁ দেন। নির্দিষ্ট সময় শেষে তিনি বাঁশি ফুঁকিয়ে খেলা শেষ করেন।

৮# কোচ:

যে গাড়িতে করে খেলোয়াড়েরা মাঠে খেলতে আসেন সেই গাড়িটাকে বলা হয় কোচ। এক্ষেত্রে দিনে খেলা হলে খেলোয়াড়েরা ডে কোচে আসেন এবং রাতে খেলা হলে তারা নাইট কোচে আসেন।

৯# হাইলাইটস:

ফ্লাডলাইটের আরেক নাম হচ্ছে হাইলাইটস। অনেক উঁচুতে এ লাইটগুলো লাগানো থাকে, আর এ লাইটের পাওয়ারও অনেক বেশি। এজন্যই লাইটগুলোকে একত্রে বলা হয় হাইলাইটস।

১০# ফুলটস:

টস শুরু করার আগে দু-দলের খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিক ভাবে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ফুলেল শুভেচ্ছার পরপরই টস হয় বলে একে বলা হয় ফুলটস।

১১# ক্রিকেট বোর্ড:

কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচ শুরুর আগে দলের কোচ এবং অধিনায়ক মিলে একটি ব্ল্যাক বোর্ডের মধ্যে কী সব আঁকিবুকি করে খেলোয়াড়দের গেম প্ল্যান বুঝিয়ে দেন। সেই ব্ল্যাকবোর্ডকে বলা হয় ক্রিকেট বোর্ড। ক্ষেত্রবিশেষে হোয়াইট বোর্ডেরও ব্যবহার করা হয়। পরে গেম প্ল্যান শেষে সেই বোর্ড মুছে দিবার জন্য ডাস্টার হাতে যারা দাড়িয়ে থাকেন তাদের বলা হয় বোর্ড কর্মকর্তা।

১১০১ পঠিত ... ১২:১৭, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

Top