মেয়েরা যেভাবে বুঝবেন, প্রোফাউন্ডলি অ্যাপে আসা অ্যানোনিমাস মেসেজ কে পাঠিয়েছে

২৫৯১ পঠিত ... ১৫:৪৪, এপ্রিল ০১, ২০১৯

প্রেরকের নামহীন চিঠি ব্যাপারটা সেই আদ্যিকাল থেকেই রোমান্টিক! অনলাইনের এই যুগে সেই উড়ো চিঠির জায়গাই যেন নিয়েছে ‘অ্যানোনিমাস মেসেজ’। সেই প্রাচীনকালে আস্ক এফএম যেই ‘অ্যানোনিমাস মেসেজ’ এর ট্রেন্ড চালু করেছিল, তা নাম বদলে সারাহাহ কিংবা স্টুলিশ নামে বারবার যেন ফিরে আসে ফেসবুকারদের মাঝে। সাম্প্রতিক সময়ে তা ফিরে এসেছে ‘প্রোফাউন্ডলি’ নামে। অ্যানোনিমাসলি বা নাম গোপন করে মেসেজ পাঠানোর সুযোগ দেয়া এই প্রোফাউন্ডলি অ্যাপের মাধ্যমে অনেকেই পাচ্ছেন (পেতে চাচ্ছেনও বটে!) নানান উড়ো চিঠি। কে এবং কারা পাঠিয়েছে সেসব মেসেজ, তা জানার আগ্রহ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এ ধরনের অ্যাপে সবচেয়ে বিচিত্র অ্যানোনিমাস মেসেজ পেয়ে থাকে মেয়েরা। মেয়েদের প্রোফাউন্ডলিতে (ইতোপূর্বে সারাহাহ এবং স্টুলিশেও) দেখা যায় নানান রকমের প্রোপোজ, মনের কথা, রাগ, ক্ষোভ, কষ্ট এবং না পাওয়ার বেদনা বিজড়িত নানান অ্যানোনিমাস মেসেজ। মেয়েরা, একটু বুদ্ধি খাটালেই কিন্তু আপনি খুঁজে বের করে ফেলতে পারবেন, এইসব অ্যানোনিমাস মেসেজ কে বা কারা পাঠিয়েছে। চলুন, মেয়েদের প্রোফাউন্ডলিতে আসা কিছু কমন অ্যানোনিমাস মেসেজের ‘মেসেজদাতা’ ডিটেক্ট করার কিছু টেকনিক শিখে ফেলা যাক।

 

মেসেজ ১: সারাদিন ছবি আপ্লোড দিতে থাকো আর ছেলেরা পাম দেয়। এতো পামে কবে ফুলে যাবা৷ যতটা পাম দেয় তুমি তার ধারেকাছেও সুন্দরী না। সো নিজেরে বিশাল কিছু ভাবা বাদ দাও৷ আর এতো ছবি দিয়ে মানুষরে বিরক্ত করা বন্ধ করো৷ আমরা ফেসবুকে তোমার চেহারা দেখতে আসিনাই।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: নিশ্চিত থাকুন, এই মেসেজটি আপনার লিস্টের এমন কোনো মেয়ে দিয়েছে যে আপনার প্রতি জেলাস। তাকে কেউ পাত্তা দেয় না, কিন্তু আপনাকে এতো মানুষ পাত্তা দিচ্ছে। এতে সে প্রতিনিয়ত হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে। তার রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। অনেক চেষ্টা করেও আপনার থেকে বেটার হতে পারছে না। সুতরাং শেষ চেষ্টা হিসাবে রাগ ঝাড়ছে অ্যানোনিমাস মেসেজে।

 

মেসেজ ২: খা*কি মা* তুই একটা। তোরে *দার টাইম নাই। তোর মতো প্রস্টিটিউট অনেক দেখছি। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। শরীর দেখায়ে কোনোদিন ভালো ছেলে পাবি না।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: আপনার ফিল্টার্ড মেসেজ আর মেসেজ রিকোয়েস্ট চেক করুন। দেখুন অনেক ছেলে হাজারবার হাই, হ্যালো, কেমন আছেন, কী করেন, হাই বিউটিফুল এসব মেসেজ দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়েও আপনার একটা রিপ্লাই পায়নি। আপনার এক ফোঁটা পাত্তা না পেয়ে রেগেমেগে গালি দিয়েছে এই ছেলেগুলোর মধ্যেই কেউ একজন। বাস্তব জীবনে এরা নারীসঙ্গ না পেয়ে অত্যন্ত হতাশ। তাই অ্যানোনিমাস মেসেজে আসল চেহারা দেখিয়েছে।

 

মেসেজ ৩: অনেক ভালোবাসি তোমায়। কখনো বলতে পারিনি, জানি এ জীবনে আর বলাও হবে না। দূর থেকে শুধু ভালোবেসে যাবো। ভালো থেকো।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: এইটা আপনার কোনো হারামি বেস্ট ফ্রেন্ডের কাজ। আপনার সাথে মজা নিচ্ছে। আপনি এটা শেয়ার দিছেন, সে মনে মনে আরো বেশি মজা পেয়ে হাসতেছে। আপনারে বোকা বানাইলো।

 

মেসেজ-৪: আপনার চোখগুলো এতো সুন্দর কেন? আপনার হাসি যতবার দেখি শুধু মুগ্ধ হই। একটা মানুষের চুল এতো সুন্দর কিভাবে হতে পারে? আপনার ঠোটের প্রেমে পড়েছি।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: হ্যাঁ, আপনার লিস্টেও কেউ আছে ছ্যাচড়া। যাকে সিরিয়াল ফ্লার্টার বলে। যার কাজই হলো মেয়েদেরকে মেসেজ দিয়ে ফ্লার্ট করা। বিশ্বাস করেন এই একই টাইপের মেসেজ সে অন্তত আরো দুই ডজন মেয়েকে দিয়েছে৷ ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা সব মেয়েকেও দিয়ে থাকতে পারে। সুতরাং, এইসব প্রশংসা শুনে আহ্লাদে আট ষোল চব্বিশ যেকোনো সংখ্যক খানা হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

মেসেজ ৫: আপনি কি ভার্জিন? কয়জনের সাথে সেক্স করেন? আপনার কয়টা বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড? কেউ আপনাকে চুমু খাইতে চাইলে রাজি হবেন?

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: এই মানুষটার সাথে আপনার রিসেন্টলি কথাবার্তা হচ্ছে। সে আপাতত ভদ্রতার মুখোশ পরে আপনাকে পটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু উপরের প্রশ্নগুলো তার অসুস্থ মনে ঘুরাফেরা করে। তাই অ্যানোনিমাস মেসেজ দিয়েছে। পাত্তা দেবেন না বেশি। বেশি পাত্তা দিলে একসময় এসব কথা মেসেঞ্জারেই বলবে।

 

মেসেজ ৬: আপনার বয়ফ্রেন্ড হতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগবে? আপনার কেমন ছেলে পছন্দ? আপনার সাথে প্রেম করতে চাইলে কী করতে হবে?

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: কোনো এক অতি বুদ্ধিমান ছেলে এটা দিয়েছে, যে সব মেয়েকেই একই মেসেজ দিচ্ছে। তারপর মিলিয়ে দেখছে নিজের মধ্যে কার বয়ফ্রেন্ড হওয়ার যোগ্যতা আছে। যারটার সাথে মিলবে, তার সাথেই গিয়ে লাইন মারবে।

 

মেসেজ ৭: ফেসবুকে এইসব করে বেড়াও বাসায় জানে? তোমার কয়টা ছেলে লাগে? একটু ভদ্র হও। তোমার মত থার্ডক্লাস মেয়ে আমি দেখিনাই। এখনো টাইম আছে, ভালো হইতে পয়সা লাগে না।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: এটা আপনাকে সেই সিনিয়র বড় ভাই দিয়েছে যিনি ইতোপূর্বে আপনাকে প্রপোজ করে এক বা একাধিকবার রিজেক্ট হয়েছেন। এখন নাম পরিচয় গোপন রেখে মনের জমানো ক্ষোভ ঝাড়ছেন। এদের কথা পাত্তা দিবেন না। যেমন আছেন তেমনই থাকুন।

 

বোনাস: ছেলেরা যেভাবে বুঝবেন অ্যানোনিমাস মেসেজ কে পাঠিয়েছে...

 

মেসেজ: আপনাকে যতবার দেখি প্রেমে পড়ে যাই। আপনার গার্লফ্রেন্ড না থাকলে বলুন, প্রপোজ করব।

সম্ভাব্য মেসেজদাতা: আপনার ট্রিটখোর কোনো ফ্রেন্ড। এই মেসেজ আপনি শেয়ার দেয়া মাত্রই সে ইনবক্স করবে, 'মাম্মা, তলে তলে এইসব। ট্রিট চাই।'

২৫৯১ পঠিত ... ১৫:৪৪, এপ্রিল ০১, ২০১৯

Top