যে ১০টি সম্ভাব্য কারণে বুয়েটের সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের একটি করে 'বাটি' দেয়া হয়েছে

১৪৩৬৮ পঠিত ... ১৯:১৯, মার্চ ১৮, ২০১৯

আগামী ১৯ মার্চ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটের) ১১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১১ সালে ১০ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর এই উপলক্ষে বুয়েটিয়ানদের মাঝে এক ধরনের উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরে এই সমাবর্তন পেয়ে এর সাথে আকাঙ্ক্ষা আর প্রাপ্তির হিসাব মিলাতে পারছেন না অনেকেই। তবে বুয়েটের নিজস্ব গাউনের সংকট, হ্যাটহীনতা, অতিথি না নিতে পারার ক্ষোভ ছাপিয়ে যেই জিনিসটি সমাবর্তন গ্রহণকারীদের মধ্যে আলোচনার মধ্যমনি হয়ে উঠেছে, তা হলো কনভোকেশনের প্যাকেজের সাথে পাওয়া ছোট আকৃতির একটি বাটি। আনুষঙ্গিক কাগজপত্র, মগ, চাবির রিংয়ের সাথে দেয়া হয়েছে এই বাটিসদৃশ্য তৈজসটি।

কিন্তু এই বাটিটার আসল ব্যবহার কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক বুয়েটিয়ান। কারণ এর গঠন বাটির মতো হলেও হাতের তালুর চেয়ে ছোট আকৃতির এই জিনিসটি দিয়ে আর যাই হোক, বাটির কোন ফাংশন কাজ করবে না। কয়েকটি সূত্র এটিকে পিন হোল্ডার বলার চেষ্টা করলেও বাকিরা এই যুক্তি ড্রোনের মতো উড়িয়ে দিয়েছেন। তাই এই বাটি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন বুয়েটিয়ানের মতামত ও eআরকির নিজস্ব গবেষণা বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাবা হয়েছে এই কনভোকেশনের বাটির নানা সম্ভাব্য ব্যবহার।

 

১# গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের চাকরির বাজার দেখে হতাশ হয়ে পড়লে বুয়েটিয়ানরা নামতে পারেন বাটি চালানের ব্যবসায়। বুয়েট ক্যাম্পাসের পাশেই চানখাঁরপুলে তারা এই কিউট বাটিগুলো দিয়ে অনায়াসে বাটি চালান দিয়ে নানা তথ্য বের করে আনতে পারেন।

 

২# বুয়েটে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী ভালো ছাত্র/ছাত্রী ট্যাগ নিয়ে শুরু করলেও শেষপর্যন্ত সবাই তা ধরে রাখতে পারেন না। অনেকের সিজিপিয়ে চাঁদের মতো উজ্জ্বল হলেও অনেকের সিজি আবার চাঁদের কলঙ্কের মতোই তমসাচ্ছন্ন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ভালো সিজির অভাবে খোঁটা শুনতে হয়, এমনকি ভালো সিজির শিক্ষার্থীদের পা ধোয়া পানি খেতেও বলা হয়। সত্যিই যদি কেউ মনে করেন এই পা ধোয়া পানির স্টক গ্রহন করলে সিজিপিএ উর্ধ্বমূখী হতে পারে, তবে তারা এই বাটি দিয়ে ছোট ছোট পানির শট গ্রহন করতে পারেন।

৩# দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বুয়েট। সে হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের  গ্রাজুয়েটদের দায়িত্ব হচ্ছে বুয়েট থেকে পাওয়া শিক্ষার আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে আগামীর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। আর শিক্ষার প্রদীপের রূপক হিসেবেই এই ছোট বাটিটি দেয়া হয়েছে। এতেই তেল ঢেলে সলতে জ্বালিয়ে তারা প্রতীকী দীপশিখা ধরাতে পারবেন।

 

৪# পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই বাটিটি বিতরণ করা হয়েছে, যাতে করে পানের পিক, বাদামের খোসা, হাত পায়ের কাটা নখ, মাছের কাটা (মাগুর জাতীয় ছোটখাট মাছের) ইত্যাদি যেখানে সেখানে না ফেলে এই বাটিতে ফেলতে পারেন।

৫# বুয়েটের পার্শ্ববর্তী ঢাবি ক্যাম্পাসে তাদের ভিসি সম্প্রতি এক ভাষণে বলেন, সেখানে ১০ টাকায় চা-চপ-শিঙারা পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে বুয়েটিয়ানরা টিএসসিতে গেলে সেই দশ টাকার প্যাকেজ খেতে চাইলে যেন কাপের অভাবে না পরে, সে কারণে তাদের দেয়া হয়েছে এই বাটিসদৃশ কাপটি। আর যদি কাপ পাওয়া যায়, এই বাটি চপ বা সমুচা শিঙারা রাখার পিরিচের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া সস মাখিয়ে চপ সমুচা খেতেও এ বাটি কাজে আসবে।

 

৬# সুস্বাস্থ্য অর্জনের অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে একেবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প করে বারবার খাওয়া। তাই বুয়েট গ্রাজুয়েটদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত কর্তৃপক্ষ এই ছোট বাটি দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা পরিমিত খাদ্যগ্রহন করে তাদের ফিগার ও সুস্থ্যতা ধরে রাখতে পারবেন, এবং দেশ ও দশের জন্য আরো দৃঢ়ভাবে কাজ করে যেতে পারবেন।

৭# সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেক বুয়েটিয়ান ইতিমধ্যে এক বা একাধিক সন্তানের জনক/জননী হয়ে গেছেন। তারা তাদের ছোট্ট সোনামনিদের এই বাটিতে করে খিচুড়ি বা নরম সবজি জাতীয় বেবি ফুড খাওয়াতে পারেন। তাদের ছোট্ট ক্ষিদা মেটাতে এই ছোট্ট বাটিতে করে নেয়া খাবার যথেষ্ট হবে বলে প্রশাসন ধারণা করেছেন।

৮# বিয়ের বাজারে বুয়েটিয়ান পাত্র-পাত্রীর বিশেষ কদর আছে। এই সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে তারা সুযোগ্য পাত্র বা পাত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। সেই স্বীকৃতির প্রতীকস্বরূপ তাদের এই বাটি বা পাত্র দেয়া হয়েছে।

৯# সামনেই আসছে বর্ষাকাল। আর বর্ষা মানেই মিরপুরে নদীতে রূপান্তর। এমন সময়ে মিরপুর পাড়ি দিতে প্রয়োজন পড়ে নৌকার। কোন হতভাগ্য বুয়েটিয়ানকে যদি মিরপুর যেতে হয়, এবং সেই সময় নৌকাভ্রমণ করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করে যে, নৌকায় অতিরিক্ত পানি উঠে গেছে, তারা এই বাটি দিয়ে অতিরিক্ত পানি সেচে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

১০# এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীরা গ্র্যাজুয়েশন গাউন পেলেও গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপটি পাচ্ছেন না। কেউ কেউ সময়মতো নিজ দায়িত্বে কিনে নিতে পারলেও অনেকেই শেষ মূহুর্তে এসে হন্যে হয়ে গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ খুঁজছেন। হতে পারে সবাই কনভোকেশনের প্যাকেজে সিরামিকের যে ছোট গোলাকার বাটিসদৃশ জিনিসটিকে বাটি বলে ভুল করছে, তা আসলে একটি নতুন ঘরানার গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ। গতানুগতিক স্টাইলের বাইরে যেতেই এমন ক্যাপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই একে বাটি বলে ভুল না করে মাথায় চেপে বুয়েটিয়ানরা কনভোকেশনে যেতে পারেন।

১৪৩৬৮ পঠিত ... ১৯:১৯, মার্চ ১৮, ২০১৯

Top