বাসা থেকে বিয়ে দিচ্ছে না? ছেলেরা জেনে নিন বাবা-মাকে বিয়ে করানোর ইঙ্গিত দেয়ার ১০টি উপায়

১০৫৩২ পঠিত ... ১৭:০৭, মার্চ ০২, ২০১৯

আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার জন্য অধিকাংশ বাবা-মায়েরা যেমন তড়িঘড়ি করেন, ছেলেদের বিয়ের ব্যাপারে যেন এর একেবারে ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে অবস্থান তাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই, বিশেষ করে শীতকাল এলে, প্রচুর সিঙ্গেল (অবিবাহিত অর্থে) তরুণকে দেখা যায় বিয়ে না হওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে। অনেকের ভাষ্যে, কেবলমাত্র বাসার লোকজনের অবহেলার কারণেই বিয়েটা আটকে রয়েছে।

eআরকির কাছে ছেলে-মেয়ে সবাই সমান। তাই কিছুদিন আগে মেয়েদের জন্য eআরকি ভেবেছিল যে ১০টি উপায়ে বিয়ে ভেঙে দেওয়া যায়, তার উপায়! আর তারই ধারাবাহিকতায় এবার eআরকি ছেলেদের জন্য ভেবেছে বাবা-মাকে নিজের বিয়ের ইচ্ছাটা বুঝানোর ১০টি অব্যর্থ উপায়।

১# বাথরুমে বেশি বেশি সময় কাটান, বিশেষ করে গোসলের সময়। বাথরুম থকে বের হয়ে অভিযোগের সুরে জানিয়ে দিন ‘হ্যান্ডওয়াশ নাই কেন?’, ‘হ্যান্ডওয়াশ এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয় কেন?’ এসব কথা। সবসময় যে ব্যবহার করেই হ্যান্ডওয়াশ শেষ করতে হবে এমন না, এমনি এমনি ফেলে দিতে পারেন। অন্যথায় শরীরের উপর দিয়ে একটু বেশি ধকল চলে যেতে পারে। হ্যান্ডওয়াশ গুমের এই ব্যাপারটি বাসার বিচক্ষণ মানুষেরা খুব ভালো করেই ধরতে পারবেন। তারা বুঝতে পারবেন যে, বিয়েই হতে পারে এর একটি প্রয়োজনীয় সমাধান।

২# নিজেকে ‘কোলবালিশ অবসেসিভ ডিজঅর্ডার’ রোগে আক্রান্ত করুন, এবং এই পরিচয়টি সবাইকে বুঝিয়ে দিন। কোলবালিশ নিয়ে প্রচুর পিডিএ (পাবলিক ডিসপ্লে অফ অ্যাফেকশন) করুন। বাসায় যতক্ষণ থাকবেন, কোলবালিশ নিয়ে শুয়ে বসে থাকুন। মাঝেমধ্যেই কোলবালিশের কভার বদলে দিতে বলুন। এ থেকে মুরুব্বিরা আবিষ্কার করে নিবেন অন্য এক নিগূঢ় বার্তা।

 

৩# বৃষ্টিতে ভিজে বা যেকোনো উপায়ে জ্বর বাধান। এরপর জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকার ভান করে সচেতনভাবেই চেনাজানা সব মেয়ের নাম বলতে থাকুন। এতোগুলো মেয়ের সাথে সম্পর্কে আছেন এমনটা ভেবে বাবা-মা চিন্তায় পড়ে যাবেন। তারপর আশা করা যায়, তারাই একজনকে খুঁজে বের করবেন। অবশ্য যদি তারা সচেতন হন তাহলে সাপোজিটরের মাধ্যমে চিকিৎসার মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

 

৪# মাঝরাতে যখন তখন ‘ভূত! ভূত!’ বলে চিৎকার করতে করতে নিজ রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে যান। আপনার চিৎকারে সবাই ছুটে আসলে, তাদের বলুন যে একলা থাকতে আপনার খুব ভয় হয়। আপনার একাকীত্ব কাটানোর উপায় সম্পর্কে সচেতন হয়ে পড়তে পারেন স্বজনের। অবশ্য কুসংস্কারাচ্ছন্ন মুরুব্বিরা থাকলে কবিরাজি ঝাড়ফুঁকের সম্মুখীন হতে পারেন... এই রিস্ক একান্তই আপনার! 

৫# লাইটার, ফয়েল পেপার, বোতলের ক্যাপ ইত্যাদি নানান ধরনের বস্তু ঘরের এদিক সেদিক প্রকাশ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখুন। নিঃসঙ্গতায় ছেলে মাদকের কড়াল গ্রাসে চলে যাচ্ছে, এই ভয়ে বাবা-মা নিজে থেকেই আপনার বিয়ে নিয়ে ভাবনা শুরু করে দিবেন। তবে এটি খুব ঝুঁকির কাজ। একটু এদিক সেদিক হলে, আপনার গন্তব্য শ্বশুরবাড়ির থেকে বদলে হয়ে যেতে পারে রিহ্যাবে।

 

৬# প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ‘একা’ এই দুই অক্ষরের শব্দটি বলতে থাকুন। ‘পৃথিবীতে সবাই একা!’, ‘বড় একা আমি এই জীবনে!’, ‘সাতশ কোটি মানুষের মাঝে থেকেও আমরা সবাই একা!’ এ ধরনের ফিলোসফিকাল বাক্য সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে নিজ মনে আওড়ানোর ভান করবেন। এছাড়াও একাকিত্ব বিষয়ক গান শুনবেন স্পিকারে। ঘরে ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ কিংবা ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিচ্যুড’ বইটির কপি রাখবেন। অধিকাংশ সময়ই এমন নামের বইগুলো নিয়ে পড়ে থাকবেন। বাকিটা মুরুব্বিরা বুঝে নিবেন।

 

৭# আপনার রুমে যদি ডাবল খাট থেকে থাকে তাহলে সেটি সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব করুন। খাবার টেবিলে সবার সাথে বসে খাওয়ার সময় হুট করে বলে বসবেন ‘অত বড় ডাবল বেডের বিছানা দিয়ে কী করব? আমি একলাই ঘুমাই। ঘরে শুধুশুধি জায়গা নষ্ট। সিঙ্গেল জাজিম বিছায়া আমি ফ্লোরিং করতে পারব। সমস্যা নাই!’ এই কথার সাথে একটা হালকা দীর্ঘশ্বাস যেন থাকে। এতে করে খাট ফেলে না দেওয়ার জন্য হলেও আপনাকে বিয়ে দিতে পারে।

 

৮# শীতকালকে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য পুরোদমে ব্যবহার করুন। সিঙ্গেল লেপ, কম্বল ব্যবহার করতে শুরু করুন। ডাবল সাইজের লেপ-কম্বল থাকলে তা দান করে দিতে পারেন। একলা শীত কাটানো দুষ্কর এটি প্রমাণ করতে শত লেপ-কম্বল থাকার পরও প্রতি রাতেই শীতে কাহিল হয়ে পড়ুন। এতে করে বাবা-মা বুঝতে পারবেন, আপনার সময় এসেছে অন্যরকম উষ্ণতা পাবার।

 

৯# যেসব বন্ধুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তাদের কথা বাসায় ঘটা করে প্রকাশ করুন। এমনকি যাদের আপনি বন্ধু ভাবেন না তাদের বিয়ের খবরও ঘটা করে মা-বাবার সামনে বলুন। সেইসব বন্ধুদের মা-বাবার বিচক্ষণতার প্রশংসা করতেও ভুলবেন না যেন। এই বিষয়টি আপনার বাবা-মাকে খানিকটা জেলাস করতে পারে। ফলে বেজে উঠতে পারে আপনার বিয়ে বাজনা।

 

১০#  এগুলোর কোনটাই কাজ না করলে আপনি ঘটা করে ঘোষণা দিন যে বিয়ে করবেন না। তখন আপনার বাসার সবার টনক নড়বে, এবং বিয়ে দিতে উঠে-পড়ে লাগবে। দেখবেন এতদিন বিয়ে করানোর কথা বুঝাতে পারছিলেন না, আর এখন ধরে-বেন্ধে সবাই বিয়ে দিতে চায়...

১০৫৩২ পঠিত ... ১৭:০৭, মার্চ ০২, ২০১৯

Top