অবিবাহিতদের জন্য আলাদা ফেসবুক চালু করার জন্য জাকারবার্গের নিকট আবেদনপত্র

২৩৫০ পঠিত ... ২০:৪৭, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

বিবাহ মৌসুম ২০১৮-১৯
মার্ক জাকারবার্গ
সিইও, ফেসবুক।

বিষয়: অবিবাহিতদের জন্য পৃথক ফেসবুক চালু প্রসঙ্গে।

জনাব,
যথাবিহিত সম্মানপূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার আবিষ্কৃত সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকের একজন এক্টিভ ইউজার এবং লাইকার। আপনার নিকট জরুরি একটি আর্জি পেশ করতে চাই। রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস মারফত আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে, আমি এখনো অবিবাহিত তথা সিংগেল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মহাসমারোহে চলিতেছে বিবাহের মৌসুম। ফেসবুক যেহেতু ফেসবুকারদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি, সেহেতু ফেসবুকের হোমপেজও বিবাহের ছবি ও ম্যারিড রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে সয়লাব হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমাদের উত্তরবঙ্গের ছোটন কাকুর একটি উক্তি উল্লেখযোগ্য- 'বিয়ের ছবির সো*নে ফেসবুকে ঢোকা যাচ্ছে না'।

মানে ভাই কষ্টের কথা কি আর বলবো, নিজের কথায় নিজেরই স্যাড রিঅ্যাক্ট দিতে মনে চায়। সকালে ঢুকে দেখি বান্ধবীর বিয়ে। দুপুরে দেখি বান্ধবীর ননদের বিয়ে। বিকেলে দেখি বান্ধবীর সাবেক ক্রাশের বিয়ে। সন্ধ্যায় দেখি পাশের বাড়ির আন্টি থুক্কু আন্টির প্রাইমারি স্কুলের বন্ধুর ছেলের মামাতো ভাইয়ের বিয়ে। রাতে গ্রামের বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো বোনের ফুফাতো বোনের বিয়ে। সাবেক প্রেমিকা, সাবেক ক্রাশ, বর্তমান ক্রাশ উনাদের বিয়ের কথা তো বাদই দিলাম! উফফ! বিয়ের ছবি দেখতে দেখতে ব্রেন, চোখ ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ আর কাজ করছে না জাকারবার্গ ভাই। ফেসবুকে ঢুকলেই মনে হয়, অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে গুগল প্লাসে চলে যাই। অথচ আমি প্রচন্ড লাইফলেস হওয়ায় ফেসবুক ছাড়তে একেবারেই অপারগ।

জাকারবার্গ ভাই, আমরা আর পারছি না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। ফেসবুকে ঢুকলেই মনে হয় কোন বিয়ে-বাড়িতে চলে এসেছি। ওয়ালজুড়ে শুধু বিয়ে আর বিয়ে। এ যেন, আমরা সবাই বিয়ে করি আমাদের এই বিয়ের রাজত্বে। প্রতিবছর শীতকালে এই এক যন্ত্রণায় আমরা টিকতে পারছি না। আমাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বিবাহিতদের বিয়ের ছবিতে লাইক এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে লাভ দিতে দিতে আজ আঙুলে পচন ধরেছে। এই বিয়ে কি আর যেনতেন বিয়ে। গায়ে হলুদ, পিঠে পিঁয়াজ, মাথায় মরিচ, প্রি-ওয়েডিং, পোস্ট-ওয়েডিং, অমুক রাত, তমুক সন্ধ্যা, আকদ, ওয়ালিমা, ছবির কোন শেষ নাই। চিনচিনে ব্যথায় ভরে যায় আমাদের এই হৃদয়!

শুধু বিয়ে পর্যন্ত হলে নাহয় তাও মেনে নেয়া যেত। বিয়ের পর আসে হানিমুন। এরপরে এই জুটিরা ভুটান, নেপাল, সুইজারল্যান্ড এইসব দেশে হানিমুনে যাওয়ার ছবিও দিচ্ছে। একই সাথে হানি ও মানি না থাকায় অবিবাহিত তরুণ-তরুণী সমাজ আজ হতাশায় পর্যবসিত। অবিবাহিত সম্প্রদায়কে হতাশার বেড়াজালে আটকে ফেলার এ এক বিরাট চক্রান্ত।

ওদিকে হয়েছে আরেক কান্ড। গত সপ্তাহে আমার এক বন্ধুর পরীক্ষা ছিল। পরেরদিনই স্যারের রুমে জরুরি তলব। ছেলেটা নাকি শুধু তিনটি বাক্য লিখে খাতা ভরিয়ে ফেলেছে- 'অভিনন্দন। হ্যাপি কাপল লাইফ। আপনাদের চলার পথ সুন্দর হোক।' তার কী দোষ বলেন? শীতকাল এসেছে পর্যন্ত ফেসবুকে এই তিনটি বাক্যই লিখে যাচ্ছে।

জাকারবার্গ ভাই, যেই সমাজে বিবাহ এখন ট্রেন্ড, সেখানে আমরা অবিবাহিতরা এখন কোনঠাসা। তাই আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। তারা থাকুক তাদের বিয়ের ছবি নিয়ে, আমরা থাকি আমাদের 'অবিবাহিত' ট্যাগ নিয়ে। যেই সমাজে অবিবাহিতদের কোনো জায়গা নেই, সেখানে আমরা থাকতে চাই না। এই সমাজ যদি আমাদের না মেনে নেয়, তাহলে আমরা চাই পৃথক সমাজ।

অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, আমাদের কোমলমতি অবিবাহিত সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ফেসবুক চালু করতে আপনার মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক
ব্যাচেলর আবুল
নিখিল বাংলা অবিবাহিত সম্প্রদায়ের পক্ষে

২৩৫০ পঠিত ... ২০:৪৭, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

Top